<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Opinion Archives - NE NEWS</title>
	<atom:link href="https://nenews.news/category/opinion/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://nenews.news/category/opinion/</link>
	<description>people&#039;s agenda</description>
	<lastBuildDate>Wed, 13 May 2026 10:36:59 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	

<image>
	<url>https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/06/cropped-NE-NEWS-LOGO-scaled-1-32x32.png</url>
	<title>Opinion Archives - NE NEWS</title>
	<link>https://nenews.news/category/opinion/</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>স্বর্ণময়ী থেকে মিমো ও আমাদের ডিজিটাল মবিং</title>
		<link>https://nenews.news/swornomoyi-mimo-digital-mobing/</link>
					<comments>https://nenews.news/swornomoyi-mimo-digital-mobing/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Juyel Raaj]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 13 May 2026 10:36:54 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[আত্মহত্যা]]></category>
		<category><![CDATA[জুয়েল রাজ]]></category>
		<category><![CDATA[ডিজিটাল]]></category>
		<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<category><![CDATA[মবিং]]></category>
		<category><![CDATA[মুনিরা মাহজাবিন মিমো]]></category>
		<category><![CDATA[স্বর্ণময়ী বিশ্বাস]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=11650</guid>

					<description><![CDATA[<p>কোনো স্বর্ণময়ী বা মিমো যেন এই পথ বেছে না নেন সেই পরিবেশ তৈরি করা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত আমরা বেছে নিয়েছি অনলাইন ট্রায়াল। </p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/swornomoyi-mimo-digital-mobing/">স্বর্ণময়ী থেকে মিমো ও আমাদের ডিজিটাল মবিং</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>২৫ এপ্রিল দিবাগত রাতে আত্মহত্যা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো। একটি নোট লিখে রেখে যান, যেখানে তিনি তারই বিভাগের শিক্ষক এবং তার ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবীর নাম লিখে যান। তবে তা আত্মহত্যার জন্য দায়ী করে নয়, তিনি লিখে যান- &#8220;সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি এবং স্যার ভালো থেকো, স্যারের গিফটগুলো ফেরত দিতে হবে।&#8221; এই নোটের কারণে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ও মিমোর বান্ধবী হানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ। হানিকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দিলেও সুদীপ চক্রবর্তীকে জেলে পাঠানো হয়।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এই নোটের জের ধরে যেদিন সুদীপ চক্রবর্তীকে ৩ দিনের রিমান্ড দেযন আদালত, ঠিক একই দিনে অনলাইন সংবাদমাধ্যম &#8216;ঢাকা স্ট্রিম&#8217;-এর গ্রাফিকস ডিজাইনার ও সংবাদকর্মী স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে (ফাইনাল রিপোর্ট) তার মৃত্যুকে &#8216;আত্মহত্যা&#8217; হিসেবে উল্লেখ করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু এ ঘটনার পর ঢাকা স্ট্রিমের বাংলা কনটেন্ট এডিটর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে প্ররোচনা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। অথচ পুলিশি প্রতিবেদনে হ্যারাসমেন্টের বদলে পারিবারিক কারণই তাঁর মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সুদীপ চক্রবর্তীর রিমান্ড, জামিন না পাওয়া এবং স্বর্ণময়ীর আত্মহত্যা মামলার প্রতিবেদন প্রকাশ কাকতালীয়ভাবেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">স্বর্ণময়ীর আত্মহত্যার পর তার কর্মক্ষেত্রের একটি পুরোনো অভিযোগকে সামনে এনে ধীরে ধীরে এমন এক সংঘবদ্ধ অনলাইন ক্যাম্পেইন তৈরি হয়, যা শুধু আলতাফ শাহনেওয়াজ নন, তার স্ত্রী ফাতেমা আবেদিন নাজলা এবং তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এন’স কিচেনসহ তাদের সামাজিক জীবন, ব্যক্তি জীবন, অর্থনৈতিক জীবন সব তছনছ করে দেয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুলিশের তদন্ত, আদালতের রায় কিংবা ন্যায়বিচার নয়, শুরু হয় আলতাফ শাহনেওয়াজ ও তার স্ত্রীর প্রতি এক ধরনের প্রতিশোধপরায়াণতার প্রকাশ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখন আদালতে স্বর্ণময়ীর হত্যার দীর্ঘ তদন্ত শেষে স্বর্ণময়ীর আত্মহত্যায় আলতাফ শাহনেওয়াজের কোনো সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়নি। কিন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা তার আগেই শুধু আলতাফ শাহনেওয়াজ নয়, তার স্ত্রীসহ তাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে দেয়। তখনকার সময়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যদি এখন দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন, আলতাফ শাহনেওয়াজ যে এখনো বেঁচে রয়েছেন সেটিই বরং আশ্চর্যজনক!</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিগত ডিজিটাল মবিং এর জন্য কেউ কি আলতাফ শাহনেওয়াজের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন? চাননি। মিমোর আত্মহত্যার পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আমরা কেউই জানি না মিমোর এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর রহস্য কী? কিন্ত মিমোর চিরকুটের সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব হয়ে ওঠে সুদীপ চক্রবর্তীর বিচারের দাবিতে। যা বরং ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সুদীপ চক্রবর্তী আদতেই আত্মহত্যায় কোনোভাবে মিমোকে প্ররোচিত করেছেন কি না, সেটি একমাত্র পুলিশি তদন্তেই বের হওয়া সম্ভব। কিন্তু তার আগেই সুদীপ চক্রবর্তী যে বিভাগের শিক্ষক, সেই বিভাগেরই শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষকরাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষার বিচার শুরু করেছেন। ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও অভিযোগের খাতা খুলে বসেছেন। যেখানে মিমোর জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার চেয়ে ব্যক্তি সুদীপের চরিত্র হনন ও সুদীপকে অপরাধী প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিমোর আত্মহত্যার নেপথ্য কারণ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তার শিক্ষা অনুষদের আভ্যন্তরীণ স্বজনপ্রীতি, শিক্ষক নিয়োগ, দুর্নীতির সংস্কারের দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন এবং সেই ক্যাম্পেইনে বলির পাঁঠা বানিয়ে ফেলছেন সুদীপ চক্রবর্তীকে। ঠিক যেভাবে হয়েছিল স্বর্ণময়ীর আত্মহত্যার পর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ব্যক্তি আলতাফ শাহনেওয়াজ কিংবা সুদীপ চক্রবর্তীর চারিত্রিক সনদপত্রের চেয়েও জরুরি আত্মহত্যারোধে আমাদের কী করণীয় ছিল। এ ধরনের মেধাবীরা কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মস্থলে<br>রাষ্ট্রীয়ভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তৈরি করা, আর যেন কোনো স্বর্ণময়ী বা মিমো এই পথ বেছে না নেয় তার পরিবেশ তৈরি করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত আমরা বেছে নিয়েছি অনলাইন ট্রায়াল। অপরপক্ষে থাকা মানুষটি যদি মানসিকভাবে অধিক পরিমাণে শক্ত না হন, এই বিচার তাকেও এক ভিন্ন মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়। একটি ন্যায়বিচারের দাবিতে অন্য আরেকটি জীবনের প্রতি অন্যায় করছি কি না, সেই ভাবনাটা করছি না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভুক্তভোগীর পরিবারের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে মিমোর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে তাদের মধ্যে ভিডিওকলে কথোপকথনের পর মিমো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ওই আলাপের পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি আত্মহত্যা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, মিমোর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ও কল রেকর্ডে দুজনের সম্পর্ক এবং যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) দোষী সাব্যস্ত করতে হলে কেবল সম্পর্ক বা কথোপকথন নয়, প্ররোচনার সরাসরি বা পরোক্ষ প্রমাণ দেখাতে হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিমোর আত্মহত্যার পরপরই তার মায়ের একটি দীর্ঘ মোবাইল ফোন কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে, যেখানে মা, বাবা পরিবারসহ তার কাছের মানুষের সাথে সম্পর্ক, গত মাসের ৫ তারিখে মিমোর প্রেমিকের অন্য মেয়ের সাথে বিয়ে হয়ে যাওয়া নিয়ে তার মানসিক বিপর্যয়, ছেলে বন্ধুদের সাথে তার উশৃঙ্খল জীবনযাপন, প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়া, বারবার আত্মহত্যা বা নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা- এসব বিষয় তিনি মিমোর এক বান্ধবীকে বয়ান করছেন। একজন মা কতটা নিরুপায় ছিলেন, সেই অসহায়ত্ব বারবার উল্লেখ করেছেন সেখানে। মিমোর সেই জীবন একান্তই তার। এই বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তার চারিত্রিক সনদপত্র দেয়া কোনোভাবে সমুচীন নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২৫ তারিখ মৃত্যুর পূর্ব সন্ধ্যায় সুদীপ চক্রবর্তীর অফিসের মিটিং থেকে বের হওয়ার সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান মিমো ফোনে কথা বলে পায়চারি করছেন। সেই ফোনের অন্যপ্রান্তে কে ছিলেন? কেউ প্রশ্ন তোলেনি। সুদীপ চক্রবর্তীর সাথে কথা হয়েছে রাত ১টায়। আর মিমো আত্মহত্যা করেছেন ভোর ৫টায়, প্রায় ৪ ঘণ্টা পর। এই দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা সময় কী ঘটেছিল তার জীবনে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব ফুটেজ আদালত চাইলে দিতে বাধ্য। কিন্তু সেটি না করে এসব পাবলিক করে দেয়ার ঘটনায় এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিমো আত্মহত্যা করেছেন এই বিষয়টি প্রমাণিত। সেই আত্মহত্যায় যদি সুদীপ চক্রবর্তী কোনোভাবে দায়ী থাকেন, আইনত নিশ্চয়ই তিনি সাজা ভোগ করবেন। আইনকে সেই সুযোগটা দেয়া উচিত। কিন্ত তার আগেই মিমো, মিমোর পরিবার, তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে টানাটানি, সুদীপের দীর্ঘ ক্যারিয়ার, তার ব্যক্তিজীবন- সবকিছুকে আমরা বিচারের নামে দুর্বিষহ করে তুলেছি।&#8217;</p>



<p class="wp-block-paragraph">অনলাইন ট্রায়াল কোনো সমাধান নয়, বরং এটি আরেকটি মৃত্যুর পথ তৈরি করে। আমরা যদি সত্যিকারের মানবিক সমাজ পেতে চাই, তবে আমাদের ঘৃণা ছড়ানো বন্ধ করে সুস্থ তদন্তের সুযোগ দিতে হবে। মিমোর বিষাদসিন্ধু যেন আমাদের ভেতরের মানুষটাকে ডুবিয়ে না দেয়, বরং আমাদের প্রশ্ন করতে শেখাক— কেন আমাদের চারপাশটা এতটা বিষাক্ত হয়ে উঠছে?</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/swornomoyi-mimo-digital-mobing/">স্বর্ণময়ী থেকে মিমো ও আমাদের ডিজিটাল মবিং</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/swornomoyi-mimo-digital-mobing/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বাধা ইউনূসের ‘গোলামির চুক্তি’</title>
		<link>https://nenews.news/bangladesh-ogrogoti-badha-golami-chukti/</link>
					<comments>https://nenews.news/bangladesh-ogrogoti-badha-golami-chukti/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Kabir Aahmed]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 28 Apr 2026 08:50:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[অগ্রগতি]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামী লীগ]]></category>
		<category><![CDATA[আমেরিকা]]></category>
		<category><![CDATA[উন্নয়ন]]></category>
		<category><![CDATA[চুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[ড. মুহাম্মদ ইউনূস]]></category>
		<category><![CDATA[পারমানবিক]]></category>
		<category><![CDATA[বাধা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বিদ্যুৎকেন্দ্র]]></category>
		<category><![CDATA[রূপপুর]]></category>
		<category><![CDATA[সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=11495</guid>

					<description><![CDATA[<p>ইউনূস-রেজিমের অপশাসন দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। তারেক রহমানের সরকারের সাহস হচ্ছে না গোলামির চুক্তি অগ্রাহ্য করতে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/bangladesh-ogrogoti-badha-golami-chukti/">বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বাধা ইউনূসের ‘গোলামির চুক্তি’</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। দেড় দশকে শেখ হাসিনার সরকার যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে, আগামী ৫০ বছরেও এটা করতে পারা সম্ভব কি না— এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেছি আমরা। এর কারণ মূলত ইউনূস-রেজিমের ভয়াবহ অপশাসন, লুটপাট, দুর্নীতি এবং দেশের ভিত্তি ধ্বংস করে দেওয়ার ভয়াবহ নীলনকশা।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ক্ষমতা ছাড়ার আগ-মুহূর্তে ইউনূস আমেরিকার সঙ্গে যে ‘গোলামির চুক্তি’ করেছে, তার খেসারত দিয়ে যেতে হবে আগামীর বাংলাদেশকে। বর্তমান তারেক রহমানের সরকারসহ ভবিষ্যতের সরকারগুলো যতবার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে, ততবারই প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে ইউনূসের গোলামির চুক্তি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাংলাদেশ আজ এমনই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে আমদানি করতে আমেরিকার অনুমতি চাওয়া লাগে। কিছুদিন আগেও এটা আমরা দেখেছি। ইউনূস-রেজিমের দুর্বিষহ অপশাসন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। তারেক রহমানের সরকারের সাহস হচ্ছে না গোলামির চুক্তি অগ্রাহ্য করতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধু রাশিয়া। সেই রাশিয়ার সহায়তা আওয়ামী লীগ যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে, তার সুফল আজ বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে। আজ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র যে অবদান রাখবে, তাতে আমাদের বিদ্যুৎ আমদানি-নির্ভরতা অনেকাংশে লাঘব হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘মুজিব শতবর্ষে’ বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হয়েছে। রূপপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্র সঠিকভাবে পরিচালনা এবং দুই ইউনিটের পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গেলে ২০২৭ সাল নাগদ ওখান থেকে বাংলাদেশ পাবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এরআগে আজ যে এক ইউনিট চালু হচ্ছে তাতে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র যখন নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শুরু কয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার, তখন তৎকালের বিরোধীদল বিএনপি-সহ ডান-বাম, কথিত পরিবেশবাদীরা এর বিরোধিতা করেছিল। এই বিরোধিতাগুলো ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায়’ অগ্রাহ্য করার কারণেই আজ বাংলাদেশ ঐতিহাসিক দিনের দ্বারপ্রান্তে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">উন্নয়ন এমনই যা অস্বীকারের উপায় নেই। এখানে যত ইচ্ছে ট্যাগ দেন, সত্য তো সত্যই; হাজারবার অস্বীকার করলেও সেটা সত্য থেকেই যাবে!<br>এখন আমরা বিদ্যুতের জন্যে ভারতের আদানি গ্রুপের ওপর নির্ভরশীল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শতভাগ উৎপাদন করতে পারলে বিদ্যুৎ আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশ তখন পৌঁছাবে রপ্তানি-সক্ষমতায়!</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের এ ঐতিহাসিক যাত্রা হয় এভাবে- ২০১০ এ জাতীয় সংসদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত, ২০১২ সালে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অ্যাক্ট পাস শেষে ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে আজ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সেই ঐতিহাসিক যাত্রার আরও একটা মাইলফলক।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/bangladesh-ogrogoti-badha-golami-chukti/">বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বাধা ইউনূসের ‘গোলামির চুক্তি’</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/bangladesh-ogrogoti-badha-golami-chukti/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পেহলগাম: রক্তাক্ত বিষাদের এক বছর, মানবতার আর্তনাদ</title>
		<link>https://nenews.news/pahalgam-roktakto-bishad-manobota-artonad/</link>
					<comments>https://nenews.news/pahalgam-roktakto-bishad-manobota-artonad/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Juyel Raaj]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 22 Apr 2026 13:36:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[এক বছর]]></category>
		<category><![CDATA[কাশ্মীর]]></category>
		<category><![CDATA[ট্র্যাজেডি]]></category>
		<category><![CDATA[পেহলগাম]]></category>
		<category><![CDATA[ভারত]]></category>
		<category><![CDATA[সন্ত্রাসী]]></category>
		<category><![CDATA[হামলা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=11439</guid>

					<description><![CDATA[<p>অসম রক্তপাতে কেউ কি আসলে জয়ী হয়েছে? না ভারত, না পাকিস্তান, না ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী। মাঝখান থেকে অন্ধকারে ডুবেছে মানবতা। </p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/pahalgam-roktakto-bishad-manobota-artonad/">পেহলগাম: রক্তাক্ত বিষাদের এক বছর, মানবতার আর্তনাদ</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>পৃথিবীর স্বর্গ খ্যাত কাশ্মীর। আমাদের কাছে সিনেমার পর্দায় দেখা। গল্পে-সাহিত্যে নানা উপমায় বারবার ফিরে আসে কাশ্মীর স্বপ্নের মতো। আবার বাতির নিচে অন্ধকারের মতোই সেই স্বপ্নের নিচে বছরে পর বছর ধরে কাশ্মীর শুধু শুভ্রতা নয়, রক্তের লালও উপহার দিচ্ছে। যা উপমহাদেশের রাজনীতিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। ইউরোপের নানা দেশ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। তবুও কাশ্মীর দেখার লোভ মনের মাঝে রয়ে গেছে। মাস দুয়েক আগেই ভারত ঘুরে এসেছি। কিন্ত কাশ্মীর যাওয়ার লোভ থাকলেও সাহস হয়নি। কারণ গত বছরের পেহলগামের সেই ভীতি। এবং শুধু আমি নই, ওই ঘটনার পর পুরো কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছিল।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">কাশ্মীরের রক্তাক্ত ইতিহাস নিয়ে মহাকাব্য রচিত হতে পারে এবং হওয়াও উচিত। যেখানে শত শত মুসলিম মায়ের হাহাকার যেমন থাকবে, কাশ্মিরী পন্ডিতদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার রক্তাক্ত ইতিহাসও থাকবে। কিন্ত গত বছর এই দিনে অর্থাৎ ২২ এপ্রিল যেভাবে নৃশংসভাবে ২৫ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এই হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। প্রথমে &#8216;দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট&#8217; (TRF) নামে একটি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই সংগঠনটি রাষ্ট্রসংঘের চিহ্নিত জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার একটি &#8216;প্রক্সি&#8217; গ্রুপ। যদিও পরে TRF তাদের দাবি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে ভারত কাশ্মীরে অন্তত ৫ লক্ষ সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই পেহলগাম জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে ভারত ২০২৫ সালের মে মাসে চালানো &#8216;অপারেশন সিঁদুর&#8217; (Operation Sindoor)-এ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাকিস্তানি সেনা ও সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ভারতীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে শতাধিক, কারো মতে ১৫০-এর বেশি বা অন্তত ৩৫-৪০ জন পাকিস্তানি জওয়ান নিহত হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই অসম রক্তপাতে কেউ কি আসলে জয়ী হয়েছে? না ভারত, না পাকিস্তান, না ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী। মাঝখান থেকে অন্ধকারে ডুবেছে মানবতা। প্রাণহানি হয়েছে নিরপরাধ মানুষের। আমি ব্যক্তিগতভাবে অপরাধীরও প্রাণহানির পক্ষে না। আমি অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার পক্ষের মানুষ। কারণ প্রাণ সৃষ্টির ক্ষমতা যখন বিচারকের নেই, ধ্বংসের ক্ষমতাও থাকা উচিত না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যখন শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে মানুষ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, তখন তা কেবল একটি অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার নৈতিক ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দেয়। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, এটি এক জঘন্য, রক্তক্ষয়ী খেলার ক্ষেত্র। যেখানে মানবতার অস্তিত্বকেই ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যে কোনো উগ্রবাদ হলো গভীরতম ঘৃণা, অসহিষ্ণুতা এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা। তারা ধর্মের আড়ালে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এমন নৃশংসতা চালায়, যা সমাজের প্রতিটি স্তরে এক ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই মানুষগুলো বিশ্বাস করে যে, তাদের ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ব তাদের সহিংসতাকে বৈধতা দেবে। এই মানসিকতা এতটাই মারাত্মক যে, এটি যুক্তির কোনো স্থান দেয় না, কেবল ক্রোধ ও হিংসার আগুনই তাদের চালিত করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই ধর্মীয় বিভাজন যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনে পরিণত হয়, তখন এর পরিণতি অনিবার্যভাবে ভয়াবহ। যখন মানুষ একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস করতে শুরু করে, তখন সহযোগিতা, সহানুভূতি এবং সহনশীলতার মতো মানবিক মূল্যবোধগুলো ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এই বিভাজন কেবল দুটি গোষ্ঠীর মধ্যেকার সমস্যা নয়, এটি সমগ্র বিশ্বকে এক অসহায়তার অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ শুধু যুদ্ধের জন্ম দেয়, মানবিক ক্ষত সৃষ্টি করে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বহন করে চলতে হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারতীয় উপমহাদেশের মতো ধর্মীয় বিদ্বেষ-বিভাজন আধুনিক সময়ে পৃথিবীর কোনো দেশেই নেই। আমরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সেই ধর্মীয় উগ্রবাদের বিষে এখনো বারবার জর্জরিত হই। এর বিপক্ষে আমাদের প্রয়োজন সম্মিলিত, নৈতিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ। আমাদের প্রয়োজন সেই কণ্ঠস্বর, যা এই ঘৃণা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে এই উগ্রবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। আসুন, আমরা প্রমাণ করি যে, ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিন্নতা সত্ত্বেও, মানুষ হিসেবে আমরা সবাই এক। মানবতার স্বার্থে, আমাদের সম্মিলিতভাবে এই রক্তক্ষয়ী খেলা বন্ধ করে, একটি সহনশীল, শান্তিময় এবং মানবিক বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় উগ্রবাদ ধর্মের নামে অন্যের প্রতি ঘৃণা, অবিশ্বাস এবং হিংসার বীজ বপন করে। এটি কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রবেশ করে এবং মানবিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে। সহনশীলতা এবং শান্তির মতো মূল্যবান সম্পদগুলো হারিয়ে যায়। আজ বিশ্বজুড়ে যে যুদ্ধ ও সংঘাত দেখা যাচ্ছে, তার মূল কারণগুলোর মধ্যে এই ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং অসহিষ্ণুতা অন্যতম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আপনাদের মনে থাকার কথা, সশস্ত্র জঙ্গি হামলার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়, বিশেষ করে পনি রাইড অপারেটররা, আক্রান্ত পর্যটকদের বাঁচাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন এবং স্থানীয় মুসলিম যুবকরা আহতদের সাহায্য করেন। এ ঘটনার পর উপত্যকায় সাধারণ মানুষ &#8220;হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই&#8221; স্লোগান তুলে শান্তির মিছিল করেন এবং হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই অন্ধকার দূর করার জন্য কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও সংলাপের মাধ্যমে ধর্মীয় বিভাজনকে অতিক্রম করার সাহস।<br>উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বারবার রুখে দাঁড়াতে হবে ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিন্নতা সত্ত্বেও। মানুষ হিসেবে আমরা সবাই এক। মানবতার স্বার্থে আমাদের সম্মিলিতভাবে এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে একটি সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em><strong>লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট</strong></em></p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/pahalgam-roktakto-bishad-manobota-artonad/">পেহলগাম: রক্তাক্ত বিষাদের এক বছর, মানবতার আর্তনাদ</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/pahalgam-roktakto-bishad-manobota-artonad/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে পড়া আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরবে?</title>
		<link>https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/</link>
					<comments>https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 06 Apr 2026 19:36:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামী লীগ]]></category>
		<category><![CDATA[জাতিসংঘ]]></category>
		<category><![CDATA[নিষিদ্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বিএনপি]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=11263</guid>

					<description><![CDATA[<p>জাতিসংঘ মনেকরে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর অপরাধ। (বিস্তারিত মতামত পড়ুন আমাদের পোর্টাল লিংকে)</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/">নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে পড়া আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরবে?</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">সুবর্ণ সুযোগ হাতে পেয়ে ‘চিরশত্রু’ আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। আওয়ামী লীগ এই ভয়াবহ সংকট কীভাবে মোকাবেলা করবে তার সমাধান দেওয়া ব্যক্তি মনজুরুল হকের এক্তিয়ারে পড়ে না কারণ, সে আওয়ামী লীগের কেউ নয়। একজন Geo-Political Analyst হিসেবে নিবন্ধ লেখক শুধুমাত্র Strategic solutions উল্লেখ করতে পারে। তা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা গ্রহণ করবেন এমনটিও লেখক মনে করে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজকে যে বিএনপি স্থায়ীভাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চলেছে তার আগে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে’ দলটির ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এর নেতাদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার কথা বলে ২০২৫ সালের ১২ই মে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এজন্য তারা অবৈধভাবে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন’-এর ১৮ ধারায় একটি উপধারা যোগ করে কারণ, ওই ধারায় কোনো দলকে নিষিদ্ধের বিধান ছিল না।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="526" height="526" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-Ittefaq.jpg" alt="" class="wp-image-11265" style="width:782px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-Ittefaq.jpg 526w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-Ittefaq-300x300.jpg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-Ittefaq-150x150.jpg 150w" sizes="(max-width: 526px) 100vw, 526px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">ইউনুসের অবৈধ সরকার আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম―মিটিং-মিছিল-সমাবেশ-সংবাদ সম্মেলন-পোস্টারিং, দেওয়াল লিখন, প্রেস-রিলিজ, ডিজিটাল এবং প্রিন্ট গণমাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করে। অফিস ও ব্যাংক হিসাবও জব্দ করে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।, যার ফলে তারা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। অর্থাৎ নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নির্বাচনের আগে বিএনপি’র একাধিক শীর্ষ নেতা একাধিকবার বলেছেন-‘তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে নয়’। এমনকি দলনেতা তারেক রহমান বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন ‘আমরা কোনো দলের নিষিদ্ধ চাই না, এটা একটা বাজে উদাহরণ হবে, এর ধারাবাহিকতায় একসময় আমাদের দলও নিষিদ্ধ হতে পারে’। কিন্তু ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপি সরকার এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি নিষিদ্ধাদেশ অমান্য করলে কি কি শাস্তি হতে পারে তার বিধান তৈরি করার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছে। সরকার নতুন আইনের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে দলটির নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার আইনি পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিএনপি নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের মত গুরুতর বিষয়ে ভারত, জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থাসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ ও সংস্থার সতর্কবার্তার কারণে নির্বাচনের আগে এমন কিছু ইতিবাচক বিবৃতি দেয় যাতে করে মনে হয়েছিল বিএনপি ইউনূসের বেআইনী ফ্যাসিবাদী শাসন রদ করে একটি গণতান্ত্রিক বাতাবরণ তৈরি করবে। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামিকে নির্বাচনে জেতানোর উদ্যোগ নিলে ভারত নিজেদের নিরাপত্তার বিপদাশঙ্কা করে জামায়াতকে ঠেকাতে বিএনপিকে মৌন কিংবা প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিল।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="640" height="480" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-71-TV.jpg" alt="" class="wp-image-11266" style="width:829px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-71-TV.jpg 640w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-71-TV-300x225.jpg 300w" sizes="(max-width: 640px) 100vw, 640px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">এর ফলে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ এবং তাদের ভোট ট্রিক্সে ফেলে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখন সেই বিএনপি আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী করতে যাচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ৪ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান জারি করতে চলেছে। এতে করে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন যে, একটি প্রধান রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর একটি গুরুতর অপরাধ এবং এই নিষেধাজ্ঞা বলবত রাখার জন্য সরকারকে কারণ দর্শানোর আল্টিমেটামও দিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারত সরকারও বিএনপির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অতীত রেকর্ড জেনেও তাদের কাছে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভারতবিরোধী ন্যারেটিভ দূর করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর পরিণতিতে কি হতে পারে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী পরিণতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থার এক গভীর সংকট সৃষ্টি হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির গণভোটের পর, সরকার ‘জুলাই সনদ’ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করছে। এতে এমন ধারা রয়েছে যা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ জড়িত যেকোনো দলকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে পারবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমগ্রিকভাবে দল দোষী সাব্যস্ত হলে তার সম্পদ স্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তার নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত বাজেয়াপ্ত করা হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীকে সেই শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ করে দিয়েছে। জামায়াত ইতোমধ্যেই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পুরোপুরি আওয়ামী লীগ শূন্যতায় তাদের বিকাশ এতটাই দ্রুত এবং বিনা বাধায় হতে পারে যা উপমহাদেশের জন্য অশনিসংকেত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি প্রধান দলকে বাদ দিলে তার সমর্থক গোষ্ঠী গোপন আন্দোলন বা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• এর ফলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূ-রাজনৈতিক পরিণতি হলো শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বাড়বে। আবার ভারত প্রত্যর্পণের কথা আমলে না নিয়ে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তাদের বিরোধিতা সোচ্চার রাখতে চাইছে। যে কারণে ইউনূসের অধ্যায় শেষে যে সুসম্পর্কের আভাস দেখা যাচ্ছিল তা আবার কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখন আওয়ামী লীগ কি করতে পারে? তাদের কৌশলই বা কি হতে পারে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">• শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিলের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• তারা দাবি করেছে যেকোনো নির্বাচন বর্তমান প্রশাসনের পরিবর্তে একটি ‘নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে অনুষ্ঠিত হোক এবং তাদেরকে নির্বাচনে লড়বার সুযোগ দেওয়া হোক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• দেশের ভেতরে তাদের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করায় আওয়ামী লীগ বিশ্বমঞ্চের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করতে উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আইসিসি’তে মামলাও হয়েছে নিষেধাজ্ঞা ও শেখ হাসিনার মৃত্যুধণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• নিষেধাজ্ঞা, সুষ্ঠু বিচারের অধিকার এবং লক্ষ লক্ষ ভোটারের ‘ভোটাধিকার হরণ’ সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগগুলোকে দলটি কাজে লাগাতে চাইছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• ভারত থেকে শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল ভাষণ দিয়ে চলেছেন, তার প্রথম প্রকাশ্য ভাষণটি হয়েছিল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যেখানে তিনি নিজেকেই বৈধ নেতা হিসেবে দাবি করছেন এবং বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতক্ষণ যে আলোচনা হলো সেসব প্রাতিষ্ঠানিক সংকট। এর চেয়ে ভয়াবহ যে সংকটটি ইদানিং দৃশ্যমান হচ্ছে, তা অভ্যন্তরীণ সংকট। ইউনূসের অবৈধ ইন্টেরিম সরকার ১৮ মাস ধরে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের একচ্ছত্র ক্ষমতাপ্রদর্শন, ইন্টেরিম ও তাদের ভাঁড়দের ভাষায় ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসন চালিয়েছিল, তাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল ইউনূসের সরকারের চুরি-ডাকাতি, ঘুষ-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অত্যাচার-নিপীড়ন, টাকা পাচার, মবভায়েলেন্স এবং অবৈধ ক্ষমতার বেআইনী আইন জারি করে গণনিপীড়নে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সে কারণে খুব অল্প দিনেই আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের সিম্প্যাথি তৈরি হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনের সঙ্গে তুলনা করে মানুষ আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলের অধিকাংশ ‘অপরাধ’ ক্ষমা করে দিয়েছিল বা ভুলে গিয়েছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু নির্বাচনের মাস দুই আগে ভারতের স্ট্র্যাটিজিক্যাল ভুল এবং আওয়ামী লীগের বিএনপির প্রতি বায়বীয় আস্থা রাখা ও সে আলোকে সমর্থকদের মৌনভাবে জামায়াত ঠেকাতে বিএনপিকে ‘মন্দের ভালো’ নীতি অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তার উপর বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের আয়েশি কার্যকলাপ, দেশের তৃণমূল কর্মীদের ওপর হওয়া অত্যাচার-নিপীড়নের কার্যকর প্রতিরোধে না নামা এবং কোনো এক বায়বীয় শক্তির সহায়তায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রত্যাবর্তনের আশা দেশের সাধারণ কর্মীদের চরমভাবে হতাশ করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে আওয়ামীলীগে বিএনপি ও জামায়াতের চর ঢুকেছে বাধাহীনভাবে। ওদিকে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নাম ভাঙিয়ে আওয়ামীলীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস শেষ দশ বছরে ধসে গিয়েছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মাফিয়া বিজনেস কাবাল গ্রুপ আওয়ামীলীগকে ‘দখল’ করেছিল। পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে দায়দায়িত্বহীন প্রশাসনকে দিয়ে রাষ্ট্র চালানো, যত্রতত্র মুজিবের ব্যবহার জাতির পিতার ভাবমূর্তি ও অর্জনকে হালকা করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তেলবাজ রাজনীতিক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া একদল স্তাবক, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাহীন শহুরে এলিটদের দৌরাত্ম্য, হেফাজতের মত উগ্র ধর্মবাদী গণতন্ত্রবিরোধীদের সঙ্গে অতিরিক্ত দহরম-মহরম-এর মাশুল দিচ্ছে আজ প্রায় ৫ কোটি আওয়ামীলীগ সমর্থক। এই হাইব্রীড আওয়ামী লীগারদের (যাদের অনেকেই শেখ পরিবারভূক্ত) ক্ষমতার মোহ আওয়ামী লীগকে পচন ধরিয়েছিল। নিজেদের স্বার্থের জন্য এরা বারবার শেখ হাসিনা শেখ মুজিবকে ‘কমোডিটিজ’ বানিয়ে বিক্রি করেছে। সর্বশেষ এরাই শেখ হাসিনাকে একা মৃত্যুর মুখে ছেড়ে এদের অধিকাংশই পালিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যারা নিজেদেরকে ‘শেখ হাসিনার চেয়েও বড় লীগার’ ভাবতে শুরু করেছিল সেই তারাই গত ১৮ মাসে আওয়ামীলীগকে আবার অর্ধেক ডুবিয়ে দিয়েছে। যে জনসমর্থন ৫ আগষ্টের পর শুরু হয়েছিল তাতে আবার ভাটা পড়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যেহেতু দেশে প্রথমে ইউনূসের, এবং এখন বিএনপি’র নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে দেশে অবস্থানরত কর্মীরা রাস্তায় নামতে পারছে না, বনে-বাদাড়ে ঘুরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে, সর্বক্ষণ গ্রেফতারের ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করতে পারছে না, সেসময় বিদেশে অবস্থারত নেতাদের ডিজিটাল মাধ্যমে যে দিকনির্দেশনা দেওয়া উচিৎ ছিল তা পারছেন না বা রিস্ক নিয়ে করতে চাইছেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যে কেউ ডিজিটাল মাধ্যমের টকশো’তে লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বক্তব্য খেয়াল করলে অবাক হবেন! ধরুন এই যে ইউনূসের নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞাকে সংসদে বিল হিসাবে তুলে কিছু সংশোধন (শাস্তির বিধান রেখে) করে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে, তা নিয়ে তাদের কর্মকৌশল কী? প্রশ্ন করলে প্রথমেই তারা শুরু করবেন সেই যুক্তফ্রন্ট আমল থেকে ৬৬ সালের ৬ দফা, অসহযোগ আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নির্মম মৃত্যু, পরবর্তীতে ‘তীব্র আন্দোলন’ করে ব্রাকেটমুক্ত লীগের পুনর্জন্ম, ২১ বছর পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতারোহন বয়ান করবেন। </p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৯৯৬ থেকে কীভাবে কোন কোন দুর্বিপাক সামলে দল চালাতে হয়েছে সেই বিবরণ দিয়ে, বার বার পরাজিত হয়ে আবার ফিনিক্স পাখির ছাই থেকে উঠে আসার বর্ণনা দেবেন। ২০০৯ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কি কি উন্নয়ন করে দেশকে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন সেই স্তুতিবাক্য আউড়ে যাবেন। তারপর দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করবেন-‘আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। এই দল জনগণকে সাথে নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াবে, আবার ক্ষমতাসীন হয়ে দেশকে পতনের হাত থেকে বাঁচাবেন। আওয়ামী লীগ কখনও পেছন দরজা দিয়ে ক্ষমতা প্রত্যাশী নয়’। উপস্থাপক না থামানো পর্যন্ত এই কেচ্ছা বলতে থাকবেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখানে বর্তমান ভয়াবহ সংকটের সমাধান কোথায়? দল পার্মানেন্টলি ব্যান হতে যাচ্ছে, এই সময় তাদের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান হওয়া উচিৎ কীভাবে এর মোকাবেলা করবে সেটা। তারা যে কৌশলের কথা বলবেন তা যে প্রতিপালিত হবে এবং সফল হবে তেমন না হোক, অন্তত জনগণকে তো জানাতে হবে-তারা এখনও নিঃশেষ হয়নি! তাদের প্ল্যান A, B,C থাকতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কি কি পদক্ষেপ নেবেন সেটা পরিষ্কার করে বলতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেসব না বলে ক্ষমতায় ফিরলে কাকে কাকে কীভাবে শায়েস্তা করা হবে, কোন কোন লালবদরের ক্ষমা নাই, লিস্ট করে রাখা হচ্ছে, কেউ পার পাবে না…. আর কোনো ভুল করা যাবে না, সুসময়ের কোকিলদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হবে… এসব বলার ন্যায্যতা তখনই হবে, যখন ক্ষমতায় আসতে পারবে। সবার আগে ভাবতে হবে কীভাবে ‘ত্রিদলীয় জোটের’ স্টিমরোলার থেকে দলীয় কর্মীদের বাঁচিয়ে রাখবে এবং কীভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করে মানুষের মন জয় করতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আনফরচ্যুনেটলি এইসব অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং বার্নিং ইস্যু নিয়ে তাদের ওয়েল থিংকিং প্ল্যান এবং তার ইমপ্লিমেন্টেশনের ডিক্লারেশন অনুপস্থিত। বরং ইদানিং কে কত হার্ডকোর লীগার, কে সফ্টকোর, কারা লালবদর থেকে ভুল বুঝে ফিরে এসেও ষড়যন্ত্র করছে, কারা বিভেদ সৃষ্টি করে ‘নিশ্চিত ফিরে আসা’ ঠেকিয়ে দিতে চাচ্ছে এসব নিয়ে অন্তর্জালে চলছে চাপান-উতোর। খাঁটি বাংলায় কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নিষিদ্ধকরণ বাস্তবায়ন করলে বিএনপি কত বড় ভুল করবে, দেশে কি ধরণের নৈরাজ্য নেমে আসবে, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তির কি কি ক্ষতি হবে, সেসব নিয়ে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি ভাবুক। জনগণ প্রত্যাশা করে আপনারা অন্তত আপনাদের পায়ের তলাকার মাটি শক্ত করার উদ্যোগ নিন। রাজনীতি করা একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। সেটা কোনও আইন-কানুনে স্তব্ধ করা যায় না। সঙ্গত কারণে প্রশ্ন ওঠে; যে দলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ছিল, কোটি কোটি সমর্থক ছিল, প্রশাসনের আগাপাশতরাজুড়ে ‘পক্ষের লোকজন’ ছিল, তারা কোথায়? ২৪-এর জুলাই-আগস্টে যে ভুল হয়েছে তা নিয়ে ‘শিবের গীত’ গেয়ে লাভ নেই। নিষিদ্ধ করলে আপনাদের কাউন্টার রি-অ্যাকশন কি হবে সেটাই মানুষ জানতে চায়, অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খুবই বাস্তবসম্মত কথা―হঠকারী সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিলে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর ওপর নির্যাতন হবে, গ্রেফতার হবে। আবার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন ছাড়া রাজনীতিতে ফেরার দ্বিতীয় অপশন নেই। বাংলাদেশে কতগুলো জেলখানা? তার ধারণ ক্ষমতা কত? কতজন পুলিশ নামবে গ্রেফতার করতে? নিশ্চয়ই সকল নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের ক্ষমতা রাখে না সরকার? তাহলে আর কীভাবে ফেরার আশা করেন? ভারত কিংবা তথাকথিত পশ্চিমা শক্তির চাপে যে বিএনপি সরকার নমনীয় হবে না সেটা প্রমাণিত। তাহলে আর কোন ‘ঐশীশক্তির’ আশায় কর্মীদের বিপদের মুখে রেখে আশার বাণী শোনাচ্ছেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">নেতারা বলছেন ’একাত্তরে পাকিস্তানও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছিল, ফলাফল―আওয়ামী লীগ দেশকে স্বাধীন করেই ফিরেছে। পঁচাত্তরের সেটব্যাক থেকেও ২১ বছর পর ফিরেছে। ইনশাআল্লাহ আবারও জনগণের ভালোবাসায় সগৌরবে ফিরবে’। তারা যদি মনে করেন ‘এবার ২১ বছর লাগবে না, সবে তো দেড় বছর হলো’। তাহলে তো তাদেরই বিজয় হচ্ছে, যারা গাল চেগিয়ে বলেছিল এবং এখনও বলে―&#8221;আওয়ামী লীগ ৫০ বছরেও ফিরতে পারবে না, ২০ বছর লাগবে ফিরতে, ১০ বছরেও পারবে না, বাংলাদেশের রাজনীতিতে লীগ এখন অপ্রাসঙ্গিক!&#8221;</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/">নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে পড়া আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরবে?</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউনূস সরকারের গোপন চুক্তি, বাণিজ্যের নামে দাসত্বের চুক্তি</title>
		<link>https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/</link>
					<comments>https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 13 Feb 2026 19:56:54 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Economy]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[আমদানি]]></category>
		<category><![CDATA[কৃষক]]></category>
		<category><![CDATA[গোপন চুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[ট্যারিফ]]></category>
		<category><![CDATA[ড. মুহাম্মদ ইউনূস]]></category>
		<category><![CDATA[বাণিজ্য চুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[যুক্তরাষ্ট্র]]></category>
		<category><![CDATA[শুল্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=10390</guid>

					<description><![CDATA[<p>৫৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সর্বনাশ করে দিলেন ইউনূস সরকার ও তার বাহিনী। চুক্তির সুদূরপ্রসারী কুফলে আগামীতে খাদ্যের পুরোটাই আমদানিনির্ভর...</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/">নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউনূস সরকারের গোপন চুক্তি, বাণিজ্যের নামে দাসত্বের চুক্তি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সর্বনাশ করে দিলেন ইউনূস সরকার ও তার বাহিনী। দেশের অবহেলিত কৃষকরা কোনো প্রতিদান ছাড়াই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে কোটি মানুষের অন্ন জুগিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এই চুক্তির সুদূরপ্রসারী কুফলে আগামীতে হয়তো আঠারো কোটি মানুষের খাদ্যের পুরোটাই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে এবং কৃষকেরা হয়ে যাবেন বেকার, দরিদ্র থেকে ভিখারি।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">দেশের আগাপাশতলা ধ্বংস করে শেষ যেটুকু বেঁচে ছিল তাও শেষ করে দিল পরজীবীরা। অভিনব কায়দায় নির্বাচনের দুই দিন আগে রাত ১০ টায় আমেরিকার সঙ্গে গোলামির সনদে সই করল দেশদ্রোহীরা। আমেরিকার সঙ্গে সই হওয়া বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হলে দেশটি থেকে সাড়ে চার হাজার শ্রেণির পণ্য আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক শূন্য করা হলো। চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই তা করতে হবে। বাকি ২ হাজার ২১০ শ্রেণির পণ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া পণ্যে যে রাজস্ব আদায় হয়, তার ৩৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক থেকে এবং ৬২ শতাংশ আসে বিভিন্ন কর থেকে তাও বন্ধ হয়ে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>বলা হচ্ছে চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮ শ্রেণির পণ্য রপ্তানিতে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। অথচ প্রকৃত সত্য হলো কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কাঁচামালে নির্মিত পণ্যে শূন্য শুল্ক হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও পাল্টা শুল্ক শূন্য হবে। সেক্ষেত্রে শুধু স্বাভাবিক শুল্ক দিতে হবে, বাংলাদেশের পণ্যের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সেই গড় শুল্ক হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ।</strong></p>



<figure class="wp-block-image size-full"><img decoding="async" width="770" height="470" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-and-Bangladesh-Yunus-delegate.jpg" alt="" class="wp-image-10392" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-and-Bangladesh-Yunus-delegate.jpg 770w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-and-Bangladesh-Yunus-delegate-300x183.jpg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-and-Bangladesh-Yunus-delegate-768x469.jpg 768w" sizes="(max-width: 770px) 100vw, 770px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">চুক্তি কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকেই এই সুবিধা কার্যকর করতে হবে বাংলাদেশকে। দ্বিতীয়ত, ১ হাজার ৫৩৮ শ্রেণির পণ্যে চুক্তি কার্যকরের দিন থেকেই শুল্ক ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক কমাতে হবে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ চার বছরে সমান হারে কমিয়ে পঞ্চম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে তা শূন্য করে ফেলতে হবে। তৃতীয়ত, ৬৭২ শ্রেণির বা ধরনের পণ্যে চুক্তি কার্যকরের প্রথম দিন থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমাতে হবে। বাকি শুল্ক ৯ বছরে ধাপে ধাপে কমিয়ে দশম বছরে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। চতুর্থত, ৪২২ শ্রেণি বা ধরনের পণ্যে বর্তমানে কাস্টমস শুল্ক শূন্য রয়েছে। এটা বহাল রাখতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কোনো ধরনের কোটা আরোপ করা যাবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যেসব অশুল্ক বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য যাতে প্রতিযোগিতা পড়ে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশকে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্কছাড় দেওয়ার ফলে রাজস্ব আদায় চাপে পড়বে। তার মানে যে শুল্ক-কর নামক রাজস্ব আসে, তাতে ধস নামবে। গার্মেন্ট সেক্টরের পরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে আমদানি শুল্ক থেকে। তা বন্ধ হওয়া মানে বিশাল রাজস্ব ঘাটতি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিটি আপাতদৃষ্টিতে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক কমানোর (২০% থেকে ১৯%) সুখবর বলে ধাপ্পাবাজী করলেও এর আড়ালে রয়েছে বিশাল ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানিতে শুল্ক শূন্য করা হয়েছে, যা আসলে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করে এবং বাংলাদেশি পণ্যে ৩৪% শুল্কের বোঝা বজায় থাকবে।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="592" height="382" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/trade-deal-protho-alo.jpg" alt="" class="wp-image-10393" style="width:827px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/trade-deal-protho-alo.jpg 592w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/trade-deal-protho-alo-300x194.jpg 300w" sizes="(max-width: 592px) 100vw, 592px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">শুল্ক ছাড়ের শর্ত হিসেবে বাংলাদেশকে মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে হবে। এর ফলে মার্কিন তুলা আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়াবে। শুল্ক কমানোর শর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উড়োজাহাজ ও অন্যান্য পণ্য কেনার শর্তও মেনে নিতে হয়েছে। চূড়ান্ত বিচারে এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য শুল্ক সুবিধা নয়ই বরং যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও পণ্যের বাজার একচেটিয়া করার বড় সুযোগ দেয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রকে, যেখানে বাংলাদেশ নামমাত্র সুবিধা পেয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ইতোমধ্যে এই রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ART) চুক্তির শর্তাবলী এবং প্রকৃত লাভ-ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে &#8216;শুভঙ্করের ফাঁকি&#8217; বা অসম চুক্তির অভিযোগ উঠেছে। সেগুলো কেমন?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>১।</strong> চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক (Reciprocal Tariff) মাত্র ১ শতাংশ কমে ২০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নেমেছে। এত বড় একটি চুক্তির বিনিময়ে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক হ্রাস উল্লেখযোগ্য অর্জন নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>২।</strong> মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে &#8216;শূন্য শুল্ক&#8217; সুবিধা পাওয়া যাবে কেবল তখনই, যদি সেই পোশাক তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু (MMF) ব্যবহার করা হয়। এতে বাংলাদেশের স্থানীয় তুলা উৎপাদনকারী ও অন্যান্য দেশ থেকে কম দামে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বন্ধ হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৩।</strong> শুল্ক সামান্য কমানোর বিনিময়ে বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। যার ফলে এই পণ্য অন্য কোনো দেশ থেকে সস্তায় পেলেও কেনা যাবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৪।</strong> বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষি পণ্যের যেমন: গরুর মাংস, পোল্ট্রি, দুগ্ধজাত পণ্য, এবং রাসায়নিক সারের জন্য বাজার উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্প এবং প্রান্তিক কৃষকরা হুমকির মুখে পড়ল।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৫।</strong> বাংলাদেশ এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং FDA সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরাসরি কিনতে বাধ্য থাকবে। এতে বাংলাদেশের BSTI-এর কর্তৃত্ব শেষ হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৬।</strong> চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী জনসম্মুখে প্রকাশের আগেই তড়িঘড়ি করে সই করায় জনগণ জানতেও পারল না কীভাবে তাদের উপকারের কথা বলে চরম সর্বনাশ করা হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৭।</strong> আমেরিকান জেনোমেডিক্যালি মডিফায়েড (GM) খাদ্য ও বীজ আমদানির ফলে বাংলাদেশের কৃষি ও জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী সর্বনাশ হবে, যেমনঃ</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(ক)</strong> জিএম বীজের পেটেন্ট থাকবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর হাতে। একবার এই বীজ চাষ শুরু করলে কৃষকরা আগের মতো নিজেদের বীজ সংরক্ষণ করতে পারবেন না। প্রতি বছর চড়াদামে নতুন বীজ কিনতে তারা আমেরিকান কোম্পানির ওপর স্থায়ীভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(খ)</strong> আমেরিকান জিএম ফসলের পরাগরেণু বাতাসের মাধ্যমে স্থানীয় দেশি ফসলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, যাকে বলে- Genetic Pollution। এতে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী দেশি জাতের বীজগুলো নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একসময় ধান্ধাবাজ ফরহাদ মজহার এই জিএম ফুড ও জিএম সীডের বিরোধীতা করে লম্বা লম্বা আর্টিকেল লিখতেন। ‘নয়াকৃষি’ নামক লোক দেখানো আন্দোলন করতেন। আজকে তারই স্ত্রী যে সরকারের উপদেষ্টা, তার সেই পছন্দের সরকার উমিচাঁদ-রায়দুর্লভ-জগতশেঠের মত কামিম বাজার কুঠিতে বসে আমেরিকার কাছে বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষকের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(গ)</strong> আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের মতে জিএম খাদ্যে এমন কিছু প্রোটিন বা জিনগত পরিবর্তন থাকে যা মানুষের শরীরে অ্যালার্জি, লিভার বা কিডনির ক্ষতি এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(ঘ)</strong> &#8216;বিটি&#8217; প্রযুক্তির ফসল চাষের ফলে নির্দিষ্ট কিছু পোকা ওই বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ফলে পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(ঙ)</strong> বাংলাদেশ বর্তমানে অনেক ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে বাজার উন্মুক্ত করে দিলে এবং বিদেশি বীজের আধিপত্য তৈরি হলে দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা অন্য দেশের বাণিজ্যিক নীতির ওপর জিম্মি হয়ে পড়বে।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="662" height="824" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-Trade-Department-Post.jpg" alt="" class="wp-image-10394" style="width:840px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-Trade-Department-Post.jpg 662w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-Trade-Department-Post-241x300.jpg 241w" sizes="(max-width: 662px) 100vw, 662px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">এইসব মারাত্মক জরুরি বিষয় বিবেচনা, দেশের কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, দেশের কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিত করা এবং নিজেদের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের সুরক্ষার জন্য ভারত তাদের বাজারে আমেরিকার জিএম পণ্য জিএম সীড ঢুকতে দেয়নি। ৫০% ট্যারিফের চাপ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকা বিভিন্নভাবে চাপ দিয়েও ভারতকে রাজি করাতে পারেনি। আর আমাদের পরগাছা প্রবাসী দেশদ্রোহীরা হাসতে হাসতে দেশের কৃষি ও কৃষকের সমাধি রচনা করে দিল ব্যক্তিগত লাভের আশায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>কি মনে হয়? বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে এই চুক্তি বাতিল করে দেবে? পারবে? আসুন দেখা যাক শর্ত কি বলে?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি পর্যালোচনার আইনি সুযোগ থাকলেও এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট বাতিলের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>প্রথমতঃ </strong>সাধারণত প্রতিটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতেই ‘টার্মিনেশন ক্লজ’ বা বাতিলের নিয়ম থাকে। যদি চুক্তিতে এমন কোনো ধারা থাকে যে নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশে (যেমন ৬ মাস বা ১ বছর) যেকোনো পক্ষ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, তবে পরবর্তী সরকার আইনিভাবেই এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>দ্বিতীয়তঃ</strong> আন্তর্জাতিক আইন বা Vienna Convention on the Law of Treaties-এর অধীনে যদি কোনো চুক্তি জবরদস্তি, ভুল তথ্য প্রদান বা দেশের স্বার্থের চরম পরিপন্থী প্রমাণিত হয়, তবে নতুন সরকার তা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। কিন্ত্র এই চুক্তি বাতিল করলে মার্কিন বিনিয়োগকারী বা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতি হয়, তবে তারা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা করবে। এতে বাংলাদেশকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হবে। এর ফলে বাংলাদেশি পোশাকের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ বা জিএসপি সুবিধা পাওয়ার আশা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>অর্থাৎ ধরে নেয়া যায় আগামী কোনো সরকারই এই চুক্তি বাতিলের কথা মাথায়ও আনবে না। তাতে দেশের যত বড় সর্বনাশ হোক না কেন।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">শুল্ক সামান্য কমানোর বিনিময়ে বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি (LNG) এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য প্রায় ৩০-৩৫ হাজার কোটি টাকার ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার সম্মতি, মার্কিন কৃষি ও শিল্প পণ্যের জন্য বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত করা, স্থানীয় খামারিদের ঝুঁকিতে ফেলা, বাংলাদেশকে ভূ-রাজনৈতিকভাবে মার্কিন বলয়ের দিকে ঠেলে দেয়া, ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়ার সাথে জ্বালানি বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ বন্ধ করা হলো এই এক ননডিসক্লোজার রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট সই করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এটা দেশের কফিনে ইউনূস গংয়ের সবচেয়ে বড় পেরেক। সামগ্রিকভাবে চুক্তিটি নিয়ে খুব সংক্ষেপে যে বিপদের কথা বলা হয়েছে, প্রকৃত বিপদ এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সেসব বিস্তারিত জানলে যে কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিকের রাতের ঘুম উড়ে যেতে বাধ্য।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">কেউ জানে না এটাই শেষ পেরেক কীনা? হয়ত সামনের দিনে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর দাসত্বের কোনো চুক্তিও করে বসবে ইউনূসের সরকার। নির্বাচিত হতে যাওয়া বিএনপি কিংবা জামাত এবং অন্যান্য রাজনীতিবিদ নামক দেশ বিক্রির ভাগীদাররা নীরব দর্শকের মত বসে বসে দেখবে। আমাদের কোটি কোটি কৃষক-শ্রমিক উদয়ান্ত পরিশ্রম করে দিন শেষে ভূখা পেটে ভাগ্যকে দায়ী করে উপর দিকে কারো কাছে বিচার দেবে। তাদের সেই সর্বশান্ত হওয়া গগনবিদারী চিৎকারের মধ্যেই সমাজের এইসব পরগাছা দেশদ্রোহীরা কোটি কোটি ডলার পাচার করে দুনিয়াতেই নিজেদের বেহেশত বানিয়ে নেবে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/">নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউনূস সরকারের গোপন চুক্তি, বাণিজ্যের নামে দাসত্বের চুক্তি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অস্থিরতায় সরকার, থেমে নেই দেশবিরোধী চুক্তি</title>
		<link>https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/</link>
					<comments>https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 09 Feb 2026 16:31:08 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Economy]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[DP World]]></category>
		<category><![CDATA[চুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[ডঃ ইউনুস]]></category>
		<category><![CDATA[দেশবিরোধী]]></category>
		<category><![CDATA[নিউমুরিং টার্মিনাল]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন]]></category>
		<category><![CDATA[বন্দর]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=10279</guid>

					<description><![CDATA[<p>টেন্ডার ছাড়াই টর্মিনাল লিজ দেওয়া হচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে, যার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কুখ্যাত অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সাথে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/">অস্থিরতায় সরকার, থেমে নেই দেশবিরোধী চুক্তি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>একটা অবৈধ জনবিচ্ছিন্ন নিন্দিত সরকার এত ক্ষমতা পায় কোথায়? জেনারেল ওয়াকারের নেতৃত্বে সেনাদের একাংশ এই সরকারের ‘পাহারাদার’। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট এক ভাষণে ‘দেশের জনগণের দায়িত্ব আমি নিলাম, আমার উপর ভরসা রাখুন’ বলে তিনি ওয়াদা ভঙ্গ করে ইউনূসের ইন্টেরিমকে আগলে রেখেছেন এক ধরণের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ডেমো দেখিয়ে। ইন্টেরিমের দ্বিতীয় শক্তি-স্টাবলিশমেন্ট। স্টাবলিশমেন্টই মূলত রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রই কার্যত স্টাবলিশমেন্ট। আধুনিক যুগে ‘কাবাল’ পরিচালিত স্টাবলিশমেন্টের ক্ষমতা সাংসদ-মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী এমনকি প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি। এই স্টাবলিশমেন্টে দেশের সকল শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সমাজের ক্ষমতাবান ধনিকশ্রেণীর প্রতিনিধি আছে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">সেই স্টাবলিশমেন্টের একাংশ হঠাৎ করে নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন। তারা বুঝতে পারছেন গত দেড় বছর ধরে তারা যতো অপরাধ করেছেন তার জবাবদিহির সময় এসেছে গেছে। অন্যায়-অপরাধের কলসি পূর্ণ হলে হয় ভেঙে পড়ে নইলে উপচে পড়ে। দেশের প্রধার দলটিকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে নির্বাচনের বাইরে রেখে আগামী চারদিন পর যে ‘পাতানো’ নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা যে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, এবং তার ফলে যে জনঅসন্তোষ শুরু হবে, যে এনার্কি শুরু হবে তা সামলাতে পারবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ কারণে শীর্ষ কর্মকর্তাদের একাংশ একের পর এক ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট জমা নিয়ে ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিয়ে দেশ ছাড়তে চাইছেন। বিস্ময়করভাবে এই তালিকায় নয় জন উপদেষ্টা, একাধিক রাজনৈতিক নেতা, সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের সমর্থকসহ আইজিপিও আছেন!</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এই যে তারা আগাম বিপদের গন্ধ পাচ্ছেন তার পেছনের কারণ কি?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>১) </strong>গত বছর নভেম্বর মাসে পোর্টের লালদিয়া টার্মিনাল লিজ দেওয়া হয় ডেনমার্কের ‘এপিএম টার্মিনালস’, পানগাঁও দেওয়া হয় সুইজারল্যান্ডের ম্যাডলক এসএ’কে। এর পর নিউমুরিং টার্মিনাল লিজ দেওয়া হচ্ছে দুবাই ভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে। এর জন্য কোনো টেন্ডার, যাচাই-বাছাই-মতামত কিচ্ছু করা হয়নি। এ যেন পৈত্রিক সম্পত্তি, যখন খুশি যার-তার কাছে লিজ বা বিক্রি করা যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>আলোচিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের মালিক সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আফ্রিকার জিবুতিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনার বিরোধ রয়েছে। সেখানে যে শর্তে তাদের কাজ দেওয়া হয়েছিল, তারা সেটি ভঙ্গ করে। জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কা থেকে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সুযোগ দেননি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। রাজনৈতিক চাপে বাধ্য হয়ে তখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে।</strong></p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="aligncenter size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="1024" height="448" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port-1024x448.webp" alt="বিরোধিতা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্ব বিদেশিদের দেয়ার কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।" class="wp-image-4734" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port-1024x448.webp 1024w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port-300x131.webp 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port-768x336.webp 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port.webp 1200w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption class="wp-element-caption"><em>চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর। ছবি : ডয়চে ভেলে</em></figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করেছে হাইকোর্ট। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রূপ নেয়। এই ধর্মঘট গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে স্থগিত করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৫ শ্রমিক নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তে দুদককে চিঠি দেওয়া হয়। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দর অচলের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। চট্টগ্রাম বন্দরে আবার অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে বাজারে পণ্যের দাম হু হু করে বাড়বে। বিজিএমইএ নেতারা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো জাহাজীকরণ না হলে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে পারেন। ব্যবসায়ীদের বিশাল অঙ্কের ডেমারেজ চার্জ গুনতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম) জানায়, বর্তমানে বন্দরে আটকা থাকা রপ্তানি পণ্যের মূল্য প্রায় ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার। তা সময়মতো সরবরাহ করতে না পারলে ইউরোপীয় ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে পারেন, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলবে। এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>২</strong>) নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আদ্দোর নেতৃত্বে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের ১১ সদস্য জাপার একাংশেরসঙ্গে বৈঠক করেছন। সেখানে জাপা নির্বাচনে ‘নিরপেক্ষতা নেই’ বলে নালিশ দিয়েছেন। এই দলটি পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের তিন নেতা- সজীব ওয়াজেদ জয়, ড. সেলিম মাহমুদ ও জাহানারা আরজুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জয় জানিয়েছেন-সন্ত্রাসদমন আইনে একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না। এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন কমনওয়েলথ টিম।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="815" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-815x1024.jpg" alt="বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের মন্তব্য" class="wp-image-10281" style="aspect-ratio:0.7959076958053882;width:468px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-815x1024.jpg 815w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-239x300.jpg 239w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-768x965.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-1223x1536.jpg 1223w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election.jpg 1630w" sizes="(max-width: 815px) 100vw, 815px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৩)</strong> ৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই সরকারের ‘পক্ষের প্রতিষ্ঠান’ সিপিডি এক সেমিনারে বলেছে ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হলে সে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ হবে না। আওয়ামী লীগকে তো গতকাল নিষিদ্ধ করা হয়নি। ২০২৫ সালের ১২ মে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমস্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সিপিডি সেসব জানে। এমনকি তার আগে থেকেও জানে। প্রশ্ন হলো এতদিন পর নির্বাচনের ঠিক চারদিন আগে কেন সিপিডি এই গুরুতর প্রশ্ন তুলল? তবে কি সিপিডি ভবিষ্যতে রিভেঞ্জ বিভীষিকা অনুমান করতে পারছে?</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৪)</strong> আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। তারা স্পষ্ট করেই বলেছে-দেশের সিংহভাগ ভোটারের ভোটদানের অধিকার বঞ্চিত করা হলে নির্বাচন সর্বজন গৃহিত হবে না বরং প্রশ্নবিদ্ধ হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৫)</strong> জামায়াতের আমীর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে ‘মিলেমিশে কাজ করা’র আহ্বান রাখেন। বিএনপি জামায়াতের এই প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপি কোনোরকম সমঝোতায় যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে করে জাময়াতের চেয়েও বেশি অস্বস্তিতে পড়েছেন সরকারের চার উপদেষ্টা। তারা মনে করছেন ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরণের আইনবহির্ভূত অ্যাকশন নিয়েছিলেন তারা। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তো তাদের বিপদ হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৬)</strong> উপদেষ্টাদের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারের মিত্র বলে পরিচিত এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চের হঠাৎ যুদ্ধংদেহী আচরণের হেতু খুঁজে পাচ্ছেন না। ইনকিলাব মঞ্চের দাবীর প্রতি পুলিশি অ্যাকশন এবং দুদিন বন্ধ রেখে ৮ তারিখে আবার তারা যমুনা ঘেরাও করার কর্মসূচি দেওয়ায় ওই উপদেষ্টাগণের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হচ্ছে। এতে করে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৭)</strong> ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনটি ইস্যু নিয়ে আন্দোলন জোরালো হতে পারে। পরিস্থিতি হয়ে উঠতে পারে অগ্নিগর্ভ। (ক) চট্টগ্রাম বন্দরের লিজ নিয়ে আন্দোলন তীব্র হয়ে বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে যেতে পারে। দেশের মোট রফতানির ৯১ শতাংশ হয় এই বন্দর দিয়ে। (খ) সরকারি কর্মকর্তাদের পে-স্কেল বাস্তবায়ন আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। গতকালই পুলিশ তাদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর তারা আজ আবার যমুনা অভিমুখি মিছিলের ডাক দিয়েছে। এই আন্দোলনে সচিবালয় ও অন্যান্য সেবাদান প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যোগ দিতে পারে। তালা ঝুলতে পারে সচিবালয়ে। উপদেষ্টাদের অনেকে মনে করেন এমনটা হলে কোনোভাবেও নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কয়েকদিন আগে এক উপদেষ্টার সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের একটি বৈঠক হয়েছিল। উপদেষ্টা তাদের যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, সেখান থেকে তিনি সরে এসছেন। নির্বাচনের যখন মাত্র চারদিন বাকি, তখন এই তিনটি বড় ধরনের আন্দোলন, মিটিং-মিছিল-ঘেরাও-অবস্থান কর্মসসূচি সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। এইসব অস্থিরতা দমন করা যে সরকারের পক্ষে সম্ভব না সেটা সরকারের একাধিক উপদেষ্টা, পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন। </p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="819" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-819x1024.jpg" alt="" class="wp-image-10282" style="aspect-ratio:0.7998119564365744;width:464px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-819x1024.jpg 819w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-240x300.jpg 240w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-768x960.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-1229x1536.jpg 1229w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election.jpg 1638w" sizes="(max-width: 819px) 100vw, 819px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এতসব অস্থিরতার মধ্যেও আবার সরকার একটার পর একটা দেশবিরোধী চুক্তি করে চলেছে। চীনের সঙ্গে সামরিক চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে ৫১ টি দেশের প্রতিনিধিদের সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে নতুন ১২১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির পরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বিষয়ে নিজেরা জড়িত না হয়ে ভারতকে ‘দেখতে’ বলেছে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">বিতর্কীত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঠিক আগ দিয়ে ‘প্রতিপালিত’ ইনকিলাব মঞ্চ, ‘অনুগত’ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ‘পক্ষের’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ‘ব্যালান্স করা’ কমনওয়েলথ যার যার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ইউনূসের ওপর থেকে। তার বশংবদ উপদেষ্টা গংয়ের অর্ধেকের বেশির পরিবার দেশ ছেড়েছে। তাদের অনেকেই লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে ব্যক্তিগত পাসপোর্টে পশ্চিমা দেশগুলোর ভিসা লাগিয়ে বিমানে ওঠার অপেক্ষা করছে। পুলিশের আইজিসহ বহু কর্মকর্তা নিজেদের সেইফ একজিটের ব্যবস্থা করে ফেলেছে। মোটের ওপর ইউনূসের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর লোকজনসহ ব্রেড-বাটার খাওয়া বসন্তের কোকিলরা ক্ষমতা পেয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে এখন ভয় পাচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এমতাবস্থায় নিশ্চিতভাবেই ইউনূস ঘরে-বাইরে একা হয়ে পড়েছেন। তার সকল শক্তির উৎসগুলো একে একে নিভে যেতে শুরু করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তিন গোঁ-ধরে নির্বাচন করতে পারলেও তার মুক্তি নাই, না পারলেও মুক্তি নাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঠিক এমন টালমাটাল অবস্থায় আওয়ামী লীগ যদি তাদের নেতা-কর্মীদের সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘোষণা দেয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই আগুনে ঘি পড়তে যাচ্ছে। জয়ের ভাষ্যে বা শেখ হাসিনার একাধিক অডিও ঘোষণায় তেমন আলামত স্পষ্ট হচ্ছে। এখন কি করবে জামায়াত-বিএনপি-এনসিপি? পরস্পরের সঙ্গে আলিঙ্গনের বাস্তবতা শেষ। এখন যেটা হতে পারে-চর্তুমুখি সংঘাত। সেটা এমনই ক্রিটিক্যাল যে পক্ষ-বিপক্ষ অনুসরণ করাও কষ্টকর। একদল প্যারাসাইট দেশটাকে এমন এক অনিশ্চিত অগ্নিগর্ভ করে তুরেছে যেখানে কেউই আর নিরাপদ নয়।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/">অস্থিরতায় সরকার, থেমে নেই দেশবিরোধী চুক্তি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আশিক ম্যাজিক ও আরব্য রজনীর &#8216;বিনিয়োগ&#8217; কেচ্ছা!</title>
		<link>https://nenews.news/bida-chairman-ashik-chowdhury-biniyog/</link>
					<comments>https://nenews.news/bida-chairman-ashik-chowdhury-biniyog/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Anamul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 08 Feb 2026 13:04:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Economy]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[অন্তবর্তীকালীন সরকার]]></category>
		<category><![CDATA[আশিক চৌধুরী]]></category>
		<category><![CDATA[চেয়ারম্যান]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাহী]]></category>
		<category><![CDATA[বাণিজ্য]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বিডা]]></category>
		<category><![CDATA[বিনিয়োগ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=10239</guid>

					<description><![CDATA[<p>দেশের বিনিয়োগ পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আশিক চৌধুরী দাবি করছেন ‘নিট বিনিয়োগ’ ঊর্ধ্বমুখী। বাস্তবতা বলছে বিনিয়োগ প্রস্তাব ৫৮ শতাংশ কমেছে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/bida-chairman-ashik-chowdhury-biniyog/">আশিক ম্যাজিক ও আরব্য রজনীর &#8216;বিনিয়োগ&#8217; কেচ্ছা!</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>বইয়ের আলমারিতে রূপকথা আর ক্লাসিক সাহিত্যের ভিড়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার আমলে একটি নতুন নাম যুক্ত হয়েছিল, আশিক চৌধুরীর সিভি। যারা সেই সিভির পাতা উল্টেছেন, তারা নাকি এর ‘ভার’ সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়েছেন। আরব্য রজনীর ১০০০ গল্পের মতো সেই প্রোফাইলের পরতে পরতে কেবলই সাফল্যের ঝিলিক। তার আশিকানরা (ভক্তকুল) ফেসবুকের দেয়ালে দেয়ালে এমনভাবে স্ট্যাটাস দিচ্ছিলেন, যেন আশিক ভাই বিডার চেয়ারে বসা মানেই পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যাবে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের চেয়েও বেশি বিনিয়োগে হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু মাস যায়, বছর ঘোরে, বিনিয়োগের জাহাজ তো দূরে থাক, কাগজের নৌকাও পটুয়াখালীর খালে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের ‘মেধাবী’ আশিক সাহেব দায়িত্ব নিয়েই ঝোলা থেকে বের করলেন নানা কৌশলী শব্দ। ‘এফডিআই হিটম্যাপ’, ‘ডাটা ড্রিভেন স্ট্র্যাটেজি’, সব যেন সায়েন্স ফিকশন মুভির সংলাপ। দেশের বিনিয়োগকারীরা যখন হামলা-মামলা আর ব্যাংকের ‘দেউলিয়া’ তকমা নিয়ে নাভিশ্বাস তুলছেন, তখন তিনি হাসিমুখে শোনালেন এক অলৌকিক গল্প। তিনি বললেন, বিনিয়োগ নাকি বেড়েছে! এটাকে তিনি বলছেন ‘মিরাকল’।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হ্যাঁ, মিরাকলই তো! কারণ সাধারণ মানুষ যেখানে দেখে নতুন বিনিয়োগ (ইকুইটি ক্যাপিটাল) গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, সেখানে আশিক সাহেব জাদুর চশমা দিয়ে দেখছেন ‘নিট বিনিয়োগ’ ঊর্ধ্বমুখী। পুরোনো কোম্পানিগুলোর পুনঃবিনিয়োগ করা মুনাফাকেই ‘নতুন জোয়ার’ বলে চালিয়ে দেওয়াটা সত্যিই আরব্য রজনীর সেই সিন্দাবাদের গল্পের মতো রোমাঞ্চকর। যেখানে বাস্তবতা বলছে বিনিয়োগ প্রস্তাব ৫৮ শতাংশ কমেছে, সেখানে বিডার জাদুকর বলছেন, ওগুলো তো ছিল ‘ভুয়া’ নিবন্ধন, আমি তো আসল জহুরি!</p>



<p class="wp-block-paragraph">এপ্রিলের সেই চার দিনের জাঁকজমকপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলনের কথা মনে আছে? ৫০টি দেশের প্রতিনিধি, পাঁচ তারকা হোটেলের এলাহি কারবার আর চারদিকে শুধু ‘আশিক ম্যাজিক’-এর জয়জয়কার। সম্মেলন শেষে ঘোষণা এলো ৩,১০০ কোটি টাকার প্রস্তাবের। অথচ দেশের একেকজন ব্যবসায়ীই নাকি তিন-চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। যাদের ঘরে খাবার আছে, তাদের দাওয়াত না দিয়ে সাহেব সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারের ডাইনোসরদের পেছনে ছুটলেন। ফল যা হওয়ার তাই হলো, গর্জন অনেক হলো, কিন্তু এক ফোঁটা বৃষ্টিও বাংলার জমিনে পড়ল না।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই ‘পোস্টার বয়’ আমলাদের বাইরে থেকে এসেছিলেন একরাশ আশা নিয়ে। লোকে ভেবেছিল তিনি এসে সিস্টেমের জং ধরা কলকবজা ঠিক করবেন। কিন্তু তিনি ব্যস্ত রইলেন বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া আর হাই-প্রোফাইল মিটিংয়ের ছবি তোলায়। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, ব্যাংক ঋণের সুদ ১৫ শতাংশের উপরে, এদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। পাড়ার মোড়ের দোকানদারও জানে স্থিতিশীলতা ছাড়া কেউ টাকা ঢালে না, কিন্তু আমাদের হাই-ফ্লাইং চেয়ারম্যান সাহেব এফডিআই হিটম্যাপ দিয়ে মশা তাড়াতে ব্যস্ত।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">সবচেয়ে বড় চমক হলো, দুই বছর আগে যে পাকিস্তান আমাদের ধুলোবালি দেখত, তারাও নাকি এখন আমাদের চেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে। আশিকানরা হয়তো বলবেন, “এটাও আশিক ভাইয়ের কোনো সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান।” আসলে আরব্য রজনীর গল্পের শেষে যেমন শেহজাদ বেঁচে যান, তেমনি আমাদের আশিক সাহেবও সম্ভবত তার ‘লজিস্টিকস ডিল’ আর সাবলীল ইংরেজি দিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারী যারা ‘রাজনৈতিক সরকারের’ প্রহর গুনছেন, তাদের জন্য এই ‘সিভি-সর্বস্ব’ শাসনকাল কেবল এক দীর্ঘশ্বাস হয়েই থাকবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আপনারা যারা কলামটি পড়ছেন, প্লিজ কেউ আশাহত হবে না, নৈরাশ্যের মাঝেও আশার আলো আছে, বিনিয়োগের চাকা না ঘুরলেও আশিক চৌধুরীদের প্রোফাইলের চাকা ঠিকই বনবন করে ঘুরবে। দেশ বিনিয়োগে ভাসুক না ভাসুক, অন্তত আশিকানদের স্ট্যাটাসের বন্যায় ফেসবুক তো ভেসে যাবে… এটাই বা কম কী? তা দেশ সে গোল্লায় যাক!</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/bida-chairman-ashik-chowdhury-biniyog/">আশিক ম্যাজিক ও আরব্য রজনীর &#8216;বিনিয়োগ&#8217; কেচ্ছা!</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/bida-chairman-ashik-chowdhury-biniyog/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এপস্টেইন ফাইল: নাম থাকা মানেই অপরাধের প্রমাণ নয়</title>
		<link>https://nenews.news/jeffrey-epstein-file-oporadher-proman-noy/</link>
					<comments>https://nenews.news/jeffrey-epstein-file-oporadher-proman-noy/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[লুসিড ড্রিম]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 05 Feb 2026 10:42:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[World]]></category>
		<category><![CDATA[আমেরিকা]]></category>
		<category><![CDATA[জেফ্রি এপস্টেইন]]></category>
		<category><![CDATA[ডঃ ইউনূস]]></category>
		<category><![CDATA[নারী পাচার]]></category>
		<category><![CDATA[পাম দ্বীপ]]></category>
		<category><![CDATA[বিল ক্লিনটন]]></category>
		<category><![CDATA[যৌন]]></category>
		<category><![CDATA[লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ]]></category>
		<category><![CDATA[হিউম্যান ট্রাফিকিং]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=10121</guid>

					<description><![CDATA[<p>এপস্টেইন আলোচনায় আসেন কারাগারে আত্মহত্যার খবর প্রকাশের পর। শ্বাসরোধ করে হত্যার লক্ষণ বেশি দাবি করেছিলেন পরিবারের ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট...</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/jeffrey-epstein-file-oporadher-proman-noy/">এপস্টেইন ফাইল: নাম থাকা মানেই অপরাধের প্রমাণ নয়</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>যুক্তরাষ্ট্রের মানি লন্ডারিং ও যৌন অপরাধে জড়িত জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের সাথে যুক্ত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় পাম বিচে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৮ সালে জেফ্রি এপস্টেইন এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ২০১৯ সালে কারাগারে জেফ্রি এপস্টেইন এর রহস্যজনক মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। এর তদন্ত করতে গিয়ে এপস্টাইনের সম্পত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ এই নথি ও ইমেইল সংগ্রহ করা হয়।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এপস্টেইন ছিলেন একজন বিকৃত মানসিকতার যৌন রোগী। তার ৭৫ একরের একটি পাম দ্বীপে এই অন্ধকার রাজত্ব ছিলো। সেখানেই মূলত নারীদের হিউম্যান ট্রাফিকিংয়ের মাধ্যমে ধনী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের উপহার দেয়া হতো। ডঃ ইউনূসের বন্ধু বিল ক্লিনটনের সেখানে যাতায়াত ছিল নিয়মিত। ইউনূসের আরেক বন্ধু বাংলাদেশের ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আমেরিকার নির্বাচনে যে রিচার্ডসকে পাচ হাজার ডলার নির্বাচনী ফান্ড দিয়েছেন , তারও সেখানে যাতায়াত ছিলো। সেখানে যাতায়াত ছিলো মার্কিন অভিনেতা, অভিনেত্রী ও ব্রিটিশ ধনী ব্যবসায়ীদের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধনী বিল গেটসকে এক রাশিয়ান নারী দিয়ে এই নেটওয়ার্কের মধ্যে ফাঁসিয়ে দিয়েছিলেন এপস্টেইন। এপস্টেইনকে আপনি অন্ধকার জগতের এক ব্লাকমেইলার বলতে পারেন। তার এই বিলাস বহুল দ্বীপ ও অন্ধকার রাজত্ব নিয়ে আমেরিকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি আগ্রহ ছিলো। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে দমিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে গিয়ে ট্রাম্প এপস্টেইন নথি ফাঁস করে দিয়েছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এপস্টেইন খুব ভালো গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বুঝতেন। এই গণিতের মেধা অবৈধ পথে কাজে লাগিয়ে এপস্টেইন মাল্টি বিলিনিওর বনে যান। নিজের উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পাম দ্বীপে এক বিলাসবহুল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ধীরে ধীরে আমেরিকার রাজনীতির এক নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেন এপস্টেইন। গড়ে তুলেন অন্ধকারের এক এপস্টেইন সাম্রাজ্য। আমেরিকার রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে পাম দ্বীপে। মূলত এপস্টেইনের কাছে আমেরিকার বিভিন্ন রাজনীতিবীদ , ব্যাবসায়ীদের গোপন আমলনামা ছিলো। গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে এসব ভিডিও ও ছবি তুলে নিয়েছেন এপস্টেইন। নিজের উপার্জিত অর্থ , সাম্রাজ্য ও খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে এপস্টেইন রাতারাতি বনে যান ব্লাকমেইল জগতের এক অঘোষিত সম্রাট।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="768" height="402" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Epstein-1.jpg" alt="" class="wp-image-10166" style="width:840px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Epstein-1.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Epstein-1-300x157.jpg 300w" sizes="(max-width: 768px) 100vw, 768px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৭৬ সালে ডাল্টন স্কুলের গণিত শিক্ষক থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর বিশ্ববিখ্যাত ওয়াল স্ট্রিটের বিয়ার স্টার্নসের বিভিন্ন উচ্চ পদে চাকরি করে আশির দশকে নিজের এক বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি খুলে বসেন জেফরি এপস্টেইন। ২০০৫ সালে এক ১৪ বছরের কিশোরীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফ্লোরিডার পাম পুলিশ এপস্টেইন এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালে একটি বিতর্কিত চুক্তি ( Deal of the century) তথা শতাব্দীর সেরা চুক্তির জন্য এপস্টেইনকে ১৩ মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। তার প্রেমিকা গ্রিসলেন ম্যাক্সওয়েল এর ২০ বছরের সাজা হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এপস্টেইন মূলত আলোচনায় আসেন ২০১৯ সালে কারাগারের ভেতরে আত্মহত্যার কথা বলে যখন তাকে হত্যা করা হয়। এপস্টেইন আমেরিকার বিভিন্ন রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন গোপন তথ্য জানাতেন। এই কারণেই সম্ভবত তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এপস্টেইনের পরিবারের নিয়োগ করা ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ড. মাইকেল ব্যাডেন দাবি করেছিলেন যে, এপস্টেইনের ঘাড়ের যে হাড়গুলো (hyoid bone) ভেঙেছিল, তা আত্মহত্যার চেয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার (strangulation) লক্ষণের সাথে বেশি মিলে যায়। </strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এপস্টেইনের সম্পত্তির মধ্যে ছিল নিউ ম্যাক্সিকোর বিশাল র্যাঞ্চ, নিউইয়র্কের আলিশান ম্যানশন ও ক্যারিবিয়ান সাগরে ৭৫ একরের পেডোফাইল আইল্যান্ড। এই পেডোফাইল আইল্যান্ড ঘিরে গড়ে উঠে তার অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য। এটা ছিল তার একটি অন্ধকার জগৎ। কিন্তু সবাই তার এই অন্ধকার জগতের বিষয়ে জানতো না। এই অন্ধকার জগতের বাইরে তিনি ছিলেন আমেরিকান একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। আমেরিকা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি বিনিয়োগ করতেন। ক্লিনটনের জন্য তিনি তার ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ পাঠিয়েছেন। ইলন মাস্কের সাথে তার বিভিন্ন ইমেইল আদান প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। আমেরিকার একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে তার সাথে অনেকেই ছবি তুলবেন , তথ্য আদান-প্রদান হবে এসব একটি স্বাভাবিক বিষয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এপস্টেইনের ফাইলস এর একটি অংশ হচ্ছে লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ। এই দ্বীপ থেকেই এসেছে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য। এই দ্বীপে যাওয়ার জন্য এপস্টেইন হেলিকপ্টার ও নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ছিল। লাইব্রেরী, সিনেমা হল, জিমনেসিয়াম, নীল &#8211; সাদা ডোরাকাটা মন্দির সব ছিল সেখানে। কিন্তু এপস্টেইন ফাইলস মানেই শুধু এই পেডোফাইল আইল্যান্ড নয়। আমাদের পঙ্গপাল এই পেডোফাইল আইল্যান্ড নিয়েই পড়ে আছে। এজন্য এপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনার নাম আসতেই এদের ধমনিতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ ধ্বনি উঠতে থাকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>বাংলাদেশের প্রভাবশালী কারো সাথে সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিলো না এপস্টেইনের। মূলত বাংলাদেশ বিষয়ে এপস্টেইনকে ইমেইল পাঠাতো এক নরওয়েজিয়ান। নরওয়ের কোম্পানি গ্রামীণফোনের সাথে ব্যবসা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের। নরওয়ের ওই ব্যক্তির ইমেইল থেকেই ইউনূস ও শেখ হাসিনার বিষয়ে জেনেছেন এপস্টেইন। এপস্টেইন ফাইলে নাম এসেছে পাকিস্তানের ইমরান খানের। তার মানে এই নয় যে, ইমরান খান এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে উড়ে ক্লিনটনের মতো পেডোফিল আইল্যান্ডে গেছেন। এপস্টেইনের ফাইলে নাম এসেছে বিশ্বখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং-এর। যিনি মাত্র ২২ বছর বয়স থেকেই জটিল মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত। যার উঠা ও বসার পর্যন্ত ক্ষমতা নাই তিনি প্যাডোফিল আইল্যান্ডে গিয়ে কি ডিম পাড়বেন?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এপিস্টেইন পৃথিবী বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্লাকমেইল করার জন্য পুরো দ্বীপে অসংখ্য হিডেন ক্যামেরা দিয়ে বিভিন্ন নগ্ন ভিডিও ও ছবি ধারণ করতেন। স্টিফেন হকিংকে বিপদে ফেলার জন্য তিনি নগ্ন নারীর গল্প রচনা করেছেন। ইমরান খানের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন। শেখ হাসিনার সাথে এপিস্টেইন এর কখনো দেখাই হয়নি। শেখ হাসিনা একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করতেন এপস্টেইন। এই সংক্রান্ত বিষয়ে নরওয়ের সেই লোক এপস্টেইনকে ইমেইল করেছেন। নরেন্দ্র মোদীর একটি ব্যক্তিগত ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। তার মানে এই নয় যে নরেন্দ্র মোদী এপস্টেইনের পোডোফিল আইল্যান্ডে গিয়ে নাচানাচি করেছেন অথবা তার নীল সাদা ডোরাকাটা মন্দিরের আন্ডারগ্রাউন্ড সাউন্ড প্রুফ রুমে বসে নারী নির্যাতন করেছেন। এসব একমাত্র পঙ্গপালের পক্ষেই সম্ভব!</p>



<p class="wp-block-paragraph">অথচ পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে বেগম খালেদা জিয়ার দূর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও এই পঙ্গপালের দল স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাযা নিয়ে নেচেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট খামেনির পুত্র মুজতবা খামেনির লন্ডনে বিলাসবহুল সম্পদ ও আয়েশী জীবনের কথা পর্যন্ত এই পঙ্গপাল বিশ্বাস করে না। তাই এপস্টেইন ফাইলস, এপস্টেইন নোটবুক, ভিডিও ও ফটো এসব সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই পঙ্গপালের দল লাফায়। এপস্টেইনের সাথে শেখ হাসিনা , ইমরান খান অথবা নরেন্দ্র মোদী কারোই ছবি নেই। এসব হচ্ছে এপিস্টেইন নোটবুক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জেফরি এপস্টেইন এর সাথে মাইকেল জ্যাকসনের ছবি থাকলেও শেখ হাসিনার ছবি কেন নেই, এই বিষয়ে পঙ্গপালের মন ভীষণ খারাপ। তার ফাঁস হওয়া ত্রিশ লাখ নথিতে শেখ হাসিনার একটা ভিডিও ও ছবি নেই দেখে পঙ্গপাল মানসিক উন্মাদ হয়ে গেছে। কাজ না থাকলে খৈ বাজা স্বভাবের পঙ্গপালের দল তাই এপস্টেইনের টীমের সাথে শেখ হাসিনার যোগাযোগ নিয়ে গালগল্প ছাপছে। এই প্রসঙ্গে এপস্টেইনের সহযোগী লোসলি গ্রাফ বলেন, &#8220;কোন এক অজানা বিষয়ে জেফরি এপস্টেইন টীমের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টা কী, তা বলা হয়নি।&#8221; এখানে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম আসেনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শেখ হাসিনার মতো এমনি গল্পের ফাঁদ পাতা হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং নিয়ে। নরেন্দ্র মোদীর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের সাথে নাচ আলোচনায় এসেছে। একজন মানুষ নাচতেই পারেন। কিন্তু তা যদি হয় নরেন্দ্র মোদী, তবে বাংলাদেশের পঙ্গপাল তখন ইসরায়েলের বিচকেই পেডোফিল আইল্যান্ড ভেবে নেয়। বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও জলবায়ু প্রকল্প সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ ছিল জেফ্রি এপস্টেইনের। পাকিস্তানের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থায় বিনিয়োগ ছিল এপস্টেইনের। </p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এপস্টেইন ফাইলসে ডক্টর ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংক ও বিকাশ এসব পর্যন্ত উঠে এসেছে। নারী নির্যাতনকারী এপস্টেইনের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আমেরিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। গ্রামীণ ফাউন্ডেশন, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন এরা তো মায়ের পেটের ভাই। এদের মতো করেই নিজের এক কোম্পানি খুলে এপস্টেইন মানুষকে ব্লাকমেইল করতেন। ক্লিনটন এপস্টেইনের বন্ধু, ইউনূস ক্লিনটনের বন্ধু। তার মানে কি ধরে নিবো ইউনূস এপস্টেইনের পোডোফিল আইল্যান্ডে নারী পাচারের সাথে জড়িত?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>নিজেকে কখনো প্রশ্ন করেছিলেন &#8211; একসময় মাত্র ৩০০ ডলারের চাকরি করা ইউনূস কীভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মালিক হলেন?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">সম্প্রতি সারাবিশ্বে আলোচিত হচ্ছে জেফ্রি এপস্টেইন এর ৩০ লাখ নথির &#8220;এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সফারেন্সি অ্যাক্ট&#8221;। ১৯৭৬ সালে নারী পাচারকারী জেফ্রি এপস্টেইন বিনিয়োগ করেছিলেন আমেরিকার ব্যাংকিং খাতে। ১৯৭৪ সালে আমেরিকার ফুড পলিটিক্সের শিকার বাংলাদেশে ইউনূস তৈরি করেছিলেন গরীবের সম্পদ লুট করার &#8220;জোবরা প্রজেক্ট।&#8221; জেফ্রি এপস্টেইন তখন চাকরি করা শুরু করেছেন ওয়াল্ড স্ট্রীটের বায়ার্নসের সাথে। অল্প বেতনে ডাল্টন স্কুলে গণিতের চাকরি থেকে বহিস্কারের মাত্র ছয় বছরেই ১৯৮২সালে এপিস্টেইন খুলে বসেন নিজের এক বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি &#8220;জে এপেইস্টেন এন্ড কোং&#8221;। </p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>১৯৭৪ সালে &#8216;জোবরা প্রজেক্ট&#8217; শূরু করার মাত্র ৯ বছরের মাথায় এপস্টেইন এর মতো করে ইউনূস প্রতিষ্ঠিত করেন নিজের কোম্পানি &#8220;গ্রামীণ ব্যাংক&#8221;। ইউনূস ও এপস্টেইন দু&#8217;জনেই অর্থনীতি খুব ভালো বুঝেন। তাই এপস্টেইনের মতো ইউনূস তার প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করেছিলেন আমেরিকাকে। এদের দু&#8217;জনের এই উন্নতির পেছনে যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তা হচ্ছে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের সাথে তাই ইউনূসের গ্রামীণ ফাউন্ডেশনের এত সখ্যতা।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ইউনূস ২০০৬ সালে যে বছর নোবেল পুরস্কার পেলেন সেই একই বছর খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু নারী ধর্ষক এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিচার্ডসনকে মার্কিন নির্বাচনের জন্য ৫,০০০ মার্কিন ডলার অনুদান দেন।এর ঠিক এক বছর আগেই ২০০৫ সালে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে নিজের ৭৫ একরের পেডোফাইল আইল্যান্ডে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এপেস্টাইনের বিরুদ্ধে। </p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৯৩ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হয়ে এসেছিলেন ইউনূস ও এপস্টেইনের জন্য আশীর্বাদ। বিল ক্লিনটনের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে এপিস্টেইন পরিণত হন এক মাল্টি বিলোনিয়ার। ২০০২ সালে জনপ্রিয় নিউইয়র্ক টাইমস পর্যন্ত কিনে নিতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন। অপরদিকে ১৯৯৭ সালে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিল ক্লিনটনের প্রভাব কাজে লাগিয়ে নরওয়েজিয়ান কোম্পানির সাথে পার্টনারশিপে ইউনূস বাংলাদেশে নিয়ে আসেন গ্রামীণ ফোন। এর পেছনে অর্থায়ন ছিল দেশে দেশে সরকার পরিবর্তন করা ইহুদি জর্জ সোরসের বিনিয়োগ। সোরসের ওপেন ফাউন্ডেশন এবং ক্লিনটনের ক্লিনটন ফাউন্ডেশন আর ইউনূসের গ্রামীণ ফাউন্ডেশন এক হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। ইউনূস পরিণত হন এক অর্থনৈতিক দানবে।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="640" height="359" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Yunus-and-Clinton.jpg" alt="" class="wp-image-10167" style="width:840px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Yunus-and-Clinton.jpg 640w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Yunus-and-Clinton-300x168.jpg 300w" sizes="(max-width: 640px) 100vw, 640px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও মনিকা লিউনস্কির যৌন কেলেঙ্কারির কথা সারা বিশ্ব জানে। কিন্তু একজন যৌন নীপিড়ক কীভাবে শান্তির নোবেল খ্যাত ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যান এবং ২০২৪ সালে সেই ক্লিনটনের &#8220;ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ&#8221; সম্মেলনে ইউনূসকে সম্মানিত করা হলে ৫ই আগষ্টের আন্দোলন নিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে ইউনূস নিজ কন্ঠে স্বীকার করেন &#8220;The students revolution in Bangladesh was not organic but a meticulously designed agitation which did not came naturally.&#8221;</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">সত্য কখনোই গোপন থাকে না। বাংলাদেশ নিয়ে ইউনূসের এই মেটিকুলাসলি ডিজাইনড জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এক সময় গ্রামীণ ব্যাংকে ক্ষুদ্র বেতনের চাকরি করা ইউনূস এখন গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক। শুধু তাই নয় গ্রামীণ ফোনের ৪৪ শতাংশ শেয়ারের মালিকও হচ্ছেন এই ইউনূস। এর পেছনের বিনিয়োগ ইহুদি জর্জ সোরোস ও বিল ক্লিনটনের পরিবারের এতে কোন সন্দেহই নেই। এই মেটিকুলাস ডিজাইনের আমেরিকার মিলিয়ন ডলারের শেখ হাসিনা পতনের প্রজেক্ট ইউনূস তুলে দিয়েছিলেন ধর্ম ব্যবসায়ী ও জঙ্গী সংগঠন জামায়াত শিবিরের হাতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এপস্টেইনকে নিয়ে একসময় নিউইয়র্ক টাইমস বুদ্ধিজীবী হিসেবে প্রতিবেদন ছাপতো। আজ যেমন বাংলাদেশের ভেতর অশান্তির সৃষ্টি করা ইউনূসকে শান্তির নোবেল <strong>হিসেবে</strong> বাংলাদেশের মিডিয়া প্রশংসায় ভাসায়। কিন্তু রাশিয়ার ভেরা ফরেস্তেনকোকে বিয়ের প্রলোভনে ফেলে ইউনূসের অন্ধকার সমাজ্যের বিষয়ে মিডিয়া যেন একদম চুপ।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৯২ সালে এপস্টেইন আমেরিকার ম্যানহাটনে সবচেয়ে বড় বাড়ি কিনে আলোচনার এসেছিলেন। অন্যদিকে তার ঠিক এক বছর পর ১৯৯৩ সালে ডক্টর ইউনুস আলোচনায় এসেছিলেন ডক্টর কামালের সাথে &#8220;আমার দল&#8221; নামক রাজনৈতিক দল তৈরি করে। এই দু&#8217;জনের ক্ষমতা ও অর্থের উৎস ছিল ১৯৯৩ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া বিল ক্লিনটন। বিল ক্লিনটন ছিলেন এপস্টেইন ও ইউনূসের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইউনূসের ক্ষমতার উৎস সবসময় ছিল আমেরিকা। ইউনূস কখনোই বাংলাদেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করেননি। ইউনূস বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের এক দানব। এর মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের ব্লাকমেইল করতেন। মানি লন্ডারিং করার জন্য, ট্যাক্স হেভেনে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কর ফাঁকি দিতেন। একই মানি লন্ডারিং মামলায় এপস্টেইন অভিযুক্ত হয়েছেন আমেরিকায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভাবেন , প্লিজ ভাবতে থাকুন। অন্তত দেশটা বাঁচান।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/jeffrey-epstein-file-oporadher-proman-noy/">এপস্টেইন ফাইল: নাম থাকা মানেই অপরাধের প্রমাণ নয়</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/jeffrey-epstein-file-oporadher-proman-noy/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রাজনীতিতে হাসিনা যুগ সমাপ্তির বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা</title>
		<link>https://nenews.news/sheikh-hasina-bangladesh-rajniti-bastobota/</link>
					<comments>https://nenews.news/sheikh-hasina-bangladesh-rajniti-bastobota/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Juyel Raaj]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 01 Feb 2026 16:06:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[অবসান]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামী লীগ]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[বাস্তবতা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[শেখ হাসিনা]]></category>
		<category><![CDATA[সজীব ওয়াজেদ জয়]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=10062</guid>

					<description><![CDATA[<p>সংকটকালে তাঁকে বাদ দিয়ে দল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এমন জায়গায় আওয়ামী লীগ এখনো পৌঁছায়নি। তাই বাস্তব রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এখনো প্রাসঙ্গিক।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/sheikh-hasina-bangladesh-rajniti-bastobota/">রাজনীতিতে হাসিনা যুগ সমাপ্তির বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>আল জাজিরাকে দেয়া সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকারে “হাসিনা যুগের সমাপ্তি &#8221; প্রসঙ্গটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনি বিভ্রান্তিও কম নয়। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা কেবল একটি সময় বা পর্বের নাম নন, তিনি একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকারকে তাই ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বাস্তবতা হিসেবে নয়। রাজনীতিতে বক্তব্যের চেয়ে বাস্তব সংগঠন, কর্মীদের মনস্তত্ত্ব এবং ক্ষমতার কাঠামো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেসব বিচারে শেখ হাসিনা এখনো আওয়ামী লীগের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক বাস্তবতা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, শেখ হাসিনার রাজনীতি কেবল দলীয় নয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত। উন্নয়ন, অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় ছিলেন। এই অভিজ্ঞতার বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি করা আওয়ামী লীগের জন্য সহজ কাজ নয়। উত্তরাধিকার প্রশ্নে দলটি এখনো স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য কোনো কাঠামো দাঁড় করাতে পারেনি। ফলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যতই হোক, বর্তমান রাজনীতিতে শেখ হাসিনার বিকল্প দৃশ্যমান নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ শুধু একটি দল নয়। এটি একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, যার শিকড় ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দীর্ঘ পথচলায় দলটির নেতৃত্ব বারবার বদলেছে, কিন্তু ১৯৮১ সালের পর থেকে শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন সেই কেন্দ্রবিন্দু, যাকে ঘিরেই দলটি পুনর্গঠিত হয়েছে, ক্ষমতায় ফিরেছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্ব, সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গেছে।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="aligncenter size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="864" height="484" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Sajib-Wazed-Joy-and-Shrinivas-interview-at-Al-Jazeera.jpeg" alt="" class="wp-image-10067" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Sajib-Wazed-Joy-and-Shrinivas-interview-at-Al-Jazeera.jpeg 864w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Sajib-Wazed-Joy-and-Shrinivas-interview-at-Al-Jazeera-300x168.jpeg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/Sajib-Wazed-Joy-and-Shrinivas-interview-at-Al-Jazeera-768x430.jpeg 768w" sizes="(max-width: 864px) 100vw, 864px" /><figcaption class="wp-element-caption"><em>আল জাজিরাকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।</em></figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে আওয়ামী লীগের ভেতরে শক্তিশালী সিনিয়র নেতা আছেন, তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব বলয় আছে, রয়েছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সংগঠকরা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব বলয় শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বকেই কেন্দ্র করে কাজ করে। দলীয় সংকটে, বিভাজনের আশঙ্কায় বা কঠিন রাজনৈতিক মুহূর্তে শেখ হাসিনাই শেষ আশ্রয়। কর্মী-সমর্থকদের আবেগ ও বিশ্বাসের জায়গাটিও সেখানেই গিয়ে থামে। ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্ত নেতাকর্মীদের না মানার কারণে, এক প্রকার তাদের চাপের কারণে সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয়েছিলেন শেখ হাসিনা এবং তখন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার বাকী ইতিহাস আমাদের জানা।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। সেই সময় থেকে শেখ হাসিনা কার্যত এককভাবেই আওয়ামী লীগকে সংগঠন হিসেবে টিকিয়ে রেখেছেন। কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের একেবারে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত দলকে যেভাবে তিনি নিয়ন্ত্রণ ও সংযুক্ত করে রেখেছেন, তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। সাংগঠনিকভাবে দুর্বল, চাপগ্রস্ত এবং নানা দিক থেকে কোণঠাসা অবস্থায় থাকা একটি দলকে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাবেই সক্রিয় রাখা সম্ভব হয়েছে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এখানেই শেখ হাসিনার রাজনীতির দ্বৈত অবস্থান স্পষ্ট হয়। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী এবং বিপুল জনসমর্থন থাকা একটি দলের জন্য শেখ হাসিনা একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। শক্তি এই অর্থে যে, তাঁর নেতৃত্ব ছাড়া দলটি এখনো কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারছে না। আবার দুর্বলতা এই অর্থে যে, দলটি এখনো তাঁর বাইরে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যর্থ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতের ‘মাইনাস ফর্মুলা’ প্রয়োগের ইতিহাস নতুন নয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বলা যায়, শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কোনো উদ্যোগ কখনোই অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় সম্ভব হয়নি। বরং এমন চেষ্টা হলে সেখানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ অবধারিত হয়ে ওঠে। “হাসিনা যুগের সমাপ্তি” যদি বাস্তবায়নের কোনো প্রচেষ্টা হয়, তবে সেটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক বিবর্তনের মাধ্যমে নয়, বরং কৃত্রিম চাপ ও বাইরের সমীকরণের মাধ্যমেই আসবে। এই বাস্তবতাই অনেককে উদ্বিগ্ন করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>আওয়ামী লীগের সাত দশকের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি, সংগঠনের আবেগ এবং কর্মী-সমর্থকদের বিশ্বাসের জায়গাটি এখনো শেখ হাসিনার সঙ্গেই নিবিড়ভাবে যুক্ত। দলীয় সিদ্ধান্ত, ঐক্য রক্ষা কিংবা রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় তাঁর বিকল্প এখনো দৃশ্যমান নয়।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যতের জন্য নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব, নতুন রাজনৈতিক ভাষা এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো জরুরি। কিন্তু সেই রূপান্তর শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে নয়, বরং তাঁর নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা বেশি। ইতিহাস বলে, আওয়ামী লীগ ভেঙে নয়, বরং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ঘিরেই বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সব মিলিয়ে বলা যায়, “হাসিনা যুগের সমাপ্তি&#8221; এখনো রাজনৈতিক বাস্তবতার চেয়ে বেশি একটি ধারণা বা আকাঙ্ক্ষা। বাস্তবে শেখ হাসিনাই এখনো আওয়ামী লীগের প্রধান সংগঠক, সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক পুঁজি এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের রাজনীতি চলছে। আর এই বাস্তবতায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যে কোনো মুহূর্তে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে—এই বিশ্বাস দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বড় অংশের মধ্যেই এখনো অটুট।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>সব মিলিয়ে বলা যায়, “হাসিনা যুগ” শেষ হয়ে গেছে এমন দাবি এখনো সময়ের আগেই করা। আওয়ামী লীগের আবেগ, বিশ্বাস ও রাজনৈতিক অস্তিত্বের সঙ্গে শেখ হাসিনা এখনো গভীরভাবে জড়িয়ে আছেন। এই সংকটকালে তাঁকে বাদ দিয়ে দল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, এমন বিশ্বাসের জায়গায় আওয়ামী লীগের বড় অংশ এখনো পৌঁছায়নি। তাই আলোচনার ঝড় থাকলেও বাস্তব রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এখনো প্রাসঙ্গিক।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে এটাও সত্য যে সময় থেমে থাকে না। আওয়ামী লীগের মতো পুরনো দলে প্রজন্মগত পরিবর্তন অনিবার্য। নতুন নেতৃত্ব, নতুন ভাষা ও নতুন কৌশল ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই রূপান্তর হঠাৎ করে বা আবেগনির্ভর ঘোষণার মাধ্যমে হয় না। সেটি হয় ধীরে, পরিকল্পিতভাবে এবং নেতৃত্বের ছায়াতেই। শেখ হাসিনার উপস্থিতি সেই রূপান্তরের পথে অন্তরায় নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা রক্ষাকবচ ।</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/sheikh-hasina-bangladesh-rajniti-bastobota/">রাজনীতিতে হাসিনা যুগ সমাপ্তির বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/sheikh-hasina-bangladesh-rajniti-bastobota/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শেখ হাসিনা কি সত্যি বিক্ষোভকারীদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন?</title>
		<link>https://nenews.news/sheikh-hasina-bikkhovkari-gooli/</link>
					<comments>https://nenews.news/sheikh-hasina-bikkhovkari-gooli/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[News Desk]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 29 Jan 2026 15:11:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[গুলি]]></category>
		<category><![CDATA[ডেভিড বার্গম্যান]]></category>
		<category><![CDATA[নির্দেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বিক্ষোভকারী]]></category>
		<category><![CDATA[শেখ হাসিনা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=9979</guid>

					<description><![CDATA[<p>সজীব ওয়াজেদ জয় জোরালোভাবে বলেছেন, আল-জাজিরা ও বিবিসি— দুটিই অডিও ক্লিপটির খণ্ডিতাংশ ব্যবহার করেছে, ফলে অর্থ বিকৃত হয়েছে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/sheikh-hasina-bikkhovkari-gooli/">শেখ হাসিনা কি সত্যি বিক্ষোভকারীদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন?</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>আল-জাজিরায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্চালক শ্রীনিবাসন জৈন একটি গুরুতর প্রশ্ন নিয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মুখোমুখি হন।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রশ্নটি ছিল একটি ফাঁস হওয়া অডিও কথোপকথন নিয়ে। জয়ের দাবি তাঁর মা কোনো হত্যার হুকুম দেননি। কিন্তু এই ফোন আলাপের রেকর্ড জয়ের দাবির বিপরীত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জৈন সরাসরি প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন বলেন, আপনার মা কোনো নির্দেশ দেননি, তখন আপনি কি আল-জাজিরার প্রতিবেদন, বিবিসির প্রতিবেদন এবং সেই প্রচারিত রেকর্ডিংগুলোর কথা দেখেছেন—যেখানে শোনা যায়, আপনার মা বলছেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন? তিনি (শেখ হাসিনা) বলেন, “আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি এখন, এখন লিথাল উইপোন ব্যবহার করবে। যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় জোরালোভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, আল-জাজিরা ও বিবিসি—দুটিই ওই ক্লিপটির খণ্ডিতাংশ ব্যবহার করেছে, ফলে অর্থ বিকৃত হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জয়ের ভাষায়, ‘তিনি (হাসিনা) বলেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেন।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">জয় আরও দাবি করেন, তাঁর মায়ের ওই নির্দেশ কেবল ‘সহিংস বিক্ষোভকারী, সশস্ত্র বিক্ষোভকারী ও সন্ত্রাসীদের’ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তাহলে কোন ব্যাখ্যাটি সঠিক?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এই প্রশ্ন কেবল কথার কথা নয়। কারণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অন্তত আংশিকভাবে এই কথাগুলো কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, তার ওপর নির্ভর করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আইসিটির অন্যান্য প্রায় সবগুলো বিচারের জন্যও বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>কথোপকথন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">যে রেকর্ডিংটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শেখ হাসিনা ও দক্ষিণ ঢাকার সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপ। ফজলে নূর তাপস সম্পর্কে শেখ হাসিনার ভাতিজা হন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কথোপকথনের শুরুতে দুজন আওয়ামী লীগ নেতা ‘সন্ত্রাসী’দের দ্বারা সম্পত্তিতে হামলার কথা বলেন। তাপস বলেন, জাতীয় সচিবালয়ে (যেখানে সরকারি মন্ত্রণালয়গুলো রয়েছে) এবং আবাহনী ক্লাবে (আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ সাবেক শাসক দলের ফুটবল ক্লাব) হামলা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আরও কিছু ‘সংবেদনশীল বাসা বাড়িতে আক্রমণ’ হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সব ধরনের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু তাপস সতর্ক করে বলেন, ‘ওদের’ (প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায় তিনি সেই ‘সন্ত্রাসীদের’ বোঝাচ্ছেন) ‘রাতে মনে হয়…আরও অনেক কিছু পরিকল্পনা আছে’। এরপর তিনি জানতে চান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি সেনাবাহিনী নামানোর মতো ‘সর্বোচ্চ পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা বলেছেন কি না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনী নামানোর প্রয়োজন নেই। তবে তিনি জানান, তিনি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সেনাবাহিনী ‘রেডি’ আছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, আরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ড্রোন দিয়ে আকাশ থেকে ছবি তোলা এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ‘সবগুলিকে অ্যারেস্ট করতে নির্দেশ’ দিয়েছেন। তিনি জানান, একাধিক সংস্থাকে বলা হয়েছে—‘যে যেখান থেকে যে কয়টা পারবা ধইরা ফেলো।’ এরপর তাপস বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের জানিয়েছেন যে ‘ওরা’ এখন মোহাম্মদপুর থানার দিকে এগোচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সেখানে র&#x200d;্যাব পাঠানো হোক। ঠিক এই জায়গাতেই তিনি সেই বহুল আলোচিত কথাগুলো বলেন, ‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি এখন, এখন লিথাল উইপোন ব্যবহার করবে। যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে তিনি এমন নির্দেশ দেননি, তিনি ‘এতদিন বাধা দিয়ে রাখছিলাম’ এবং তিনি ‘ওই যে স্টুডেন্টরা ছিল ওদের সেফটির কথা চিন্তা’ করেছেন।’ এতে তাপস বলেন, ‘না রাতে… রাতে স্টুডেন্ট না… রাতে হলো ওরা সন্ত্রাসী।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর শেখ হাসিনা আবার অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির কথা বলতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় আগুন… বিআরটি বিটিআরসি বন্ধ করে দিছে, পোড়াইয়া দিছে, বিটিভি পোড়াইয়া দিছে… এখনতো ইন্টারনেট বন্ধ সব পোড়াইয়া দিছে, এখন চলবে কীভাবে?’</p>



<p class="wp-block-paragraph">কথোপকথনের শেষ দিকে তাপস সতর্ক করেন যে, ‘ওরা রাতে মনে হয় আরও ব্যাপক আক্রমণ করবে।’ শেখ হাসিনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসে আগুন দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। আর তাপস বলেন, বনানী বা গুলশানেও হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য থাকতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ব্যাখ্যা</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">যদি ফোনালাপটি আলাদা করে, পুরো প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে (সজীব ওয়াজেদ জয়ের যুক্তির মতো করে) এভাবে ব্যাখ্যা করা অযৌক্তিক নয় যে শেখ হাসিনা এখানে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের যে অনুমতির কথা বলেছেন, তা মূলত অগ্নিসংযোগ ও সম্পত্তির ওপর সহিংস হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য ছিল, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের জন্য নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কারণ, ওই বক্তব্য দেওয়ার আগে পুরো কথোপকথনের মূল বিষয় ছিল বিভিন্ন ভবনে হামলা। প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশের ঠিক আগমুহূর্তে তাপস বলেছিলেন, ‘ওরা’—যার মাধ্যমে সেই ‘সন্ত্রাসী’ বোঝানো হচ্ছে বলে মনে হয়—মোহাম্মদপুর থানার দিকে এগোচ্ছে। এতে একটি সহিংস হামলার আশঙ্কার ইঙ্গিত, এমন বোঝাতে চাচ্ছিলেন তাপস, তেমনই মনে হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ ছাড়া প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমতির কথা বলার ঠিক পরেই শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আগে এমন নির্দেশ দেননি, কারণ তিনি ‘ছাত্রদের নিরাপত্তার কথা ভেবে’ এত দিন নিজেকে সংযত রেখেছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতে বোঝা যায়, অন্তত এই ফোনালাপে তিনি যেভাবে ভাষা চয়ন করেছেন তাতে সচেতনভাবেই ‘ছাত্র’ ও ‘সন্ত্রাসী’—এই দুই শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য করছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে আরেকটি ব্যাখ্যাও সম্ভব। ফোনালাপের মাঝামাঝি অংশে যখন শেখ হাসিনা ও তাপস নজরদারি ও গণগ্রেপ্তার নিয়ে কথা বলেন, তখন তাঁরা হয়তো শুধু সন্ত্রাসীদের নয়, বরং বিক্ষোভকারীদের একটি বৃহত্তর গোষ্ঠীর কথাও বলছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরে যখন শেখ হাসিনা ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের নির্দেশের কথা বলেন, তখন তিনি কেবল সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নয়, বরং এই বড় গোষ্ঠীটিকেই বোঝাতে পারেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এটি তুলনামূলকভাবে কম গ্রহণযোগ্য; বিশেষ করে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের কথা বলার পরপরই ‘ছাত্রদের নিরাপত্তা’ নিয়ে তার মন্তব্যের আলোকে এটি কম গ্রহণযোগ্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সুতরাং, এই সীমিত বা সংকীর্ণ ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বলা যায়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি আছে: শুধু এই রেকর্ডিংটিকে ধরে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায় না যে শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ কারণে, বিবিসি ও আল-জাজিরার তথ্যচিত্রগুলো কিছুটা বিভ্রান্তিকর হয়েছে, কারণ সেগুলোতে শেখ হাসিনা এই মন্তব্য কোনো প্রেক্ষাপটে করেছিলেন, তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি , এবং এমন বোঝানো হয়েছে যে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন এই ফোন আলাপে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>বৃহত্তর প্রেক্ষাপট</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে ফোনালাপটির এই ব্যাখ্যা মেনে নিলেও, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন যে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং মাঠপর্যায়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো শেখ হাসিনার নির্দেশের প্রকৃত ব্যাপ্তি ও প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আইজিপি আদালতকে জানান, ১৮ জুলাই, অর্থাৎ যেদিন শেখ হাসিনা ও তাপসের মধ্যে ফোনালাপটি হয়েছিল, সেই দিনই শেখ হাসিনা বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তিনি আদালতে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আমাকে ফোন করে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনের জন্য সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। সে সময় আমি পুলিশ সদর দপ্তরে ছিলাম এবং অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় জোয়ারদার আমার সামনেই উপস্থিত ছিলেন। আমি যখন প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ প্রলয় জোয়ারদারকে জানাই, তখন তিনি আমার কক্ষ থেকে বের হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ সারা দেশে এই নির্দেশ পৌঁছে দেন। এই নির্দেশটি দেওয়া হয় ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে এবং ওই দিন থেকেই প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার শুরু হয়।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">দেখা যাচ্ছে, আইজিপি সম্ভবত সেই একই অনুমতির কথাই বলছেন যার উল্লেখ শেখ হাসিনা তাঁর ফোনালাপে করেছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হলো এই অনুমতি দেওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শুধু একজন ছাত্র আন্দোলনকারী আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছিল। ওই দিনের বাকি মৃত্যুগুলো পুলিশের কারণে নয়, বরং আওয়ামী লীগ কর্মীদের আক্রমণে ঘটেছে বলে মনে হয়। কিন্তু ১৮ জুলাইয়ের পর সবকিছু বদলে যায়। ধারণা করা যায়, নতুন নীতি অনুমোদনের পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন সেদিন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর ১৯ জুলাই প্রায় ২০০ জন নিহত হন, ২০ জুলাই ৭০ জনের বেশি মানুষ প্রাণঘাতী আঘাতে মারা যান এবং ২১ জুলাই ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুধু তাপসের সঙ্গে এই ফোনালাপটি বিবেচনায় নিলে শেখ হাসিনা ঠিক কী নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি স্পষ্ট হয় না। কিন্তু ফোনালাপের বাইরে যেসব প্রমাণ আছে, সেগুলো শক্তভাবে বোঝায় যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ তাঁর সিদ্ধান্তের মধ্যেই ছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এমনকি যদি শেখ হাসিনাকে সুবিধা দিয়েও ধরা হয় এবং বলা হয় যে তিনি কেবল ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধেই এই নির্দেশ দিতে চেয়েছিলেন (যেমনটি জয় দাবি করেন), তবু বাস্তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী এই নির্দেশকে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ভুল সংশোধন করতে বা নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে সংযত রাখতে শেখ হাসিনা পরবর্তীতে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em><strong>লেখক: ডেভিড বার্গম্যান, সাংবাদিক</strong></em></p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/sheikh-hasina-bikkhovkari-gooli/">শেখ হাসিনা কি সত্যি বিক্ষোভকারীদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন?</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/sheikh-hasina-bikkhovkari-gooli/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
