বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর একটি ধামাইলকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়েছে নতুন গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘ধামাইল: উৎসের সন্ধানে’। বইটি সম্পাদনা করেছেন গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. অসীম চক্রবর্তী এবং প্রকাশ করেছে ঢাকার ভাষাচিত্র প্রকাশনী।
বাংলা ও ইংরেজি-দুই ভাষায় রচিত এই সংকলনে ধামাইলের উৎপত্তি, ঐতিহাসিক বিকাশ, সাহিত্যিক প্রভাব এবং সমকালীন চর্চা নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ সংযোজিত হয়েছে। এতে লিখেছেন ড. সায়মন জাকারিয়া, ড. সাইদুর রহমান লিপন, সুমনকুমার দাশ এবং ড. মোস্তাক আহমদ দীন। বইটির প্রচ্ছদ নির্মাণ করেছেন মৌনি মুক্তা চক্রবর্তী।
গ্রন্থটিতে ধামাইলের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও নন্দনতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিশ্লেষণের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত লোকস্মৃতি, সংগীত এবং বিশেষ করে নারীদের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। ধামাইল মূলত সিলেট অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ও নৃত্যধারা, যা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ সমাজে নারীদের অংশগ্রহণে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংরক্ষিত হয়ে আসছে। বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে নারীরা বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে তাল-লয়ের মাধ্যমে এই পরিবেশনা করেন, যা শুধু বিনোদন নয়, বরং সামাজিক বন্ধন ও সম্মিলিত স্মৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।
গ্রন্থটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মুক্ত আর্টস’ আয়োজিত একটি ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এর প্রকাশনা সম্পন্ন হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসন্ধান, সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া। এর আগে একই উদ্যোগে বাংলা কীর্তন ও ভাটিয়ালি সংগীত নিয়েও বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্যোক্তারা মনে করেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা লোকঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইতোমধ্যে বইটি লন্ডনের একটি ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত হয়েছে এবং সেখানে পাঠকদের জন্যও উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্পাদক ড. অসীম চক্রবর্তী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই গ্রন্থ ধামাইল নিয়ে নতুন গবেষণা, শিল্পচর্চা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সাংস্কৃতিক সংলাপকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তাঁর মতে, ধামাইল কেবল একটি লোকসংগীত বা নৃত্য নয়; এটি বাংলার সামাজিক স্মৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।




