নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে কাঠমান্ডুর বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং তাঁর মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পরের দিনই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলো।

সহিংসতা তদন্তে গঠিত প্যানেল এই দুজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে মামলা করার সুপারিশের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও এএফপি।

কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর যে নৃশংস দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, তাতে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তাদের বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। যদিও ওলি এর আগে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এগুলো চরিত্রহনন ও ঘৃণার রাজনীতি।

এ ব্যাপারে নেপালের নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ্গ লিখেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাদের গ্রেপ্তার কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা।

কেপি শর্মা অলি কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (সিপিএন-ইউএমএল) এর নেতা। দেশটিতে জেনজি আন্দোলনে নিহত হন অন্তত ৭৭ জন। তুমুল গণআন্দোলনের মুখে কে পি শর্মা ওলি সরকারের পতনের পর দেশটির দায়িত্ব গ্রহণ করে সুশিলা কারকির অন্তর্বর্তী সরকার। অল্প কয়েকদিনের মাথায় সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে জয়ী হয় গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিদের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। দলটির এই জয়গানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাপার থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ ওরফে বালেন।

আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের সময় কেপি শর্মা অলি বলেছিলেন, তিনি আশা করেন তাঁর সরে দাঁড়ানোটা সমস্যার সমাধান করবে। গত জানুয়ারিতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা একটি কমিশনের কাছে জবানবন্দি দেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিক্ষোভে প্রাণহানির জন্য অনুপ্রবেশকারীদের দায়ী করেন ওলি। সোশাল মিডিয়া বন্ধের প্রতিবাদে গত ৮ সেপ্টেম্বর কথিত জেন-জি বিক্ষোভের সময় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক কিশোরও ছিল। উচ্চ বেকারত্ব, স্থবির অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে সৃষ্ট হতাশার মধ্যে এই দমন অভিযান আরও বড় বিক্ষোভের জন্ম দেয়। তাতে আরও মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং পার্লামেন্ট, পুলিশ স্টেশন ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

Tags :

News Desk

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025