জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ায় আপত্তি জানিয়ে প্রথমে পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। তার পথ ধরে দল ছেড়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তাজনূভা নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, দল ছাড়ার ঘোষণা না দিলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। এ ছাড়া নির্বাচনকালে দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। আর জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন।
এই তরুণ নারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা মুখ। জামায়াত নিয়ে তাদের এই অবস্থান জুলাইয়ের তরুণদের নেতৃত্বে গড়া নতুন দল এনসিপির জন্য বড় ধাক্কা।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় বৈঠকে অংশ নেন ছয় নেত্রী। তারা হলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসুম, তাজনূভা জাবীন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও নাহিদা সারোয়ার নিভা। বৈঠকে তারা প্রায় চূড়ান্ত হওয়া জামায়াত-এনসিপি আসন সমঝোতা নিয়ে আপত্তি জানান।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনসিপির শীর্ষ কয়েকজন নেত্রী জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে সরাসরি বিরোধিতা করেন। বৈঠকে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে একযোগে পদত্যাগের হুমকি দেন। তারা বিএনপির সঙ্গে জোট করা অথবা এককভাবে নির্বাচনের জন্য চাপ দেন।
গত শনিবার জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেন এনসিপির ৩০ নেতা। এর মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছেন। চিঠিতে নেতারা তাদের আপত্তির ভিত্তি হিসেবে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সম্পর্কিত ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার কথা তুলে ধরেন। অভিযোগ করা হয়, জামায়াত এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির এনসিপির নারী সদস্যদের বিরুদ্ধে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চরিত্র হননের চেষ্টা করে আসছে। পাশাপাশি চিঠিতে বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রশ্নে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আমাদের দলের মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।’
এনসিপির কয়েকজন নেতা জানান, নারীদের কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে ভবিষ্যতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আরও কঠিন হয়ে যাবে। এরই মধ্যে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের সঙ্গে তাদের আসন সমঝোতার বিষয়টি জানান নাহিদ ইসলাম।
রাজনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নারীদের বিষয়ে জামায়াতের দলগত অবস্থান নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এনসিপির নারী নেত্রীদের বর্তমান অবস্থান জামায়াতকে আবার প্রশ্নের মুখে ফেলল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম আলী রেজা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে এনসিপির গঠন প্রক্রিয়ায় নারী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাদের এভাবে ছেড়ে চলে যাওয়া নবীন দলটির জন্য বড় হোঁচট।
সূত্র: সমকাল




