তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ৯০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো গ্র্যামি পুরস্কার অর্জন করে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন। শান্তি, মানবতা ও আত্মসমালোচনার বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার দীর্ঘ জীবনের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মানকে দেখা হচ্ছে।
তাঁর স্পোকেন-ওয়ার্ড অ্যালবাম Meditations: The Reflections of His Holiness the Dalai Lama ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে Best Audio Book, Narration, and Storytelling Recording বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে।
এই বিভাগে দালাই লামার সঙ্গে মনোনীত ছিলেন ক্যাথি গারভার, ট্রেভর নোয়া, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেতনজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং ফ্যাব মোরভান—যা প্রতিযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তবু স্বচ্ছ, গভীর ও ধ্যানমগ্ন বর্ণনার জন্য দালাই লামার অ্যালবামটি আলাদা করে নজর কেড়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত পুরস্কার অনুষ্ঠানে বিনোদন জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। দালাই লামার হয়ে মঞ্চে পুরস্কার গ্রহণ করেন সঙ্গীতশিল্পী রুফাস ওয়েনরাইট।
শোবিজের বাইরের কেউ গ্র্যামি জিতেছেন কি না—এই প্রশ্ন নতুন নয়। এর আগেও প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর স্মৃতিকথার অডিও সংস্করণের জন্য দু’বার গ্র্যামি পেয়েছেন। একইভাবে মিশেল ওবামাও তাঁর বইয়ের জন্য গ্র্যামি অর্জন করেছেন। এমনকি অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে ২০১২ সালে মরণোত্তর ট্রাস্টিজ গ্র্যামি দেওয়া হয়।
গ্র্যামি পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় দালাই লামা বলেন, “এই স্বীকৃতি আমি কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছি। এটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বের স্বীকৃতি।” তাঁর মতে, শান্তি, করুণা, পরিবেশের যত্ন এবং মানবতার ঐক্য—এই মূল্যবোধই বিশ্বের কল্যাণের মূল চাবিকাঠি। ৯০ বছরেও দালাই লামা প্রমাণ করলেন, তাঁর কণ্ঠস্বর আজও বিশ্বমানবতার জন্য সমান প্রাসঙ্গিক।




