যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
শনিবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র মুজতবা খালেদি জানিয়েছেন যে ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি প্রদেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নাগরিকদের হামলাস্থলগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো শুরু করে। ইরানের শুধু হরমোজগান প্রদেশেই পৃথক দুটি হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সাথে পরিচিত দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন- এমন জল্পনার মধ্যেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা হয়তো কয়েকজন কমান্ডারকে হারিয়েছি, কিন্তু এটি খুব বড় সমস্যা নয়।’
এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদকের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় তেহরানসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
এর আগে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই দিনে রাজধানী তেহরানের পূর্বদিকে আরেকটি স্কুলেও হামলার ঘটনা ঘটে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, মিনাবের স্কুলটিতে হামলার পর নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে যায়, পরে তা ৫০–এর বেশি বলে নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি স্কুলে হামলায় অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।




