ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শুক্রবার কংগ্রেসকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, শত্রুতা “সমাপ্ত” হয়েছে। তবে একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণা কার্যত কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের আইনি সময়সীমা এড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, যার শেষ সময়সীমা ছিল শুক্রবার। কিন্তু রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের সঙ্গে কোনো গুলি বিনিময় হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলুশন’ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের জন্য সামরিক অভিযান চালাতে পারেন।
দুই মাস আগে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার ৪৮ ঘণ্টা পর ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে যুদ্ধের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিলেন। তারপর থেকে শুরু হওয়া ৬০ দিনের সময়সীমা ১ মে শেষ হয়েছে।
ট্রাম্প হাউস স্পিকার মাইক জনসন এবং সিনেটের অস্থায়ী সভাপতি চাক গ্রাসলিকে লেখা চিঠিতে বলেন, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া শত্রুতা এখন শেষ হয়েছে।
তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন যে ইরানের হুমকি এখনো বিদ্যমান। তার ভাষায়, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের সেনাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।
আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। সেই সময়সীমা শুক্রবার শেষ হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস এখনো কোনো অনুমোদন দেয়নি বা যুদ্ধ বন্ধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ায় এই সময়সীমা আর প্রযোজ্য নয়। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথও একই কথা বলেছেন।
তবে ডেমোক্র্যাটরা এই যুক্তি মানছেন না। তারা বলছেন, যুদ্ধ এখনো চলছে এবং আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার।
রিপাবলিকানদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। কিছু সিনেটর ভবিষ্যতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার পক্ষে, আবার কেউ কেউ এখনই নতুন ভোটের প্রয়োজন মনে করছেন না।
সিনেটর সুসান কলিন্স বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমাহীন নয় এবং কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে সিনেটর জন থুন বলেছেন, আপাতত নতুন ভোটের পরিকল্পনা নেই।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, সংবিধানে যুদ্ধ থামানোর কোনো বিরতি বোতাম নেই। আমরা এখনো যুদ্ধের মধ্যেই আছি।
সব মিলিয়ে, হোয়াইট হাউস যুদ্ধ শেষ হয়েছে বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত এবং কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বড় বিতর্ক চলছে।




