লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই সমঝোতা কার্যকর হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই লেবাননে নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবারের (৮ এপ্রিল) এই রক্তক্ষয়ী হামলায় তিন শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এমন বড় ধরনের সংঘাত চলতে থাকলে শান্তি প্রক্রিয়া যেকোনো সময় ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবানন আলোচনার টেবিলে বসবে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে। যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরানপন্থী লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তেহরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এই লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল দাবি করছে, লেবানন এই চুক্তির আওতাভুক্ত নয়। ফলে সেখানে হামলা অব্যাহত থাকায় পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান যখন সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা করছে, তখন ইসরায়েলের এই অনড় অবস্থান যুদ্ধবিরতিকে কতটা টিকিয়ে রাখতে পারবে। লেবাননে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় হিজবুল্লাহ এবং ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে প্রস্তাবিত আগামী সপ্তাহের আলোচনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি সেখানে কোনো কার্যকর সমাধান না আসে, তবে দুই সপ্তাহের এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে আরও বড় কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



