ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী মো. ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ি কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমামতি করতেন এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় ১২ দিন পলাতক অবস্থায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি ‘সুফফা’ নামের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও শুরু করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পূর্ববর্তী তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, ঘটনার দিন কারখানার গেটে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতের সম্পৃক্ততা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার ডিএমপির সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘এ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং নয়জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ১৮ জন আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’’
নিহত দিপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার দিন ১৮ ডিসেম্বর রাতে দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় তিনি কারখানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। কারখানার সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হলে তাকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কারখানা থেকে বের হলে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।




