কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পূর্ব ধলডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য শপথ পাঠ করানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ওই স্কুল প্রাঙ্গণে ঘটনাটি ঘটেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসাইন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই কাণ্ড ঘটান।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের মাঠে শিশুদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ছাত্রদল নেতা মোকাদ্দেস তাদের শপথ পাঠ করাচ্ছেন। এ সময় শিক্ষকেরাও সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মোকাদ্দেসের নির্দেশনায় শিশুরা সম্মিলিত কণ্ঠে শপথ পাঠ করছে— ‘আমরা যদি বড় হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’, ‘আমরা যদি ভোটার হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’ এবং ‘আমরা যদি বড় হতাম, রানা ভাইকে (বিএনপি প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা) ভোট দিতাম’।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার রায় বলেন, বৃহস্পতিবার আমি শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি করাচ্ছিলাম। এ সময় উপজেলা এবং ওয়ার্ড ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা নিয়ে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিছু কথা বলার পর তারা হঠাৎ শিক্ষার্থীদের বলতে বলেন, “আমরা যদি বড় হতাম, ধানের শীষের ভোট দিতাম; আমরা যদি ভোটার হতাম, রানা ভাইকে ভোট দিতাম।” এমন শপথ পাঠ করাতে আমি আপত্তি জানালে তারা আমাকে হুমকি দেন।
সন্তোষ কুমার রায় বলেন, আমি সরকারি চাকরিজীবী। উপজেলা থেকে ১৫-২০ কিলোমিটার দূরত্বের স্কুলে গিয়ে চাকরি করি। এলাকাটি বিএনপি অধ্যুষিত। আমি তাদের সঙ্গে অযথা ঝামেলায় জড়াতে চাইনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসাইন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। নির্বাচনী আইন আমার জানা ছিল না। অজ্ঞতার বসে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল হয়েছে। এ জন্য আমি দুঃখপ্রকাশ করছি। আমি সংগঠনের কাছেও ক্ষমা চেয়েছি।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, ঘটনাটি ওই ছাত্রদল নেতার একান্ত ব্যক্তিগত ভুল। এটা সাংগঠনিক কাজ নয়। তিনি ইতোমধ্যে লিখিতভাবে তার ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। এর দায় তিনি নিজে গ্রহণ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির কাছে লিখিতভাবে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।




