বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। এটি এই ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি বছরে আসা চতুর্থ চালান।
এই চারটি চালানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছে। এপ্রিল মাসে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এই কার্যক্রমে নিয়োজিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় চতুর্থ চালানের সম্পূর্ণ তেল এসে পৌঁছায়। এসব ডিজেল পর্যায়ক্রমে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। এপ্রিল মাসে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আনার চাহিদা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ৩ থেকে ৪টি চালানের মাধ্যমে এসব তেল আসবে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যা থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে তেল সরবরাহ করতে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে এই পাম্পিং কার্যক্রম শুরু করে ভারত। ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব ডিজেল তেল পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে রিসিপ্ট টার্মিনাল থেকে জ্বালানি রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন কোম্পানিতে এসব তেল সরবরাহ করা হয়। এর আগে তিন দফায় এই ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন করে মোট ১৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সারা বছর ডিজেল সরবরাহ রাখতে ভারত থেকে সরাসরি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেলহেড তেল ডিপোতে জ্বালানি তেল (ডিজেল) সরবরাহ করা হয়। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ এই পাইপ লাইন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদাদি কার্যক্রম শুরু হয়।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদাদি করা যাবে। পরে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে। এই পাইপ লাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল ভারত থেকে আমদাদি করা সম্ভব বলেও বিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে সময় লাগতো ৬ থেকে ৭ দিন।




