ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের জারি করা সতর্কতামূলক চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন।
তিনি বলেছেন, আমরা এ তথ্য পেয়েছি এবং সিটিটিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।”
তবে সুনির্দিষ্ট করে কোনও সংগঠন বা গোষ্ঠীকে শনাক্ত করার বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উগ্রবাদীদের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কা নিয়ে পুলিশ সদর দফতরের সতর্কবার্তা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ডিএমপির জঙ্গি দমন ইউনিট সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার।
এ সময় তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা কাজ করছি। ইনশাল্লাহ আমরা এটি মোকাবিলা করতে পারবো।
নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে— এমন আশঙ্কায় সতর্কবার্তা জারি করেছে পুলিশ সদর দফতর।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় ‘নিরাপত্তা জোরদারের’ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ওই বার্তায় নির্দিষ্ট করে কোনও সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সম্প্রতি সংগঠনটির সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদ নামে এক সদস্যকে গ্রেফতারের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
‘নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা’ সংক্রান্ত বার্তায় বলা হয়েছে, গ্রেফতার ইসতিয়াকের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা জোরদার ও নজরদারি বৃদ্ধির বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনা নিয়ে জানতে চাইলে মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, এটি আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ, যা প্রকাশ করার বিষয় নয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে আমরা কাজ করছি।
সশস্ত্র বাহিনীর কতজন সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কাছে এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই; গণমাধ্যমে যা এসেছে, তিনিও সেটুকুই দেখেছেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এমন মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন। তিনি তখন আরও বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারা হচ্ছে, কীসের জঙ্গি।
এখন এমন ‘হামলার শঙ্কার’ মধ্যে সিটিটিসি প্রধান মুনশী শাহাবুদ্দীনের কাছে সাবেক এই ডিএমপি কমিশনারের ওই বক্তব্য সম্পর্কেও জানতে চান সাংবাদিকরা।
দেশে জঙ্গি আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির সিটিটিসি প্রধান বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। কিছু পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কোনও জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেনি। যদিও উগ্রবাদীদের অবাধ বিচরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, দেশে জঙ্গি নেই।
তবে গত ২৩ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় পুলিশ সদর দফতর সতর্কবার্তা জারি করেছে।
এদিকে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নিয়ে পুলিশ সদর দফতরের চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, চিঠি আমরা পেয়েছি। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি দেখে ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ। তাদের চাহিদামতো সহযোগিতা করে থাকি আমরা।



