২০২৫ সালে পাকিস্তানে রেকর্ডসংখ্যক ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি সত্ত্বেও দেশটিতে সহিংসতা ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসলামাবাদ-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস) প্রকাশিত ‘পাকিস্তান নিরাপত্তা প্রতিবেদন ২০২৫’ অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ এবং এসব হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ২১ শতাংশ বেড়েছে।
বছরজুড়ে দেশটিতে অন্তত ৬৯৯টি সন্ত্রাসী হামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানা গেছে।
পিআইপিএস-এর এই বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় কমপক্ষে ১ হাজার ৩৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৬৬ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতার এই বিস্তৃতি মূলত খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, যেখানে মোট সহিংসতার ৯৫ শতাংশেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, সীমান্ত সংঘাতের পাশাপাশি জঙ্গিদের নতুন কৌশল গ্রহণ এবং তাদের পুনরুত্থান পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এর ফলে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর ওপর হামলার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছরে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর ৪২ শতাংশেরও বেশি শিকার হয়েছেন নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। দায়িত্বরত অবস্থায় ৪৩৭ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যা এই লড়াইয়ের ভয়াবহতা নির্দেশ করে।
একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকরাও এই সহিংসতার চরম মূল্য দিচ্ছে, বছরজুড়ে নিহত হয়েছেন ৩৫৪ জন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযান এবং আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ২৪৩ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের উপসংহারে সতর্ক করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের জন্য সামনের দিনগুলো আরও কঠিন হতে পারে। সম্প্রতি একটি মার্কিন থিঙ্কট্যাংকের প্রতিবেদনেও ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পুনরায় সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
পিআইপিএস-এর তথ্যমতে, খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে বেলুচিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো তাদের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে, যা মোকাবিলা করতে রাষ্ট্রকে আরও গভীর নিরাপত্তা পরিকল্পনার দিকে নজর দিতে হবে।
সূত্র: দ্য ডন




