বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা। ভার্চুয়ালি তিনি বৈঠকে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে মঙ্গলবার সকালে মিলিত হয়েছিলেন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা।
এ খবর জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম জি ২৪ ঘণ্টা।
বৈঠকে শেখ হাসিনা দলের নেতাদের বলেছেন, মানসিক এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিন। এবার সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। নামতে হবে দেশের ময়দানে।
শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ওয়ার্কিং কমিটির সকল সদস্য বক্তব্য দেন। বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সভায় উপস্থিত ছিলেন যাঁরা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য না হলেও বক্তব্য দিয়েছেন।
বৈঠকে নেতারা দেশের পরিস্থিতি নেত্রীর সামনে তুলে ধরেন। যে নেতা যে এলাকার দায়িত্বে আছেন তিনি সেখানকার পরিস্থিতি নেত্রীকে জানান।
নেতারা বলেন, যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা একটি প্রহসনমাত্র।
এ সময় শেখ হাসিনা নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে বলে এসেছেন খুব ভালো নির্বাচন হয়েছে। তারাই আবার নিজের দেশে ফিরে রিপোর্ট দিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে এক সাজানো নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এমন দু’মুখো লোকেদের ভরসায় আমাদের বসে থাকলে চলবে না। আমরা কেন এই নির্বাচনকে প্রহসন বলছি তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা মানুষের কাছে হাজির করতে হবে।
দলের নেতাদের শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনী ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ করুন। আমি ভোট বয়কটের যে আহ্বান জানিয়েছিলাম, বাংলাদেশের মানুষ তাতে তুমুল সাড়া দিয়েছেন।
আলোচনায় কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ওই নিষেধাজ্ঞা দুটি কারণে অবৈধ। এক, আওয়ামী লীগ এমন কোনো অপরাধ করেনি যে কারণে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায়। দুই, মুহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অবৈধ সরকার। সেই সরকারের নির্দেশ কখনোই বৈধ হতে পারে না।
এরপর শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আশা করব বর্তমান সরকার এই অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। যদি না করে তখন আমরা আমাদের মতো করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। কর্মসূচি ঘোষণা করব।
মঙ্গলবারের বৈঠকে শেখ হাসিনা যেভাবে নেতাদের দেশে ফিরতে মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তাতে কোনো কোনো নেতার ধারণা নেত্রী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক বার্তা পেয়ে থাকতে পারেন। বৈঠকে তাঁর কন্ঠে পরিচিত আত্মবিশ্বাস ধরা পড়েছে।
মঙ্গলবারের বৈঠকের ভাষণে তিনি জোর গলায় দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অনুমোদন করবে না।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অসুস্থ বলে জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, সাইফুল আলম নাদেল, মির্জা আজম, মইবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।




