ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের (৫১) মৃত্যুতে এ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি জানিয়েছেন।
এর আগে, শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আইনের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো ‘বৈধভাবে মনোনীত’ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে হবে।’
সেই অনুযায়ী নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এই আসনের নির্বাচনী তফসিল পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।’
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (বাদল) মারা যান। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত তিনটার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাত ৩টা ২৪ মিনিটে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় নুরুজ্জামান মারা যান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান বাদল দীর্ঘদিন ধরে কিডনি-জনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি জামায়াতের শেরপুর জেলা কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন।
এদিকে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন (হাতপাখা), বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান (কাঁচি) এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা (মোটরসাইকেল)।
২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে আসনটি ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মূল প্রার্থীর মৃত্যু হয়।




