চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর তার লাশ বেড়িবাঁধে ফেলে রেখে যায় হত্যাকারীরা।
বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া তালতল বেড়িবাঁধে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম শামীম। তিনি সীতাকুণ্ড পৌর আওয়ামী লীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি পৌরসভার দক্ষিণ শিবপুর এলাকায়।
শামীমের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক কারণে নয় বরং পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পর দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেলেও তাদের পরিচয় জানাতে অপারগতা জানায় পুলিশ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই পলাতক ছিলেন শামীম। ব্যবসা হারিয়ে আর্থিক কষ্টে দিন পার করছিলেন তিনি।
তারা জানান, বুধবার রাতে শামীমের স্ত্রী নিজের স্বর্ণ বন্ধক দিয়ে কিছু টাকা জোগাড় করেন। সেই টাকা নিতে শামীমকে শ্বশুরবাড়িতে ডাকা হয়। শামীম টাকা আনতে গেলে হামলাকারীরা শামীমকে দেখে ফেলে। পরে তাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে বেড়িবাঁধে কুপিয়ে হত্যা করে। গুরুতর অবস্থায় শামীমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শামীমের ভাই মো. সেলিম জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে ইরান নামের এক স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক হয় শামীমের। এই হত্যার পেছনে ইরানের হাত থাকতে পারে। এ ছাড়া জাফর নামের আরও এক ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিলেন।
তবে ইরান ও জাফর কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য কি না তা জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পর দুই সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাদের নাম পরিচয় জানাতে অপারগতা জানান সীতাকুণ্ড থানার ওসি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম বলেন, এটি রাজনৈতিক হত্যা নয়। পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত শামীম হত্যায় কোনো মামলা রুজু হয়নি।
শামীমের লাশ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেলের মর্গে রয়েছে এবং এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি।




