আজ শনিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। উদ্বোধনী দিনে ম্যাচ হয়েছে ভারতের মাঠেও। ক্রিকেটের এই বৈশ্বিক লড়াইয়ে এবারই প্রথমবার নেই বাংলাদেশ।
২০০৭ থেকে ২০২৪—টানা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব আসরে খেলেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ বিশ্বকাপের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অনীহা দেখানোয় টুর্নামেন্টে উড়ছে না বাংলাদেশের পতাকা।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটিতে খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অস্বীকৃতি আর আইসিসির অনমনীয়তায় শেষ পর্যন্ত বাদই পড়তে হয়েছে লিটন-মোস্তাফিজদের।
বিশ্বকাপে না খেলার প্রতিক্রিয়ায় এতদিন ক্রিকেটাররা ছিলেন নীরব। তবে এবার কাতারের সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার কাছে মুখ খুলেছেন জাতীয় দলের দুই তারকা ক্রিকেটার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানিয়েছেন, এই বিশ্বকাপের জন্য তারা কতটা মুখিয়ে ছিলেন। একজন আক্ষেপ করে বলেন, ভারত হোক বা অন্য দেশ— আমরা বিশ্বকাপে খেলতে প্রস্তুত ছিলাম।
গত বছর ৩০টি-টোয়েন্টির মধ্যে ১৫টিতে জিতে বাংলাদেশ দল ছিল তাদের ইতিহাসের সেরা ছন্দে। অথচ মাঠে খেলার বদলে এখন তাদের এখন লড়তে হচ্ছে এক অদৃশ্য রাজনৈতিক দেয়ালের সঙ্গে।
খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, এটা শুধু ম্যাচ ফি হারানোর আক্ষেপ নয়। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বিশ্বসেরা বোলার-ব্যাটারদের মুখোমুখি হতে না পারা তাদের ক্যারিয়ারের জন্য বড় ক্ষতি।
বিশ্বকাপে না থাকার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি আয়োজন করছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’। তিন দলের এই টুর্নামেন্টে আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ক্রিকেটারদের তাতে মন ভরছে না।
বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের মতে, আর্থিক ক্ষতি সামলানো গেলেও বিশ্বকাপে না খেলার কষ্ট মুছে ফেলা অসম্ভব।
শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি। কিন্তু আইসিসির ভোটাভুটি শেষে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া হয়।
১৯ বছরের ঐতিহ্যের অবসান ঘটিয়ে শনিবার বিশ্বকাপের প্রথম দিনে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ৬৫ হাজার দর্শক বাংলাদেশের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হলো। রাজনীতির ম্যারপ্যাঁচে হারল ক্রিকেট।



