গ্রেপ্তারের ৫ দিনের মাথায় জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিন পেয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা বন্ডে এ জামিন মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আটক হন দেশের প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর ওইদিন তাকে আদালতে হাজির করে জুলাই আন্দোলনের লালবাগ থানায় আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ২ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি ডিবি।
ওইদিন দুপুর ২টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় শিরীন শারমিনকে। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে লালবাগের আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী আন্দোলন করছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১১৫/১২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন আশরাফুল।
এদিকে, গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকেই সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ২২ মে আশ্রয় গ্রহণকারীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। ওই তালিকায় শিরীন শারমিনের নামও ছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এর পর থেকে টানা তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।



