গণভোটের অন্তত পাঁচ আসনের ফলাফল নিয়ে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) দুটি আসনের ফলাফল সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করেছে। তবে বাকি তিনটি আসনের ফলাফলে অসামঞ্জস্য রয়ে গেছে।
ইসি শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ-১ ও রাজশাহী-৪ আসনের গণভোটের ফলাফল পরিবর্তন করে নতুন ফল প্রকাশ করেছে। সংশোধিত ফলাফলে শতকরা হার ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা বেড়েছে এবং কমেছে ‘না’ ভোটের সংখ্যা।
তবে নেত্রকোনা-৩, নেত্রকোনা-৪ ও নেত্রকোনা-৫ আসনের ফলাফল অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যেখানে বড় ধরনের গরমিল দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যে দেখা গেছে, নেত্রকোনা-৩, নেত্রকোনা-৪ এবং নেত্রকোনা-৫ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ওই আসনগুলোর মোট ভোটারের চেয়েও বেশি দেখানো হয়েছে। নেত্রকোনা-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬ জন হলেও ‘হ্যাঁ’-তে ভোট পড়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮টি। অথচ সেখানে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যার স্থলে দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৫৮ ভোট এবং কাস্টিং ভোট দেখানো হয়েছে ৫৬.৬৫৯ শতাংশ। নেত্রকোনা-৪ ও নেত্রকোনা-৫ আসনেও একইভাবে তথ্যের গরমিল রয়েছে।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফলের সঙ্গে ইসির প্রকাশিত তথ্যের পার্থক্য স্পষ্ট।
রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল অনুযায়ী, নেত্রকোনা-৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৭টি। এই আসনে ৪ হাজার ৫৬৬টি ভোট বাতিলসহ সর্বমোট প্রদত্ত (কাস্ট) ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ১ হাজার ৩৫৮টি। এখানে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৯২।
অন্যদিকে নেত্রকোনা-৪ (আসন নং ১৬০) আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট ৮২ হাজার ১২৫টি এবং ‘না’ ভোট ১ লাখ ২ হাজার ১১৩টি। ২৭ হাজার ৯৭২টি বাতিল ভোটসহ সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ২১০টি। এই আসনে মোট বৈধ ভোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৮টি।
এ ছাড়া নেত্রকোনা-৫ (আসন নং ১৬১) আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৬৭১টি এবং ‘না’ ভোট ৪৪ হাজার ২৭৩টি। এই আসনে ২০ হাজার ৭২০টি বাতিল ভোটসহ সর্বমোট কাস্ট হওয়া ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬৪। এখানে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৪।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, ’আমরা সংশোধন আকারে যেটা দিয়েছি সেটা নিয়ে নিউজ করেন, যেটা ভুল ছিল সেটা বাতিল করা হয়েছে। তাড়াহুড়ো করতে যেয়ে ভুল হয়েছে। সংশোধন করে আমরা আবার সঠিকটা দিয়েছি।’
সেখানেও গরমিল দেখা গেছে জানালে তিনি বলেন, ‘আবার সংশোধন হচ্ছে। মানুষ সারারাত জেগেছে। এটা হিউম্যান এরর (মানবীয় ত্রুটি), ক্লারিক্যাল এরর (করণিক ত্রুটি) হয়েছে।’
সূত্র: টিবিএস



