দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে নাহিদ ইসলামের ডোমিনিকার নাগরিকত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ এ রিট দায়ের করেন। রিটে সিইসি, সচিব, রিটার্নিং অফিসার ও নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বা আনুগত্য স্বীকার করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী। রিট আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল নাহিদ ইসলাম ডোমিনিকার নাগরিকত্ব নেন।

ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী রয়েছেন- বিএনপির এম এ কাইয়ুম, এনসিপির মো. নাহিদ ইসলাম, স্বতন্ত্র কহিনূর আক্তার বীথি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী মো. শহীদুল্লাহ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।
গুলশান এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ এবং সবুজবাগ এলকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার রয়েছেন।
ডোমিনিকা পাসপোর্টের সুবিধা:
- ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ: এই পাসপোর্ট দিয়ে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশ, যুক্তরাজ্য, হংকং এবং সিঙ্গাপুরসহ প্রায় ১৪০টিরও বেশি দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাওয়া যায়।
- দ্বৈত নাগরিকত্ব: বাংলাদেশ এবং ডোমিনিকা উভয়ই দ্বৈত নাগরিকত্ব সমর্থন করে, তাই আপনাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে হবে না।
কমনওয়েলথ অফ ডোমিনিকার পাসপোর্ট পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বৈধ উপায় হলো তাদের Citizenship by Investment (CBI) বা ‘বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব’ কর্মসূচি। ১৯৯৩ সাল থেকে চালু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় আপনি কোনো দেশে সশরীরে না গিয়েই (Remote process) নাগরিকত্ব পেতে পারেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ডোমিনিকার পাসপোর্ট পাওয়ার দুটি প্রধান পথ রয়েছে:
১. সরকারি তহবিলে অনুদান
এটি হলো সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুত মাধ্যম। আপনি ডোমিনিকার ‘অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য তহবিলে’ (Economic Diversification Fund – EDF) একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অনুদান দেবেন যা ফেরতযোগ্য নয়। একক আবেদনকারী ২,০০,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ২.৪০ কোটি টাকা)। পরিবারসহ (৪ জন) হলে ২,৫০,০০০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া প্রসেসিং এবং ডিউ ডিলিজেন্স ফি আলাদাভাবে দিতে হয়।
২. রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ
সরকার অনুমোদিত কোনো রিসোর্ট, হোটেল বা আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। ন্যূনতম বিনিয়োগ ২,০০,০০০ মার্কিন ডলার। এই সম্পত্তি অন্তত ৩ বছর নিজের নামে রাখতে হবে। ৫ বছর পর এটি পুনরায় বিক্রি করে দেওয়া যায়। এতে অনুদানের তুলনায় সরকারি ফি কিছুটা বেশি দিতে হয় (একক ব্যক্তির জন্য প্রায় ৭৫,০০০ ডলার)।
এর আগে জানুয়ারি মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাহিদ ইসলামের একটি বিদেশি পাসপোর্টের ছবি ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস (BSS)-এর ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে সেই ছবিটিকে ‘ভুয়া’ বলে শনাক্ত করা হয়েছিল। বর্তমান রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




