ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে নগদ অর্ধকোটি টাকাসহ সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে আটকের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, উদ্ধারকৃত অর্থ বেলাল উদ্দিন ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত করছিলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে নয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই আটকের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে দলটি।
আটক নেতার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জামায়াত নেতা জুবায়ের বলেন, “তিনি (বেলাল উদ্দিন) স্পষ্টভাবে বলেছেন, ব্যবসার কাজে তাকে যাতায়াত করতে হয়। ব্যাংক বন্ধ থাকায় লেনদেনের প্রয়োজনে কিছু নগদ অর্থ সঙ্গে ছিল। একজন মানুষের ব্যবসা করার অধিকার রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের বলেন, “তিনি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার প্রয়োজনে নগদ টাকা সঙ্গে অস্বাভাবিক।” এ সময় বিমানবন্দর বা সংরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের সাজানো নাটক অনভিপ্রেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটের আগের দিন বিপুল পরিমাণ অর্থ বহন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, “যানবাহন চলাচল সীমিত এবং বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলায় তিনি বিমান পথকে নিরাপদ মনে করেছেন। নিজের টাকা কোন মাধ্যমে বহন করবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত অধিকার। তিনি কোনো অন্যায় করেননি।”
জুবায়ের অভিযোগ করেন, জামায়াতকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যেই প্রশাসন এমন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে এবং প্রশাসন একপাক্ষিক ভূমিকা পালন করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করছেন দাবি করে তিনি বলেন, “কিছু লোক অন্যায়ভাবে এই নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে। জামায়াত সর্বদা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।”
এর আগে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ নিয়ে ঢাকা থেকে আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থেকে বেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে বলেছেন তার কাছে অর্ধ কোটি টাকার বেশি রয়েছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে টাকা গণনা শেষ হয়নি। সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো গোনা হবে বলে তিনি জানান।
আটকের পর একটি ভিডিও বার্তায় বেলাল উদ্দিন দাবি করেন, তার কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ টাকা এবং এটি তার গার্মেন্ট ব্যবসার লেনদেনের টাকা।
বেলাল উদ্দিন ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দবিরুল ইসলাম। তিনি সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।
টাকার উৎস ও বহনের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




