চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মিরসরাইয়ে একটি হিন্দুপাড়ায় একের পর এক আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত ১ নভেম্বর থেকে ৫০ দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২টি ঘরে আগুন লাগানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘরের ভেতরে মানুষ থাকা অবস্থায় বাইরের দরজায় তালা দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় গত এক সপ্তাহে মন্দির, বসতঘর ও খড়ের গাদাসহ সাত স্থানে আগুন দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মৃদুল নামে একজনের বসতঘরের একাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। এতে এলাকায় ভয়ানক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লোকজন রাত জেগে এলাকায় পাহারা দিচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হয়তো কেউ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সে জন্য হয়তো এমনটি করা হচ্ছে।
দেখা গেছে, মাতৃমন্দিরে বার্ষিক মহোৎসব উপলক্ষে লোকজন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকলেও তাদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ।
মন্দির কমিটির সভাপতি বাবুল ধর জানান, গত ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তপন ধরের বাড়িতে ব্যক্তিগত মন্দিরের পাশে রাখা শুকনো পাতার বস্তায় প্রথম আগুন লাগানো হয়। এতে মন্দিরের ভেতরের সোলার ব্যাটারিসহ জিনিসপত্র পুড়ে যায়। ২৪ জানুয়ারি ভোরে অমিও ধরের (প্রয়াত) বাড়িতে খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ২৫ জানুয়ারি সকালে কানু নাথের খড়ের গাদায় ও সন্ধ্যায় অমিও ধরের আরেকটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। একই দিন রতন ধরের রান্নাঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। গত ২৬ জানুয়ারি অশোক ধরের বাড়িতে শুকনো পাতার বস্তায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ২৭ জানুয়ারি অনুপ ধরের বসতঘরের পাশে প্লাস্টিক ব্যবহার করে আগুন লাগানোর চেষ্টা চালানো হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মৃদুলের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় বসতঘরের আলনা, কাপড়সহ ঘরের একাংশ পুড়ে যায়।
মৃদুলের স্ত্রী তমালিকা সাহা জানান, দুপুরের দিকে তিনি ঘরে একা ছিলেন। তাঁর শাশুড়ি ও স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। হঠাৎ করে ঘরের বারান্দার সামনে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে আগুন নেভান। ওই সময় ঘরে বিদ্যুৎ ছিল না।
এলাকার বাসিন্দা রাম ধর জানান, দু-একটি ঘটনার পর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু আগুন দেওয়ার ঘটনা থামছে না।
পাড়ার বাসিন্দাদের অনেকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হয়তো কেউ আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সে জন্য হয়তো এমনটি করা হচ্ছে। তারা খুব শঙ্কায় রয়েছেন। পাড়ার বাসিন্দা বিপাশ চৌধুরী জানান, সবগুলো ঘটনা সকাল থেকে সন্ধ্যায় মধ্যে ঘটেছে। দিনে মানুষ কাজে ব্যস্ত থাকায় সুযোগ নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। তারা গ্রামে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াছমিন জানান, জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ার ঘটনাগুলো শুনে তিনি সেখানে গিয়েছেন। পাড়ার মানুষের সঙ্গে কথা বলে কারা এসবে জড়িত তা জানার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি তদন্ত করছেন। তবে কেউ লিখিতভাবে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার জানান, হিন্দুপাড়ার ঘটনাগুলো শুনে তিনি থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন।.
সূত্র: সমকাল



