১০টি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটির কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ৫টি মামলায় আইভীকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতি রুল জারি করেছিলেন। সেই রুলগুলো নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
রবিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ফলে গত এক বছর ধরে কারাগারে থাকা আইভীর মুক্তিতে কোনো বাধা রইলো না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
এদিন আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, ১০ মামলায় আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
সূত্রমতে, গত বছরের ৯ নভেম্বর আইভীকে ৫টি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ৫টি আবেদন করেছিল। ওই আবেদনগুলো রবিবার খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। এ ছাড়া আরও ৫টি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে চেম্বার বিচারপতির দেয়া আদেশও বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে মোট ১০টি মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিন কার্যকর থাকছে।
উল্লেখ্য, পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলায় গত বছরের ৯ মে গ্রেপ্তার হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে তাকে আরও ৯টি ফৌজদারি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এই ১০টি মামলাতেই আইভীকে জামিন দেন হাইকোর্ট।
আইভীর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ৫টি মামলায় জামিন দেয়ার পরপরই আইভীকে নতুন করে আরও ২টি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সেলিম মণ্ডল ও আবদুস সালাম হত্যার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এই মামলা দু’টি করা হয়েছিল। গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট ওই দু’টি মামলায় আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতি পৃথক দু’টি রুল জারি করেন। পরে এই দুই মামলার জামিন আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদন দু’টি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।




