নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানার ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছেন।
এই ঘটনায় মামলা হওয়ার পর সাবেক মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপি নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন বখাটে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। এই ঘটনায় স্থানীয় মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান সালিশ করার দায়িত্ব নেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ১৫ দিন পর বখাটে চক্রটি ভিকটিম কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা ক্ষেত্রে ফেলে রাখে।
পরে বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মহিষাসুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, অভিযুক্ত নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব ও এবায়দুল্লাহ। অপরজনের নাম এখনো জানা যায়নি।
ওসি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে হত্যার স্থান পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এসময় তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধান আসামি নূরাসহ সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।




