ইসরাইলের হামলায় মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে লেবাননে ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিশু ঘরবাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তীব্র বিমান হামলা এবং গণউচ্ছেদ নির্দেশনার ফলে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ও বৃহৎ জনসংখ্যা বাস্তুচ্যুতির একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি ২রা মার্চ লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তেহরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরাইলের দিকে হামলা চালানোর পর থেকেই ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।
ইউনিসেফের লেবানন প্রতিনিধি মার্কোলুইজি কোরসি বলেছেন, এই বাস্তুচ্যুতির মাত্রা ভয়াবহ। প্রতিদিন প্রায় ১৯ হাজার শিশু তাদের ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই গত ১৫ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সতর্ক করে বলেছে, লেবানন এখন এক গভীর মানবিক সংকটের মুখোমুখি, যা ধীরে ধীরে ভয়াবহ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, ২রা মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনের একজন নিজের ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বৈরুত থেকে সংযুক্ত হয়ে সংস্থাটির প্রতিনিধি কারোলাইনা লিন্ডহোম বিলিং বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে যে পরিস্থিতি দেখছি, তা সত্যিই একটি গভীর মানবিক সংকট।
তিনি জানান, ১ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ ৬৬০টি সম্মিলিত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এগুলোর বেশিরভাগই স্কুল এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষে ভরে গেছে।
ইউএনএইচসিআর তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য ৬ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা চেয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে প্রয়োজনীয়তা সম্পদের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে।
ইউএন উইমেন জানিয়েছে, অনেক গর্ভবতী নারী সীমিত চিকিৎসা সুবিধাসহ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রেই সন্তান জন্ম দিচ্ছেন।
সংস্থাটির লেবানন প্রতিনিধি জিলান এল মেসিরি বলেন, এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য তৈরি নয়।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ জানায়, লেবানিজ রেড ক্রস ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কম্বল, ম্যাট্রেস, খাবার, রুটি এবং নিরাপদ পানীয় পানি বিতরণ করছে।
আইএফআরসি মুখপাত্র তোম্মাসো দেল্লা লঙ্গা বলেন, ২রা মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এলআরসি দলগুলো ২৭৫৪টি অ্যাম্বুলেন্স মিশন এবং ১১টি নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি আরও জানান, এ সময়ের মধ্যে একজন এলআরসি স্বেচ্ছাসেবক নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার ইসরাইলের সেনাবাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালায়। তারা দাবি করে, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত করছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, দক্ষিণ বৈরুতের তাহুইতেত আল-ঘাদির এলাকায় একটি হামলা হয়েছে। এর আগে একই দিনে কোনো সতর্কতা ছাড়াই আরেকটি হামলায় দুইজন নিহত হন।
এএফপিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠছে। এই এলাকা হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে আগের ইসরাইলি সতর্কতা ও হামলার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে গেছে।



