বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৬ দিনে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৪ হাজার ৫৬১ শিশু। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ২৪১ জনের এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। নিশ্চিত হাম শনাক্তের তুলনায় উপসর্গভিত্তিক আক্রান্ত পাঁচ গুণের বেশি এবং মৃত্যু প্রায় ছয় গুণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, জ্বর বা কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে আসা অধিকাংশ রোগীকেই সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ ও আশঙ্কাজনক রোগীদেরই মূলত হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে এবং পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।
দেশে হামের সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম পরিচালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তায় এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অধীনে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে নমুনা সংগ্রহ ও তথ্য যাচাই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক রোগী নিশ্চিত শনাক্ত না হয়ে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত আক্রান্ত দুই হাজার ২৪১ শিশুর মধ্যে ৫০ শতাংশ বা এক হাজার ১৪১ জন ঢাকা বিভাগের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৪১ জন (৩৩ শতাংশ) রাজশাহী বিভাগে। বাকি ১৭ শতাংশ দেশের অন্যান্য বিভাগে। মৃত্যুর ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১০ জন, বরিশালে পাঁচজন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, কোনো এলাকায় একাধিক রোগী একই উপসর্গ নিয়ে এলে সবার পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। একজনের পরীক্ষার ফল দিয়েই পরিস্থিতি বোঝা যায়। মৃত্যুর পর পরীক্ষা না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’ হিসেবেই থেকে যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক– একজন আক্রান্ত শিশু থেকে প্রায় ৭০ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। র্যাশ ওঠার আগে-পরে মিলিয়ে সাত থেকে ৯ দিন রোগী সংক্রমণ ছড়াতে পারে। হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই প্রধান ভরসা। জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
২৪ ঘণ্টায় ৭ শিশুর মৃত্যু
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৮৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। নতুন করে ৬৪২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৬৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছে সাত শিশু। তাদের মধ্যে ছয়জনের উপসর্গ ছিল। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীতে চারজন, ঢাকায় দুজন এবং সিলেটে একজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা হামের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি। ১২ মাসের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, টিকা না নেওয়া ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ১৯৯০ সালের পর টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসা ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছেন, তারাও প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছেন।




