হাম ও হামের উপসর্গে প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গে প্রতিদিন বেড়ে চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জন মারা গেছেন। এই সময়ে আরও ১ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে, দুজন হামে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ৫৩ দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩৬। এর মধ্যে ২৬৮ শিশু উপসর্গ নিয়ে এবং ৫৬ জন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একই সময়ে দেশের আট বিভাগে এক হাজার ৫৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছে ৩৭৩ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সিলেট বিভাগে (১৮২ জন), এরপর ঢাকা বিভাগে (১২২ জন)। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮৫৫ শিশু চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে, যা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৪৪ হাজার ২৬০ জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার জোগান বাড়ানো ইতিবাচক হলেও তা যথেষ্ট নয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর বিশেষ নজর না দিলে পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, দ্রুত টিকাদানের পাশাপাশি রোগী শনাক্ত করে আলাদা রাখা, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে দেশে হাম প্রতিরোধে টিকার জোগান বাড়ানো হচ্ছে। চালু আছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচিও। তারপরও সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যুর হার থামছে না। গত ৫২ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নতুন টিকার চালান আসার পাশাপাশি সাপ্তাহিক সরবরাহও অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকা নয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

বুধবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফের পাঠানো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার চালান গ্রহণ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, এক চালানে ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে এসেছে। পাশাপাশি এসেছে ৯ হাজার টিডি-টিটাস টিকা। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে নতুন টিকার চালান দেশে পৌঁছাবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০টি রোগ প্রতিরোধে আগামী রোববার প্রায় ১ দশমিক ৮ কোটি ডোজ টিকা দেশে আসবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০ ধরনের মোট ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ চলমান রয়েছে। ৫ মে পর্যন্ত এক কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ।

Tags :

News Desk

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025