ঝিনাইদহে নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ২৫

ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুইপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতের মধ্যে ১৪ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- জোবায়ের, তৌহিদ আলম, জাবেদ রহমান, ইভন, খোকন, আমীর হোসেন, মোশাররফ হোসেন, মশিয়ার রহমান, রবিউল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, ইমন রহমান ও রিয়াজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে আমীর হোসেন নলডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে রয়েছেন এবং খোকন ও ইভন সম্পর্কে বাবা-ছেলে।

জানা গেছে, নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়। আসনটিতে জয়ী হন জামায়াত প্রার্থী মো. আবু তালিব। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের (কাপ-পিরিচ প্রতীক) সমর্থক এবং ধানের শীষের সমর্থকদের এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কাপ-পিরিচ প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের একপর্যায়ে মহেশপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে সেখানে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় জামায়াত নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় কালিগঞ্জ ও মহেশপুর থানা পুলিশ। সংঘর্ষে আহত ২৫ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে কয়েকজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, বিনা উস্কানিতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উনি (সাইফুল ইসলাম ফিরোজ) কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না মেনে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে হারাতে নির্বাচন করেছেন। ফলাফল ঘোষণার পর উদ্দেশ্যেমূলকভাবে আমাদের ওপর হামলা করেছেন।

কালিগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, সহযোগিতা না করার অভিযোগ সত্য নয়; সবদিকেই নির্বাচনের কাজের চাপ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক এই ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। পরে সেখানে ধানের শীষের মনোনয়ন পান রাশেদ খান। অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আবু তালিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।

Tags :

News Desk

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025