ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। অথচ তিনজনই পেয়েছিলেন মৃত্যুদণ্ড। বলা যায়, ফাঁসির দড়ি এড়িয়ে সংসদে যাচ্ছেন তারা।
লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হন। পরে একদিনের জন্যও জামিন মেলেনি তার। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সব মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয় তাকে। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ফিরে যান নিজের নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায়। সেখানে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
বাবরের মতোই আরেক বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুকে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয় তাকে। মুক্তি পেয়ে তিনি ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ভোটে বিজয়ী হন তিনি।
এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে জিতেছেন তিনি। অথচ আর কিছুদিন গেলেই হয়তো তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পরই গ্রেপ্তার হন এটিএম আজহারুল ইসলাম। ২০১২ সাল থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের ২৮ মে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।




