এপস্টেইন ফাইল: নাম থাকা মানেই অপরাধের প্রমাণ নয়

যুক্তরাষ্ট্রের মানি লন্ডারিং ও যৌন অপরাধে জড়িত জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের সাথে যুক্ত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় পাম বিচে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৮ সালে জেফ্রি এপস্টেইন এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ২০১৯ সালে কারাগারে জেফ্রি এপস্টেইন এর রহস্যজনক মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। এর তদন্ত করতে গিয়ে এপস্টাইনের সম্পত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ এই নথি ও ইমেইল সংগ্রহ করা হয়।

এপস্টেইন ছিলেন একজন বিকৃত মানসিকতার যৌন রোগী। তার ৭৫ একরের একটি পাম দ্বীপে এই অন্ধকার রাজত্ব ছিলো। সেখানেই মূলত নারীদের হিউম্যান ট্রাফিকিংয়ের মাধ্যমে ধনী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের উপহার দেয়া হতো। ডঃ ইউনূসের বন্ধু বিল ক্লিনটনের সেখানে যাতায়াত ছিল নিয়মিত। ইউনূসের আরেক বন্ধু বাংলাদেশের ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আমেরিকার নির্বাচনে যে রিচার্ডসকে পাচ হাজার ডলার নির্বাচনী ফান্ড দিয়েছেন , তারও সেখানে যাতায়াত ছিলো। সেখানে যাতায়াত ছিলো মার্কিন অভিনেতা, অভিনেত্রী ও ব্রিটিশ ধনী ব্যবসায়ীদের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধনী বিল গেটসকে এক রাশিয়ান নারী দিয়ে এই নেটওয়ার্কের মধ্যে ফাঁসিয়ে দিয়েছিলেন এপস্টেইন। এপস্টেইনকে আপনি অন্ধকার জগতের এক ব্লাকমেইলার বলতে পারেন। তার এই বিলাস বহুল দ্বীপ ও অন্ধকার রাজত্ব নিয়ে আমেরিকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি আগ্রহ ছিলো। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে দমিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে গিয়ে ট্রাম্প এপস্টেইন নথি ফাঁস করে দিয়েছেন।

এপস্টেইন খুব ভালো গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বুঝতেন। এই গণিতের মেধা অবৈধ পথে কাজে লাগিয়ে এপস্টেইন মাল্টি বিলিনিওর বনে যান। নিজের উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পাম দ্বীপে এক বিলাসবহুল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ধীরে ধীরে আমেরিকার রাজনীতির এক নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেন এপস্টেইন। গড়ে তুলেন অন্ধকারের এক এপস্টেইন সাম্রাজ্য। আমেরিকার রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে পাম দ্বীপে। মূলত এপস্টেইনের কাছে আমেরিকার বিভিন্ন রাজনীতিবীদ , ব্যাবসায়ীদের গোপন আমলনামা ছিলো। গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে এসব ভিডিও ও ছবি তুলে নিয়েছেন এপস্টেইন। নিজের উপার্জিত অর্থ , সাম্রাজ্য ও খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে এপস্টেইন রাতারাতি বনে যান ব্লাকমেইল জগতের এক অঘোষিত সম্রাট।

১৯৭৬ সালে ডাল্টন স্কুলের গণিত শিক্ষক থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর বিশ্ববিখ্যাত ওয়াল স্ট্রিটের বিয়ার স্টার্নসের বিভিন্ন উচ্চ পদে চাকরি করে আশির দশকে নিজের এক বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি খুলে বসেন জেফরি এপস্টেইন। ২০০৫ সালে এক ১৪ বছরের কিশোরীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফ্লোরিডার পাম পুলিশ এপস্টেইন এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালে একটি বিতর্কিত চুক্তি ( Deal of the century) তথা শতাব্দীর সেরা চুক্তির জন্য এপস্টেইনকে ১৩ মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। তার প্রেমিকা গ্রিসলেন ম্যাক্সওয়েল এর ২০ বছরের সাজা হয়েছে।

এপস্টেইন মূলত আলোচনায় আসেন ২০১৯ সালে কারাগারের ভেতরে আত্মহত্যার কথা বলে যখন তাকে হত্যা করা হয়। এপস্টেইন আমেরিকার বিভিন্ন রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন গোপন তথ্য জানাতেন। এই কারণেই সম্ভবত তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এপস্টেইনের পরিবারের নিয়োগ করা ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ড. মাইকেল ব্যাডেন দাবি করেছিলেন যে, এপস্টেইনের ঘাড়ের যে হাড়গুলো (hyoid bone) ভেঙেছিল, তা আত্মহত্যার চেয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার (strangulation) লক্ষণের সাথে বেশি মিলে যায়।

এপস্টেইনের সম্পত্তির মধ্যে ছিল নিউ ম্যাক্সিকোর বিশাল র্যাঞ্চ, নিউইয়র্কের আলিশান ম্যানশন ও ক্যারিবিয়ান সাগরে ৭৫ একরের পেডোফাইল আইল্যান্ড। এই পেডোফাইল আইল্যান্ড ঘিরে গড়ে উঠে তার অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য। এটা ছিল তার একটি অন্ধকার জগৎ। কিন্তু সবাই তার এই অন্ধকার জগতের বিষয়ে জানতো না। এই অন্ধকার জগতের বাইরে তিনি ছিলেন আমেরিকান একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। আমেরিকা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি বিনিয়োগ করতেন। ক্লিনটনের জন্য তিনি তার ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ পাঠিয়েছেন। ইলন মাস্কের সাথে তার বিভিন্ন ইমেইল আদান প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। আমেরিকার একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে তার সাথে অনেকেই ছবি তুলবেন , তথ্য আদান-প্রদান হবে এসব একটি স্বাভাবিক বিষয়।

এপস্টেইনের ফাইলস এর একটি অংশ হচ্ছে লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ। এই দ্বীপ থেকেই এসেছে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য। এই দ্বীপে যাওয়ার জন্য এপস্টেইন হেলিকপ্টার ও নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ছিল। লাইব্রেরী, সিনেমা হল, জিমনেসিয়াম, নীল – সাদা ডোরাকাটা মন্দির সব ছিল সেখানে। কিন্তু এপস্টেইন ফাইলস মানেই শুধু এই পেডোফাইল আইল্যান্ড নয়। আমাদের পঙ্গপাল এই পেডোফাইল আইল্যান্ড নিয়েই পড়ে আছে। এজন্য এপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনার নাম আসতেই এদের ধমনিতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ ধ্বনি উঠতে থাকে।

বাংলাদেশের প্রভাবশালী কারো সাথে সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিলো না এপস্টেইনের। মূলত বাংলাদেশ বিষয়ে এপস্টেইনকে ইমেইল পাঠাতো এক নরওয়েজিয়ান। নরওয়ের কোম্পানি গ্রামীণফোনের সাথে ব্যবসা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের। নরওয়ের ওই ব্যক্তির ইমেইল থেকেই ইউনূস ও শেখ হাসিনার বিষয়ে জেনেছেন এপস্টেইন। এপস্টেইন ফাইলে নাম এসেছে পাকিস্তানের ইমরান খানের। তার মানে এই নয় যে, ইমরান খান এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে উড়ে ক্লিনটনের মতো পেডোফিল আইল্যান্ডে গেছেন। এপস্টেইনের ফাইলে নাম এসেছে বিশ্বখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং-এর। যিনি মাত্র ২২ বছর বয়স থেকেই জটিল মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত। যার উঠা ও বসার পর্যন্ত ক্ষমতা নাই তিনি প্যাডোফিল আইল্যান্ডে গিয়ে কি ডিম পাড়বেন?

এপিস্টেইন পৃথিবী বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্লাকমেইল করার জন্য পুরো দ্বীপে অসংখ্য হিডেন ক্যামেরা দিয়ে বিভিন্ন নগ্ন ভিডিও ও ছবি ধারণ করতেন। স্টিফেন হকিংকে বিপদে ফেলার জন্য তিনি নগ্ন নারীর গল্প রচনা করেছেন। ইমরান খানের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন। শেখ হাসিনার সাথে এপিস্টেইন এর কখনো দেখাই হয়নি। শেখ হাসিনা একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করতেন এপস্টেইন। এই সংক্রান্ত বিষয়ে নরওয়ের সেই লোক এপস্টেইনকে ইমেইল করেছেন। নরেন্দ্র মোদীর একটি ব্যক্তিগত ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। তার মানে এই নয় যে নরেন্দ্র মোদী এপস্টেইনের পোডোফিল আইল্যান্ডে গিয়ে নাচানাচি করেছেন অথবা তার নীল সাদা ডোরাকাটা মন্দিরের আন্ডারগ্রাউন্ড সাউন্ড প্রুফ রুমে বসে নারী নির্যাতন করেছেন। এসব একমাত্র পঙ্গপালের পক্ষেই সম্ভব!

অথচ পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে বেগম খালেদা জিয়ার দূর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও এই পঙ্গপালের দল স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাযা নিয়ে নেচেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট খামেনির পুত্র মুজতবা খামেনির লন্ডনে বিলাসবহুল সম্পদ ও আয়েশী জীবনের কথা পর্যন্ত এই পঙ্গপাল বিশ্বাস করে না। তাই এপস্টেইন ফাইলস, এপস্টেইন নোটবুক, ভিডিও ও ফটো এসব সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই পঙ্গপালের দল লাফায়। এপস্টেইনের সাথে শেখ হাসিনা , ইমরান খান অথবা নরেন্দ্র মোদী কারোই ছবি নেই। এসব হচ্ছে এপিস্টেইন নোটবুক।

জেফরি এপস্টেইন এর সাথে মাইকেল জ্যাকসনের ছবি থাকলেও শেখ হাসিনার ছবি কেন নেই, এই বিষয়ে পঙ্গপালের মন ভীষণ খারাপ। তার ফাঁস হওয়া ত্রিশ লাখ নথিতে শেখ হাসিনার একটা ভিডিও ও ছবি নেই দেখে পঙ্গপাল মানসিক উন্মাদ হয়ে গেছে। কাজ না থাকলে খৈ বাজা স্বভাবের পঙ্গপালের দল তাই এপস্টেইনের টীমের সাথে শেখ হাসিনার যোগাযোগ নিয়ে গালগল্প ছাপছে। এই প্রসঙ্গে এপস্টেইনের সহযোগী লোসলি গ্রাফ বলেন, “কোন এক অজানা বিষয়ে জেফরি এপস্টেইন টীমের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টা কী, তা বলা হয়নি।” এখানে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম আসেনি।

শেখ হাসিনার মতো এমনি গল্পের ফাঁদ পাতা হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং নিয়ে। নরেন্দ্র মোদীর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের সাথে নাচ আলোচনায় এসেছে। একজন মানুষ নাচতেই পারেন। কিন্তু তা যদি হয় নরেন্দ্র মোদী, তবে বাংলাদেশের পঙ্গপাল তখন ইসরায়েলের বিচকেই পেডোফিল আইল্যান্ড ভেবে নেয়। বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও জলবায়ু প্রকল্প সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ ছিল জেফ্রি এপস্টেইনের। পাকিস্তানের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থায় বিনিয়োগ ছিল এপস্টেইনের।

এপস্টেইন ফাইলসে ডক্টর ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংক ও বিকাশ এসব পর্যন্ত উঠে এসেছে। নারী নির্যাতনকারী এপস্টেইনের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আমেরিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। গ্রামীণ ফাউন্ডেশন, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন এরা তো মায়ের পেটের ভাই। এদের মতো করেই নিজের এক কোম্পানি খুলে এপস্টেইন মানুষকে ব্লাকমেইল করতেন। ক্লিনটন এপস্টেইনের বন্ধু, ইউনূস ক্লিনটনের বন্ধু। তার মানে কি ধরে নিবো ইউনূস এপস্টেইনের পোডোফিল আইল্যান্ডে নারী পাচারের সাথে জড়িত?

নিজেকে কখনো প্রশ্ন করেছিলেন – একসময় মাত্র ৩০০ ডলারের চাকরি করা ইউনূস কীভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মালিক হলেন?

সম্প্রতি সারাবিশ্বে আলোচিত হচ্ছে জেফ্রি এপস্টেইন এর ৩০ লাখ নথির “এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সফারেন্সি অ্যাক্ট”। ১৯৭৬ সালে নারী পাচারকারী জেফ্রি এপস্টেইন বিনিয়োগ করেছিলেন আমেরিকার ব্যাংকিং খাতে। ১৯৭৪ সালে আমেরিকার ফুড পলিটিক্সের শিকার বাংলাদেশে ইউনূস তৈরি করেছিলেন গরীবের সম্পদ লুট করার “জোবরা প্রজেক্ট।” জেফ্রি এপস্টেইন তখন চাকরি করা শুরু করেছেন ওয়াল্ড স্ট্রীটের বায়ার্নসের সাথে। অল্প বেতনে ডাল্টন স্কুলে গণিতের চাকরি থেকে বহিস্কারের মাত্র ছয় বছরেই ১৯৮২সালে এপিস্টেইন খুলে বসেন নিজের এক বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি “জে এপেইস্টেন এন্ড কোং”।

১৯৭৪ সালে ‘জোবরা প্রজেক্ট’ শূরু করার মাত্র ৯ বছরের মাথায় এপস্টেইন এর মতো করে ইউনূস প্রতিষ্ঠিত করেন নিজের কোম্পানি “গ্রামীণ ব্যাংক”। ইউনূস ও এপস্টেইন দু’জনেই অর্থনীতি খুব ভালো বুঝেন। তাই এপস্টেইনের মতো ইউনূস তার প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করেছিলেন আমেরিকাকে। এদের দু’জনের এই উন্নতির পেছনে যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তা হচ্ছে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের সাথে তাই ইউনূসের গ্রামীণ ফাউন্ডেশনের এত সখ্যতা।

ইউনূস ২০০৬ সালে যে বছর নোবেল পুরস্কার পেলেন সেই একই বছর খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু নারী ধর্ষক এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিচার্ডসনকে মার্কিন নির্বাচনের জন্য ৫,০০০ মার্কিন ডলার অনুদান দেন।এর ঠিক এক বছর আগেই ২০০৫ সালে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে নিজের ৭৫ একরের পেডোফাইল আইল্যান্ডে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এপেস্টাইনের বিরুদ্ধে।

১৯৯৩ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হয়ে এসেছিলেন ইউনূস ও এপস্টেইনের জন্য আশীর্বাদ। বিল ক্লিনটনের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে এপিস্টেইন পরিণত হন এক মাল্টি বিলোনিয়ার। ২০০২ সালে জনপ্রিয় নিউইয়র্ক টাইমস পর্যন্ত কিনে নিতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন। অপরদিকে ১৯৯৭ সালে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিল ক্লিনটনের প্রভাব কাজে লাগিয়ে নরওয়েজিয়ান কোম্পানির সাথে পার্টনারশিপে ইউনূস বাংলাদেশে নিয়ে আসেন গ্রামীণ ফোন। এর পেছনে অর্থায়ন ছিল দেশে দেশে সরকার পরিবর্তন করা ইহুদি জর্জ সোরসের বিনিয়োগ। সোরসের ওপেন ফাউন্ডেশন এবং ক্লিনটনের ক্লিনটন ফাউন্ডেশন আর ইউনূসের গ্রামীণ ফাউন্ডেশন এক হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। ইউনূস পরিণত হন এক অর্থনৈতিক দানবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও মনিকা লিউনস্কির যৌন কেলেঙ্কারির কথা সারা বিশ্ব জানে। কিন্তু একজন যৌন নীপিড়ক কীভাবে শান্তির নোবেল খ্যাত ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যান এবং ২০২৪ সালে সেই ক্লিনটনের “ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ” সম্মেলনে ইউনূসকে সম্মানিত করা হলে ৫ই আগষ্টের আন্দোলন নিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে ইউনূস নিজ কন্ঠে স্বীকার করেন “The students revolution in Bangladesh was not organic but a meticulously designed agitation which did not came naturally.”

সত্য কখনোই গোপন থাকে না। বাংলাদেশ নিয়ে ইউনূসের এই মেটিকুলাসলি ডিজাইনড জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এক সময় গ্রামীণ ব্যাংকে ক্ষুদ্র বেতনের চাকরি করা ইউনূস এখন গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক। শুধু তাই নয় গ্রামীণ ফোনের ৪৪ শতাংশ শেয়ারের মালিকও হচ্ছেন এই ইউনূস। এর পেছনের বিনিয়োগ ইহুদি জর্জ সোরোস ও বিল ক্লিনটনের পরিবারের এতে কোন সন্দেহই নেই। এই মেটিকুলাস ডিজাইনের আমেরিকার মিলিয়ন ডলারের শেখ হাসিনা পতনের প্রজেক্ট ইউনূস তুলে দিয়েছিলেন ধর্ম ব্যবসায়ী ও জঙ্গী সংগঠন জামায়াত শিবিরের হাতে।

এপস্টেইনকে নিয়ে একসময় নিউইয়র্ক টাইমস বুদ্ধিজীবী হিসেবে প্রতিবেদন ছাপতো। আজ যেমন বাংলাদেশের ভেতর অশান্তির সৃষ্টি করা ইউনূসকে শান্তির নোবেল হিসেবে বাংলাদেশের মিডিয়া প্রশংসায় ভাসায়। কিন্তু রাশিয়ার ভেরা ফরেস্তেনকোকে বিয়ের প্রলোভনে ফেলে ইউনূসের অন্ধকার সমাজ্যের বিষয়ে মিডিয়া যেন একদম চুপ।

১৯৯২ সালে এপস্টেইন আমেরিকার ম্যানহাটনে সবচেয়ে বড় বাড়ি কিনে আলোচনার এসেছিলেন। অন্যদিকে তার ঠিক এক বছর পর ১৯৯৩ সালে ডক্টর ইউনুস আলোচনায় এসেছিলেন ডক্টর কামালের সাথে “আমার দল” নামক রাজনৈতিক দল তৈরি করে। এই দু’জনের ক্ষমতা ও অর্থের উৎস ছিল ১৯৯৩ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া বিল ক্লিনটন। বিল ক্লিনটন ছিলেন এপস্টেইন ও ইউনূসের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইউনূসের ক্ষমতার উৎস সবসময় ছিল আমেরিকা। ইউনূস কখনোই বাংলাদেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করেননি। ইউনূস বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের এক দানব। এর মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের ব্লাকমেইল করতেন। মানি লন্ডারিং করার জন্য, ট্যাক্স হেভেনে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কর ফাঁকি দিতেন। একই মানি লন্ডারিং মামলায় এপস্টেইন অভিযুক্ত হয়েছেন আমেরিকায়।

ভাবেন , প্লিজ ভাবতে থাকুন। অন্তত দেশটা বাঁচান।

Tags :

লুসিড ড্রিম

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025