যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত শুল্ক চুক্তি সই হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন পুরো প্রক্রিয়াটি ভার্চুয়ালি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে পাঁচজন আমলার ওয়াশিংটন সফর নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয়েই দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
ভার্চুয়াল সই, সশরীরে সফর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জেমিসন গ্রিয়ার এবং বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির উদ্দিন সই করবেন। অবাক করার বিষয় হলো, চুক্তির মূল কারিগর বাণিজ্য উপদেষ্টা বা বাণিজ্য সচিব কেউই ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন না। অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঠিকই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন।
কেন এই সফর? উত্তর নেই কারও কাছে
কেন এই ভার্চুয়াল চুক্তির সময় সরকারি অর্থ খরচ করে পাঁচজন কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।
মন্ত্রণালয়ের ভেতরে গুঞ্জন উঠেছে, এটি স্রেফ একটি প্রমোদ ভ্রমণ বা ‘জয়রাইড’। সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে দল বেঁধে এই প্রমোদ ভ্রমণে যাওয়ার পেছনে সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থের অপচয় ছাড়া আর কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সচেতন মহল।
চুক্তির কপি নিয়ে যাওয়ার অজুহাত
একটি সূত্রে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারি কেবিনেট সভায় শুল্ক চুক্তিটি অনুমোদন করা হবে। এরপর সেই অনুমোদিত চুক্তির কপি পৌঁছে দিতেই এই বিশাল বহর ওয়াশিংটন যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যেখানে একটি চুক্তির কপি নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন অফিস সহকারী বা একজন কর্মকর্তাই যথেষ্ট, সেখানে পাঁচজন পদস্থ কর্মকর্তার যাওয়ার কোনো প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক যুক্তি নেই।
ভার্চুয়ালি সই হওয়া চুক্তির জন্য সশরীরে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে এখন চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে আমলাতান্ত্রিক বিলাসিতা বলে অভিহিত করছেন।




