দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন, নির্বাচন না হলে দেশে ‘খুব ভয়ংকর পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনবিরোধী শক্তি ‘খুব শক্তিশালী’ এবং তারা নানাভাবে ভোট বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামে আলোকচিত্র প্রদশর্নীর এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন কথা বলেন।
মতিউর রহমান বলেন, সংবাদপত্র সারাবিশ্বে একটা গভীর সংকটে। প্রথম আলো ওই দিক থেকে একটা সংকটে। আর প্রথম আলোর সমস্যা তো এই সাংবাদিকতা জগতের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরেকটু বেশি সমস্যায় পড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বিগত মাসের ১৮-১৯ তারিখে আমাদের অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং আরো চাপ, আরো সময়ের সংকটের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। শুধু প্রথম আলো কেন, সারা বাংলাদেশই একটা সংকট সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
প্রথম আলোর সম্পাদক বলেন, ভবিষ্যতে ঠিক কী হবে, আমরা কেউ নিশ্চিত বলতে পারি না। আমরা সবাই নির্বাচন চাচ্ছি; নির্বাচন হওয়া দরকার। নির্বাচন হলে কিছু একটা হবে। কিছু একটা, স্থায়ী ভবিষ্যত সুন্দর না ভাবলেও, একটা পরিবর্তন হতে পারে, এই আশায় আমরা মনে করি যে নির্বাচনটা হওয়া দরকার। তবে এই সময়ে একটা কথা, এই নির্বাচন না হওয়ার শক্তি অনেক শক্তিশালী মনে হয়। তারা নানাভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সেদিকে আমি বলব, নির্বাচন না হলে অবস্থা আমাদের জন্য, দেশের জন্য একটা খুব ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
তিনি বলেন, সেজন্য আমি আপনাদের কাছে অনেক অনিচ্ছা, অনেক অনিশ্চয়তা হতাশার মধ্যেও বলব যে, আপাতত এই নির্বাচনটা আমাদের জন্য জরুরি। এটা হওয়া দরকার, হওয়া উচিত। আসলে খুব উৎসাহজনক কিছু বলার মতো মনের ভিতরে নাই। ভালো যায় না সময়। ভালো নাই, ভালো থাকি না। ভালো থাকার মতো অবস্থা নাই। এখানে শিল্প, সঙ্গীত, সংস্কৃতির কথা এলো, সেগুলোর অবস্থাও খুব ভালো না। আগামী দিনগুলো কী হবে, আমরা বলতে পারব না। স্কুল কলেজে গান বন্ধ, নাচ বন্ধ, শিক্ষক নেওয়া বন্ধ। নানা জায়গায় নানা সংস্কৃতির অনুষ্ঠানে হামলা ঝামেলা সংকট। এই সবকিছুর কোনো কিছুই খুব একটা ভালো সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় না। আমার যেন সতর্ক থাকি, সচেতন থাকি। আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে ভালো থাকার জন্য সব মিলিয়ে।
চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে সৌরভ দাশের আলোকচিত্র প্রদশর্নী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে অংশ নেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন ও আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকী।




