গণজাগরণ মঞ্চের যে কর্মীটি বাড়ি ফেরার পথে খুন হয়েছিল তাকে নিয়ে আপনি কখনোই জামাত-শিবির, বিএনপি, স্বাধীনতা বিরোধী, ইসলামপন্থী তাদের কোন সমর্থকদের আফসোস করতে দেখেননি। কেউ বলেনি, তার রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে আমি একমত নই কিন্তু তার যে তেজ, যে তারুণ্য তা দেশের জন্য খুব দরকার ছিল। কেউ বলেনি।
কিন্তু ডানপন্থী হাদী, গত দেড়বছরে হাদী, ফুয়াদ, হাসনাত এরা খোদ ঢাকা শহরের ভিন্নমতের মানুষদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। খোদ ঢাকাবাসী কোন মেয়ে সন্ধ্যাবেলা তার একা চলাফেরা, তার পোশাক নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে। কারণ চরম ডানপন্থী শক্তির উত্থান ঘটে গেছে। সেই হাদীর মৃত্যু, যে কোন মৃত্যু, হোক তা শত্রুর- তবু উল্লাস করা বর্বরতা। কিন্তু একটা দেশকে চরমমাত্রায় মব ভায়োলেন্স দিয়ে আক্রান্ত করা কারোর মৃত্যু দেশের জন্য ঠিক কিসের ক্ষতি?
যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দাবী করেন, বাংলাদেশকে একটা প্রগতিশীল দেশ দেখার স্বপ্ন তাদের আছে বলে দাবী করেন- তাদের শোকটা কিসের উপর ভিত্তি করে? হাদীর আইডল ছিল কুখ্যাত কাদের মোল্লা। আপনি দেখেছেন, এই ঘরোনার কেউ অভিজিত রায়ের মৃত্যুর পর বলেছে, অভিজিত রায়ের বিশ্বাসের সঙ্গে একমত নই কিন্তু তার মত লেখকের বাংলাদেশে দরকার ছিল। আমরা সবাই অভিজিত, বলতে দেখেছেন? দেখেননি। এখানেই পার্থক্য। এখানেই আমরা অনৈক্য। এখানেই আদর্শের দুর্বলতা।
২৪ এর আন্দোলনে বিএনপির কেউ মরেনি। আবু সাঈদ শিবির করত। মুগ্ধ অরাজনৈতিক। হাদী জামাত ক্রিয়েটেড ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী- তার সঙ্গে বিএনপির কোন সম্পর্ক নেই। ফলে ২৪ নিয়ে চিত্কার করে বিএনপির কোন লাভ নেই। দেখুন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগ- ফলে আওয়ামী লীগের নাম বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথাই শুরু করা যাবে না। এই সীমাবদ্ধতার ক্ষোভ থেকেই বলা হতো, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করে। আসলে আপনার পুঁজি থাকলেই তো ব্যবসা করতে পারবেন। ফলে ২৪ নিয়ে বিএনপি ব্যবসা করতে পারবে না।
মাহফুজকে মাস্টার মাইন্ড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন ইউনুস সাহেব। বিএনপি সেখানে কেবলই শূন্য হাত। অথচ দেখেন কনক চাঁপা বা আসিফ আকবর- এরা বিএনপি করে, ২৪ নিয়ে এদের এখনো যে অবস্থান সেটি তাদের দলের কোন অর্জন নয়। কাজেই ‘বিএনপি করে’ বা ‘বিএনপি সমর্থক’ বলতে কিছু নেই। বিএনপি করে মানে এন্টি-আওয়ামী লীগ, এন্টি-মুক্তিযুদ্ধ শিবির। ধরেন হাদীর বোন যদি এখন ভোটে দাঁড়ায় বিএনপির কিছু ভোট সেখানে গিয়ে পড়বে!
প্রথম আলো ডেইলি স্টার নাকি বারবার ফোন দিয়েও সরকার থেকে কোন সাহায্য পায়নি। পরদিন এই দুটি পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দাবী করেছে, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি মহল চক্রান্ত করছে! বিএনপির থেকে প্রথম আলো ডেইলি স্টারের অবস্থান পরিস্কার। তারা জুলাইয়ের মিডিয়া পার্টনার। নুরুল কবীর মতিউর রহমান মাহফুজ আনামদের পরিণতি যেটাই হোক এখন তারা পিছে ফিরে তাকাতে পারবে না। জুলাইয়ের অংশিদার তারা।
এখন অন্য অংশিদারদের হাতে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে কার নিন্দা করবে? অবস্থানটা পরিস্কার করেছে সরকার। ছায়ানট পোড়ানোর একদিন পর শুক্রবার জুম্মার পর উদিচি পোড়ানো হবে আগাম ঘোষণা থাকার পরও সরকার তার সেনাবাহিনী পুলিশ দিয়ে সেটাকে রক্ষা করেনি। তারপরও কিছু লোক গর্তে মাথা ঢুকিয়ে কারা হামলা করতে পারে সেই গবেষণা শুরু করেছে! প্রথম আলো তো তাদেরই বিজ্ঞাপন উটপাখীর মত মাথা বালুতে ঢুকিয়ে বিশ্লেষণ করছে! আনিসুল হকের অন্ধকারে একশো বছর উপন্যাস এখন তাকে দেখেই হাসছে!
গবেষকরা বুঝতে পারছে না কারা এগুলো করতে পারে! শত শত ফুটেজ রয়েছে। রাতজেগে সবাই লাইভ দেখলো দেড়টা বছর জুড়ে সেই মুখগুলো যারা ৩২ নম্বর ভেঙেছে তারাই ছিল এখানে। এখন সেই একই মুখগুলোকে মোদির এজেন্ট বানানোর চেষ্টা হচ্ছে! এটা করতে হলে একদম শুরু থেকে ন্যারেটিভ চেঞ্জ করতে হবে। বলতে হবে শেখ হাসিনা মোদির সহায়তায় ৩২ নম্বর ভেঙেছিলেন। না হলে ইনকিলাব মঞ্চ যেটার প্রধান ছিল হাদী, সেই মঞ্চের পরিচিত মুখগুলোই ভাঙতে গেছে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদিচি।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে ফল আনতে নাকি মোদি বাংলাদেশে পর পর এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। তাহলে শত শত এইসব মোদির এজেন্ট তথা ভারতের দালালদের ৪৮ ঘন্টা পরও সরকার একজনকে গ্রেফতার করতে পারলো না কেন? তাহলে খোদ ইউনুস সরকার ভারতের দালাল? দেশে বৈষম্য বিরোধীদের এত পোলাপান, এনসিপির হাসনাত যে হুংকার দিয়েছে, এদেশে এত জামাত শিবির- তাদের মধ্যে মোদির এজেন্টরা বুক ফুলিয়ে এত বড় বড় ঘটনা দুদিন ধরে করে গেলো, ক্যামনে সম্ভব?





