ঈদের আগে বেতন-বোনাস পাননি অনেক কারখানার কর্মী

ঈদের আগে দেশের শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন চলতি মাসের সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশনা ছিল। আর ঈদ বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা ছিল ১২ মার্চের মধ্যে। তবে অনেক কারখানার শ্রমিক এখনও বেতন-বোনাস পাননি বলে জানা গেছে।

শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সংস্থা শিল্প পুলিশের তথ্য বলছে, রবিবার বিকেল পর্যন্ত আটটি শিল্প এলাকার ৩২ দশমিক ৩৪ শতাংশ কারখানার কর্মীরা ফেব্রুয়ারির বেতন পাননি। এ ছাড়া ঈদের বোনাস দেওয়া হয়নি ৬৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কারখানায়।

দেশে শিল্প অধ্যুষিত আটটি এলাকা হলো আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেট। এসব এলাকায় কারখানা রয়েছে ১০ হাজার ১০০টি।

এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ হয়েছে এমন কারখানার সংখ্যা ৬ হাজার ৮৩৪টি। এ হিসাবে বেতন পরিশোধ করা কারখানা ৬৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর বেতন পরিশোধ হয়নি ৩২ দশমিক ৩৪ শতাংশ বা ৩ হাজার ২৬৬টি কারখানায়।

মোট ১০ হাজার ১০০ কারখানার মধ্যে ঈদুল ফিতরের বোনাস দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৬৯২টিতে। আর পরিশোধ হয়নি বা বকেয়া রয়েছে ৬ হাজার ৪০৮ কারখানার। এ হিসাবে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ কারখানায়। পরিশোধ হয়নি ৬৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কারখানায়।

আট এলাকায় তৈরি পোশাকপণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৫৪২। এর মধ্যে বেতন পরিশোধ করেছে ১ হাজার ১৪৯টি, বেতন বকেয়া রয়েছে ৩৯৩ কারখানায়। বিজিএমইএর সদস্য কারখানাগুলোর মধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে ৬৩৫টি। পরিশোধ হয়নি ৯০৭টি কারখানায়।

পোশাকপণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সদস্য ৬২৭টি কারখানা। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির বকেয়া বেতন পরিশোধ হয়েছে ৩০২টিতে আর পরিশোধ হয়নি এমন কারখানার সংখ্যা ৩২৫। বিকেএমই’র সদস্য মোট কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ১৫৮টিতে। পরিশোধ হয়নি এমন কারখানার সংখ্যা ৪৬৯।

তৈরি পোশাকের কাঁচামাল সুতা ও কাপড় উৎপাদনকারী বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ’র সদস্য মোট ৩৩০টির মধ্যে ফেব্রুয়ারির বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছে ১৭২টি প্রতিষ্ঠান। বেতন বকেয়া পরিশোধ করেনি ১৫৮ কারখানা। বিটিএমএর সদস্য মোট কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ১০৮টিতে আর ২২২টিতে পরিশোধ হয়নি।

বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাধীন ৪২৯ কারখানার মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ হয়েছে ৪১৯টিতে এবং পরিশোধ হয়নি ১০টিতে। বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৩৪১টি কারখানায় আর পরিশোধ হয়নি ৮৮টিতে।

আটটি এলাকায় মোট ৭৬টি পাটকলের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছে ৭২টি কারখানা। পরিশোধ হয়নি ৪টিতে। বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৪৬টিতে। পরিশোধ হয়নি ৩০ কারখানায়।

আট এলাকায় কোনো সংগঠনের আওতাধীন নয় এমন ৭ হাজার ৯৬ কারখানার মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ হয়েছে ৪ হাজার ৭২০টিতে। পরিশোধ হয়নি এমন কারখানার সংখ্যা গতকাল বিকাল পর্যন্ত ছিল ২ হাজার ৩৭৬। বোনাস পরিশোধ হয়েছে ২ হাজার ৪০৪ কারখানায়। পরিশোধ হয়নি ৪ হাজার ৬৯২টিতে।

গত ১৩ মার্চ শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে আরএমজি ও নন-আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস অবশ্যই ঈদের ছুটির আগে পরিশোধ করতে হবে। কোনো অবস্থায়ই যেন শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকাভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংসদ সদস্যদের কাছে দেয়া হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যেসব শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের অহেতুক উত্তেজিত করে শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

পাশাপাশি পলাতক মালিকদের এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব কারখানায় যেন কোনো ধরনের গণ্ডগোল বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।’

এর আগে ৩ মার্চ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৪তম সভা এবং আরএমজি-বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (আরএমজি টিসিসি) ২৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ-সম্পর্কিত আলোচনা এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলকারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও ছুটি মঞ্জুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সূত্র: বণিক বার্তা

Tags :

News Desk

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025