২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। এটি একদিকে বৈশ্বিক বাজারের চাপ এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিফলন।
শিল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি ৮.৫৩ শতাংশ কমেছে। এই পতনের পেছনে রয়েছে ইউনিট মূল্যে ২.৪৭ শতাংশ হ্রাস এবং রপ্তানির পরিমাণে ৬.২১ শতাংশ কমে যাওয়া।
এই পতন এমন সময়ে ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানিও কমেছে ১৩.৪৭ শতাংশ। এটি বৈশ্বিক খুচরা বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার একটি বড় ইঙ্গিত।
তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। যেখানে ভিয়েতনাম থেকে রপ্তানি বেড়েছে ২.৮৬ শতাংশ, সেখানে কম্বোডিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে ১৮.৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা তাদের সরবরাহ চেইন বৈচিত্র্যময় করার দিকে ঝুঁকছে।
অন্যদিকে, চীন থেকে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে—যদি দেশটি মূল্য প্রতিযোগিতা, সরবরাহের সময় (lead time) এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্বল্পমেয়াদি চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিলেও এটি কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক পোশাক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে মূল্য সংযোজন, উদ্ভাবন এবং কমপ্লায়েন্সের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চীনের বাজার অংশীদারিত্ব কমে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগানো, উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের পণ্যে প্রবেশ—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি স্থিতিশীল করে আবারও প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারে।



