যৌথবাহিনীর হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক করা হয়েছিল জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে। আটকের কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা গেছেন।

পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ডাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় লোকজন মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের সামনে জড়ো হন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সড়কে তারা আগুন জ্বালিয়ে শামসুজ্জামানের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মঙ্গলবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ শামসুজ্জামানের লাশের সুরতহাল করেছে।

ডাবলুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার দাবি করা হলেও, পুলিশ বলছে এখনও মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

সকালে ডাবলুর লাশ দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ সময় তারা উপস্থিত নেতাকর্মীদের বলেন, নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, অভিযানের নামে সেনাবাহিনী বেছে বেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারের নামে নির্যাতন করার পরও যখন অস্ত্রশস্ত্র পায় না, লাঠিসোঁটা, এটা–ওটা দিয়ে চালান দেয়। সেই নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি যে সহ্য করতে না পেরে শামসুজ্জামান ডাবলু মারা গেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত থাকতে বলেন। তিনি বলেন, এটা যদি হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান তাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসি থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Tags :

News Desk

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025