আগামী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে পারেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- এমন একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিল্লির জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সংবাদ সম্মেলনের পর আগামী শুক্রবার দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়াতে আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবীরা সংবাদ সম্মেলন করতে চলেছেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে অনেকেই অনলাইনে যোগ দেবেন। আর অফলাইনে সশরীরে থাকবেন অন্তত তিনজন।
ভারতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের একাংশের মতে, তারা আভাস পাচ্ছেন— ওই সংবাদ সম্মেলনে ‘শেষ মুহূর্তের চমক’ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও যোগ দিতে পারেন। তবে সেটা সম্ভবত অনলাইনেই হবে। কারণ এখনই তার পক্ষে সশরীরে প্রকাশ্যে আসা বা অফলাইনে আসা মুশকিল বলে জানা গেছে।
এফসিসি’র বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে— ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী ওই ‘কথোপকথনে’ এফসিসি মিলনায়তনে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী), বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএ’র সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এ সিদ্দিক এবং অভিনেত্রী ও সংস্কৃতিকর্মী রোকেয়া প্রাচী।
এতে আরও জানানো হয়েছে, অনলাইনে আলোচনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক, সাবেক এমপি মোহাম্মদ হাবিবে মিল্লাত এবং শিক্ষাবিদ ড. এস এম মাসুম বিল্লাহ।
শেখ হাসিনা শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এফসিসি’র বর্তমান প্রেসিডেন্ট, সিরিয়ার সাংবাদিক ও বহু বছর ধরে দিল্লিতে বসবাসকারী ড. ওয়াইয়েল আওয়াদ বলেন, আমার সেরকম কিছু জানা নেই। সাংবাদিক বৈঠকে যারা থাকবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে, শুধু তাদের কথাই আমরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছি।
উল্লিখিত আলোচকদের বাইরে কেউ আসবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা তো সংগঠকদের ব্যাপার। তাদের ব্যানারে কারা আসবেন বা কারা আসবেন না, সেটা তারাই বলতে পারবেন।
এফসিসি’র একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এই অনুষ্ঠানে অনলাইনে বা অফলাইনে উপস্থিত থাকলেও এটি ওই রাজনৈতিক দলের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বরং এটি করা হচ্ছে ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে। ফলে এটি আওয়ামী লীগের কোনো সাংবাদিক সম্মেলন নয়।
সবচেয়ে বড় কথা, শেখ হাসিনার ‘হোস্ট’ যারা, সেই ভারত সরকার এখনও তার প্রকাশ্য সাংবাদিক সম্মেলনে অফলাইনে হাজির হওয়ার ব্যাপারে সায় দিয়েছে বলে কোনো খবর নেই। ফলে ২৩ জানুয়ারি তাকে দিল্লিতে এফসিসি’র ‘কথোপকথনে’ দেখা যাবে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন




