লন্ডন – শনিবার, ২৭শে ডিসেম্বর ২০২৫, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান বর্বরোচিত হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা লন্ডনের বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন। বিশেষ করে, মিথ্যা অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।
প্রতিবাদের মূল বিষয়: দিপু দাস হত্যাকাণ্ড
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ময়মনসিংহে ২৭ বছর বয়সী পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বিক্ষোভকারীরা এই অপরাধের “পাশবিক প্রকৃতি” তুলে ধরেন, যেখানে ধর্ম অবমাননার ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে কয়েকশ মানুষের এক উন্মত্ত জনতা দিপুকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং জনসমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই অভিযোগ মিথ্যা বলে স্বীকার করেছে, তবুও বাংলাদেশে হিন্দুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন:
এই বিক্ষোভে যুক্তরাজ্য প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ এবং মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিক্রম ব্যানার্জী, পুষ্পিতা গুপ্তা, বিশ্বজিৎ বল, সুকান্ত মৈত্র, অমিতোষ মজুমদার, নারায়ণ ভট্টাচার্য, মিহির সরকার, দেবাংশু দাশ মিটু, অভিষেক শেখর জিকু, বিবি রয় চৌধুরী, শুচিস্মিতা, নিশিত সরকার মিঠু, আনভিতা গুপ্তা, ট্যাভিসা রয় চৌধুরী, সহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ। এই নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে চরমপন্থি সহিংসতার মুখে থাকা ২ কোটি ৫০ লক্ষ হিন্দুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব বিবেকের কাছে আকুল আবেদন জানান।

প্রধান দাবিসমূহ
বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন:
১. দিপু দাসের বিচার: দিপু দাসকে গণপিটুনিতে জড়িত সকল অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন মব-ভায়োলেন্স বা গণসহিংসতা আর না ঘটে।
২. চিন্ময় প্রভুর নিঃশর্ত মুক্তি: হিন্দু নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (চিন্ময় প্রভু)-এর ওপর আনীত দেশদ্রোহিতার অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তার অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়।
৩. সংখ্যালঘু সুরক্ষা: গত কয়েক মাসে হিন্দুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে যে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে, তা বন্ধ করতে এবং সকল সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক ব্রিটিশ হিন্দু তরুণদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী এই লড়াইয়ে প্রবাসীদের অঙ্গীকারের এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে। পাপ্পু সাহা সহ এমন অনেক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন যারা নির্যাতনের শিকার হয়ে পরে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। ইউকে হিন্দু ডায়াসপোরা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ সরকার, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছে।
বিক্ষোভের পরিবেশ
হাই কমিশনের সামনের পরিবেশ ছিল শোকাবহ কিন্তু সংকল্পবদ্ধ। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল দিপু দাসের ছবি এবং “হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করো” ও “সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিশ্চিত করো” সংবলিত প্ল্যাকার্ড। সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, যতক্ষণ না বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার হচ্ছে এবং এই “মানবিকতাবিরোধী অপরাধের” বিচার হচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন ও বিশ্বব্যাপী জনমত গঠন অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়াও হিন্দু নির্যাতনের তথ্য চিত্র সহ ডিজিটাল ডিসপ্লের একটি গাড়ি লন্ডন এর বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।




