বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বাধা ইউনূসের ‘গোলামির চুক্তি’

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। দেড় দশকে শেখ হাসিনার সরকার যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে, আগামী ৫০ বছরেও এটা করতে পারা সম্ভব কি না— এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেছি আমরা। এর কারণ মূলত ইউনূস-রেজিমের ভয়াবহ অপশাসন, লুটপাট, দুর্নীতি এবং দেশের ভিত্তি ধ্বংস করে দেওয়ার ভয়াবহ নীলনকশা।

ক্ষমতা ছাড়ার আগ-মুহূর্তে ইউনূস আমেরিকার সঙ্গে যে ‘গোলামির চুক্তি’ করেছে, তার খেসারত দিয়ে যেতে হবে আগামীর বাংলাদেশকে। বর্তমান তারেক রহমানের সরকারসহ ভবিষ্যতের সরকারগুলো যতবার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে, ততবারই প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে ইউনূসের গোলামির চুক্তি।

বাংলাদেশ আজ এমনই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে আমদানি করতে আমেরিকার অনুমতি চাওয়া লাগে। কিছুদিন আগেও এটা আমরা দেখেছি। ইউনূস-রেজিমের দুর্বিষহ অপশাসন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। তারেক রহমানের সরকারের সাহস হচ্ছে না গোলামির চুক্তি অগ্রাহ্য করতে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধু রাশিয়া। সেই রাশিয়ার সহায়তা আওয়ামী লীগ যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে, তার সুফল আজ বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে। আজ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র যে অবদান রাখবে, তাতে আমাদের বিদ্যুৎ আমদানি-নির্ভরতা অনেকাংশে লাঘব হবে।

‘মুজিব শতবর্ষে’ বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হয়েছে। রূপপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্র সঠিকভাবে পরিচালনা এবং দুই ইউনিটের পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গেলে ২০২৭ সাল নাগদ ওখান থেকে বাংলাদেশ পাবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এরআগে আজ যে এক ইউনিট চালু হচ্ছে তাতে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র যখন নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শুরু কয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার, তখন তৎকালের বিরোধীদল বিএনপি-সহ ডান-বাম, কথিত পরিবেশবাদীরা এর বিরোধিতা করেছিল। এই বিরোধিতাগুলো ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায়’ অগ্রাহ্য করার কারণেই আজ বাংলাদেশ ঐতিহাসিক দিনের দ্বারপ্রান্তে।

উন্নয়ন এমনই যা অস্বীকারের উপায় নেই। এখানে যত ইচ্ছে ট্যাগ দেন, সত্য তো সত্যই; হাজারবার অস্বীকার করলেও সেটা সত্য থেকেই যাবে!
এখন আমরা বিদ্যুতের জন্যে ভারতের আদানি গ্রুপের ওপর নির্ভরশীল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শতভাগ উৎপাদন করতে পারলে বিদ্যুৎ আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশ তখন পৌঁছাবে রপ্তানি-সক্ষমতায়!

আমাদের এ ঐতিহাসিক যাত্রা হয় এভাবে- ২০১০ এ জাতীয় সংসদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত, ২০১২ সালে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অ্যাক্ট পাস শেষে ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে আজ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সেই ঐতিহাসিক যাত্রার আরও একটা মাইলফলক।

Tags :

Kabir Aahmed

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025