শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। ইসরায়েল ও মার্কিন কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি অগ্রিম প্রতিরোধমূলক সামরিক হামলা চালিয়েছে।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাগুলো সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে আঘাত হানে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি তখন তেহরানে ছিলেন না। তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তেহরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যে এলাকায় হামলা হয়েছে সেখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। একই এলাকায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দপ্তরও অবস্থিত। এনডিটিভিকে এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, রাজধানীতে কমপক্ষে তিন থেকে চারটি পৃথক হামলার শব্দ তিনি শুনেছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি দূর করার জন্য ইসরায়েল একটি অগ্রিম হামলা চালিয়েছে।
এই হামলা হঠাৎ করে হয়নি। তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বাড়ছিল।
হামলার ঠিক একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না সে বিষয়ে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ‘খুশি নন’ এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগ, এমনকি সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
একই সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছিল, যদিও তাতে তেমন অগ্রগতি হয়নি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। তবে উভয় পক্ষই জানিয়েছিল, পরবর্তী সপ্তাহে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখযোগ্য নৌবাহিনী মোতায়েন পুনর্বিন্যাস করছিল, যার মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত। এর আগে ট্রাম্প তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন এবং সতর্ক করেছিলেন যে চুক্তি না হলে ‘খুব খারাপ পরিণতি’ হতে পারে।




