টানা ৪০ দিন জোরালো যুদ্ধ চলার পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়, যা পরবর্তী সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রসারিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কার্যত ট্রাম্প নিজের তৈরি দুটি ফাঁদে আটকা পড়েছেন– একটি ভূরাজনৈতিক এবং অন্যটি অভ্যন্তরীণ।
বৃহস্পতিবার সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব ও নতি স্বীকারে তাদের অস্বীকৃতির কারণে ট্রাম্প গ্রহণযোগ্য সামরিক মূল্যে এ যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে পারছেন না। এ অবস্থায় সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে ৩০-এর ঘরে পৌঁছেছে। প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য ৪ দশমিক ৫০ ডলারের বেশি এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনবিরোধিতা বাড়তে থাকায় এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো রাজনৈতিক সুযোগ তাঁর নেই।
সুতরাং ট্রাম্প আটকে পড়েছেন– এ বাস্তবতাটিই শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে অবিরাম আশাবাদী হওয়ার দাবি ও কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সামরিক কৌশল ঘোষণা বা পরিবর্তনের প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে। সর্বশেষ আশা হলো, দুই দেশ ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে বর্তমানে আলোচিত এক পৃষ্ঠার একটি স্মারকলিপি। নথিটি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা শুরু করবে। এই এক পৃষ্ঠার নথি কি সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম? মূলত জটিল পরমাণু আলোচনা, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিবাদ চলে আসছে। এক পৃষ্ঠার ওই নথি চূড়ান্ত সমাধানের জন্য অপর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে নিজেদের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইরানের দাবি এবং হরমুজ প্রণালিকে প্রধান কৌশলগত সুবিধায় পরিণত করে সেটির মধ্য দিয়ে তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার চলাচলের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
কিছু সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান আলোচনাতেই দুই পক্ষ যুদ্ধ শেষ করার সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছে। আশা করা যায়, এ আশাবাদ যথার্থ। কারণ, এ সংঘাতের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি ভয়াবহ এবং তা বাড়ছেই। অবশ্য ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিকবার দাবি করেন, একটি ‘চুক্তি’ হতে চলেছে এবং তেহরান তার সব দাবিতে রাজি হয়েছে। পরে তেহরান জানিয়েছে ভিন্ন কথা।
ওয়াশিংটনের দৃষ্টিকোণ থেকে এ যুদ্ধ কৌশলগত বিভ্রান্তি, আকস্মিক পরিবর্তন ও এর সমাপ্তি নিয়ে এক অস্পষ্টতায় জর্জরিত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মঙ্গলবার প্রায় প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করেন– ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুদ্ধটি শেষ হয়ে গেছে। এরপর তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রচেষ্টায় ট্রাম্পের কয়েক ঘণ্টা আগে পরিকল্পিত আরেকটি অভিযানের কথা বলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাত্র কয়েকটি জাহাজকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার পর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ও স্থগিত করা হয়। ট্রাম্প বলেন, তিনি শান্তি আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।




