দেশের ১২ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, বেড়েছে শীতজনিত রোগ

দেশজুড়ে বেড়েছে শীতের দাপট। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দেশের বড় অংশ। উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত এই কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশা ও হিমালয় থেকে নেমে আসা শীতল বাতাসের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। গতকাল সোমবার রাজশাহী বিভাগের আট জেলা এবং কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, দিনাজপুরসহ মোট ১২ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।

এদিকে, শীত মৌসুমে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও অন্যান্য শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশের সব হাসপাতালকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে বাধ্যতামূলকভাবে বৈকালিক রাউন্ড নিশ্চিত করার জন্যও বলা হয়েছে।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জের আরিচা-পাবনার কাজীরহাট নৌপথে কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে রোববার মধ্যরাতে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা পর গতকাল সকাল সোয়া ৭টা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়। আরিচা-কাজীরহাট রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল প্রায় ১০ ঘণ্টা। পরে সকাল সোয়া ৯টা থেকে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে– ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে– ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও রাজধানী ঢাকায় গতকাল তাপমাত্রা আগের দিনের তুলনায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে; কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি কমেনি।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, শৈত্যপ্রবাহের পরিধি কিছুটা বেড়েছে এবং সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রা কমেছে। আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন, আপাতত কুয়াশা ও শীত থেকে স্বস্তির আশা খুব বেশি নেই। কনকনে শীত আরও কিছুদিন ভোগাতে পারে দেশের মানুষকে।

শীতজনিত রোগ মোকাবিলায় জরুরি নির্দেশনা

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় শীত মৌসুমে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও অন্যান্য শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশের সব হাসপাতালে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, হাসপাতালের যেসব ভাঙা স্থান দিয়ে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করছে, সেগুলো দ্রুত মেরামত ও সংস্কার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

এ ছাড়া ভর্তি রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় কম্বল ও মশারি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শীতকালীন রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে বাধ্যতামূলকভাবে বৈকালিক রাউন্ড নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

Tags :

News Desk

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025