চট্টগ্রামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে খালে ও ডাস্টবিনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে নগরীর অক্সিজেন মোড়ের লোহারপুল শীতলঝর্ণা খাল থেকে ওই যুবকের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম মো. আনিস (৩৮)। তিনি রাউজান উপজেলার চিকদাইর গ্রামের কবির আহম্মদের বাড়ির হায়দার আলীর ছেলে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, এক নারীর সঙ্গে আনিসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। চিকিৎসার জন্য স্বজনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় তিন লাখ টাকা ওই নারীর কাছে জমা রেখেছিলেন তিনি। সেই টাকা চাইতে গেলে মনোমালিন্য শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ গুম করতে টুকরো টুকরো করা হয়।
তবে ওই নারী পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, আনিস তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারী, তার দুই ভাই এবং ভাতিজাকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার পশ্চিম শহীদনগরের রংধনু গলি এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন দুটি হাত উদ্ধার করে পুলিশ। হাতের আঙুলের ছাপ যাচাই করে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে ছবিসহ আনিসের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়। ঠিকানা অনুযায়ী আনিসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নারীর তথ্য পায় পুলিশ। ওই নারী এবং তার স্বজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা একপর্যায়ে আনিসকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে বায়েজিদের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনিসের শরীরের টুকরো উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে নগরের শীতল ঝর্ণা খাল থেকে তার মাথার অংশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
তারা জানান, অভিযুক্ত নারী তাদের প্রতিবেশী একজনের স্ত্রী। তাদের একাধিক সন্তানও রয়েছে। বছরখানেকের মধ্যে আনিসের সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারী স্বামীকে ছেড়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদ নগরে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে যাতায়াত ছিল আনিসের।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই হারেস মোহাম্মদ কুসুম বলেন, আনিসের শরীরের প্রায় সব অংশ পেয়েছি। বিস্তারিত অভিযান শেষে জানানো হবে।




