রাশিয়ায় জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) এবং ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব (YouTube) পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘রশকমনাদজোর’ ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে দেশটির প্রায় ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী এখন এই সেবাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার স্থানীয় আইন মেনে চলতে এবং ‘আপত্তিকর’ কন্টেন্ট সরাতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার ‘ন্যাশনাল ডোমেইন নেম সিস্টেম’ (NDNS) থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউবের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এর ফলে এখন ভিপিএন (VPN) ছাড়া এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিকল্প ‘ম্যাক্স’ অ্যাপ
পশ্চিমা অ্যাপগুলোর বিকল্প হিসেবে পুতিন সরকার এখন নিজস্ব সুপার-অ্যাপ ‘ম্যাক্স’ (MAX) ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘ভিকন্টাক্টে’ (VK) এই অ্যাপটি তৈরি করেছে। সরকারের দাবি, এই অ্যাপে মেসেজিং ছাড়াও ব্যাংকিং লেনদেন এবং সরকারি সব সেবা পাওয়া যাবে। তবে সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই অ্যাপটিতে ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ নেই, ফলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর সরকারের নজরদারির ঝুঁকি থেকে যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটার প্রতিক্রিয়া
এই নিষেধাজ্ঞার পর এক বিবৃতিতে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, “রাশিয়া সরকার ১০ কোটিরও বেশি মানুষকে নিরাপদ যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। এটি নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি এবং একটি পশ্চাৎপদ পদক্ষেপ। তারা আরও জানিয়েছে, রুশ ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত রাখতে তারা প্রযুক্তিগতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কেবল হোয়াটসঅ্যাপ বা ইউটিউব নয়, রাশিয়ার জনপ্রিয় অ্যাপ টেলিগ্রামের গতিও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে অ্যাপলের ভিডিও কলিং অ্যাপ ফেসটাইম ব্লক করেছিল রাশিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রবাহ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং পশ্চিমা প্রভাব কমাতে রাশিয়া এখন একটি নিজস্ব ‘ডিজিটাল দেয়াল’ তৈরি করছে।




