ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী ও ছায়ানট ভবনে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তির হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে লন্ডনের আলতাব আলী পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংস্কতিকর্মী উর্মী মাজহারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা ও গানে গানে উদীচী ও ছায়ানট ভবনে হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
সমাবেশে প্রবাসী বাঙালি সংস্কৃতিকর্মী, লেখক, শিল্পী, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন বিলেতে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হাবিব রহমান, বিবিসি ও ভয়েস অফ আমেরিকার সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী, সঙ্গীতশিল্পী ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, লুসি রহমান, সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা, হামিদ মোহাম্মদ প্রমুখ।
বক্তৃতার ফাঁকে ফাঁকে মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী হিমাংশু গোস্বামী ও ড. ইমতিয়াজ আহমেদের নেতৃত্বে শিল্পীরা পরিবেশন করেন প্রতিবাদসঙ্গীত।
এ সময় বক্তারা বলেন, উদীচী ও ছায়ানট কোনো ভবনের নাম নয়; এগুলো বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার এবং মানবিক আলোর ধারক। সেখানে আঘাত মানে আমাদের ইতিহাস, গান, কবিতা ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত।
বক্তারা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা সংস্কৃতিকে ভয় পায় তারাই আগুন ধরায়, ভাঙচুর করে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— গানকে বন্দি করা যায় না, কবিতাকে হত্যা করা যায় না আর মানুষের মুক্তচিন্তাকে কোনোদিন স্তব্ধ করা যায় না। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই আবার জন্ম নেয় প্রতিরোধের সুর। সংস্কৃতি বাঁচানো মানে মানুষকে বাঁচানো; মানুষ বাঁচলেই রাষ্ট্র বাঁচবে।
সমাবেশ থেকে ঢাকায় সংঘটিত এই বর্বরতার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করা হয়। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, অন্ধকার যতই ঘন হোক, আলোর পথ থামে না। উদীচী ও ছায়ানটের কণ্ঠ আবারও উঠবে, আরও জোরে, আরও মানবিক হয়ে। প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।




