আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের মধ্য দিয়ে কাটা প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধেও কোনো গোল হয়নি। ছিল না অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেই রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে সব চাপ সামাল দিলেন বাংলাদেশের যুবারা।
ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নিজেদের দখলে রাখল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভান টাইব্রেকারে শেষ শটে গোল করতেই উচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়ে মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে আসা বাংলাদেশের সমর্থকরা।
উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রাও। বাংলাদেশের সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনে ছুটে যান রোনানরা। পুরো ম্যাচে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে গলা ফাটিয়েছেন মালদ্বীপ প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
টাইব্রেকারের আগেও চিৎকার করেছেন বাংলাদেশের সমর্থকেরা। আর সেই কারণেই বোধহয় ভুল করে বসেন প্রথম শট নিতে আসা ভারতের ঋষি। তার শট রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন।
এরপর বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন মুর্শেদ আলী। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় শটে গোল করেন মোহাম্মদ আরবাস। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় শটে গোল করেন চন্দন রায়। তৃতীয় শটে ভারতের হয়ে গোল করেন স্যামসন আর বাংলাদেশের হয়ে আব্দুল ফাহিম।
চতুর্থ শটে ভারতের হয়ে গোল করেন বিশাল যাদব। তবে বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাকসাম বল মারেন পোস্টের ওপরে। এই শটের আগে চোটের কারণে কিছুক্ষণ মাঠে শুয়েছিলেন ভারতের গোলরক্ষক সুরুজ সিং। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবারও উঠে দাঁড়ান পোস্টের নিচে। তার সেই মানসিক গেমেই যেন হেরে যান স্যামুয়েল।
তবে পঞ্চম শটে ভুল করে বসে ভারতও। বল পোস্টের ওপরে মারেন ওমন দোদুং। বাংলাদেশ পরের শটে গোল করলেই চ্যাম্পিয়ন—সেই সমীকরণের সামনে কোনো ভুল করেননি রোনান। প্রথমবার বাংলাদেশের হয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে এসেই দেশকে শিরোনা এনে দিলেন তিনি।
এ নিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তিনবার ফাইনাল খেলল বাংলাদেশ। শেষ দুইবার হলো চ্যাম্পিয়ন। আগেরবার ২০২৪ সালে স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশের যুবারা। এর আগে ২০২২ সালে ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।




