ঢাকায় স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

ঢাকার রায়েরবাজার এলাকায় শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি নামে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে এলাকার একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের ধারণা, প্রেমঘটিত কারণে এক তরুণ তাকে হত্যা করেছেন। ওই তরুণকে খুঁজছে পুলিশ।

বিন্তি রায়েরবাজার হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। হাজারীবাগে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত।

বিন্তির বাবা ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন জানান, রাতে বিন্তি তার ছোট ভাই নাবিলকে নিয়ে বাইরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর হইচই শুনে বাসার নিচে নেমে তারা দেখেন কে বা কারা তার মেয়েকে কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে। দ্রুত তাকে শিকদার মেডিকেলে নেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়।

রায়েরবাজারে হায়দার হোটেলের গলিতে পাঁচতলা একটি ভবনের পঞ্চম তলায় তাদের বাসা। দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে বিন্তি ছিল বড়। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের সখীপুর উপজেলার কাছিকাটায়।

বিন্তির মা নাদিয়া সাংবাদিকদের বলেন, রাতে বিন্তি ও তার ভাই নাবিল নিচে নামে। সবজি কিনে বোনকে বাসার নিচে এগিয়ে দিয়ে নাবিল মসজিদে চলে যায়। এরপর হইচই শুনে নিচে নেমে দেখি বিন্তিকে ঘিরে অনেকে দাঁড়িয়ে আছে।

সিয়াম নামে এক তরুণ বিন্তিকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন নাদিয়া। তিনি বলেন, তিন-চার বছর আগে থেকে সিয়াম মোবাইলে বিরক্ত করত বিন্তিকে। একদিন আমি সিয়ামকে মোবাইল ফোনে বকাবকি করি। আজ আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, বিন্তির কাঁধে ও পিঠে একাধিক জখম রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ছুরিকাঘাত করে এই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। জড়িত তরুণকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নির্মাণাধীন ভবনে মিলল শিশুর লাশ

ঢাকার হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে ৬ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিপীড়নের পর শিশুটিকে হত্যা করে নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় লাশ ফেলে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে পুলিশ গড়িমসি করে। এর প্রতিবাদে বুধবার রাত ৯টার দিকে এলাকাবাসী হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা নেয় পুলিশ।

শিশুটির নাম তাহেদী আক্তার তাসনিন। তার বাবা মো. লিটন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে নির্মাণাধীন বাড়ির দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

মো. লিটন টেইলার্সে কাজ করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও এলাকায়। মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।

লিটন বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাইরে খেলতে যাওয়ার পর তাসনিন আর ফিরে আসেনি। খোঁজাখুঁজির পর বাসার সামনে নির্মাণাধীন একটি তিনতলা ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গার পানিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মুখে বিস্কুটের গুঁড়া দেখা গেছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রামের বাড়ি তিতাস উপজেলায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা।

হাতিরঝিল থানার ওসি গোলাম মর্তুজা বলেন, শিশুটির শরীরের কোথাও জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tags :

News Desk

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025