জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০২৬ সালে বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটি বলছে, এতে নতুন করে ৪৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে।
বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩১৮ মিলিয়ন মানুষ গুরুতর খাদ্য সংকটে রয়েছে। সংঘাত চলতে থাকলে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যেমন খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও তেমন বড় ধাক্কা দিতে পারে। যদিও এই সংঘাত সরাসরি খাদ্য উৎপাদন অঞ্চলে নয়, তবুও জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, সার ও কৃষি খরচ বেড়ে যায়, ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বাড়ে।
সংস্থার এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত চলতে থাকলে বিশ্বজুড়ে বড় প্রভাব পড়বে এবং যারা আগে থেকেই কষ্টে আছে, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা না থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং লোহিত সাগরের পথে ঝুঁকি বাড়ায় জাহাজ চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি, সার ও খাদ্যের দাম আরও বেড়েছে।
বিশেষ করে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল ও এশিয়ার কিছু অংশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় খাদ্য সংকট ২১ শতাংশ, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৭ শতাংশ এবং এশিয়ার কিছু এলাকায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সুদান ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। একই সঙ্গে তহবিল সংকটের কারণে অনেক জায়গায় খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দিতে হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।



