‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ‘ছাত্রলীগের সদস্য’ ট্যাগ দিয়ে কয়েক দফা মারধর এবং তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ভোরে সেহরির সময় এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

মারধরের পর তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। বর্তমানে তিনি পুলিশি তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরার। এর মধ্যে সর্দার নাদিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন। পরে তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সঙ্গে যুক্ত হন।

মারধরের শিকার রাহিদ খান পাভেল জানান, তিনি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহরি খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে ছাত্রশক্তির হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন, আবরারও ছিলেন। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন তাকে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা তাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাভেলের ভাষ্য অনুযায়ী, মারধরের সময় মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে তার মুখে আঘাত করা হয়। বেল্ট দিয়েও তাকে পেটানো হয়। দুই পায়ের ওপর দাঁড় করিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে মাটিতে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাথি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, তার দোষ থাকলে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বলা হলেও তার কথা শোনা হয়নি। বুয়েট থেকে তাকে মারধর করে পলাশীতে নেওয়া হয়। সেখানে আবারও মারধর করা হয়। এরপর তাকে বাইকে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এনে কয়েকজন কিল-ঘুষি মারেন। পরে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাকে শাহবাগ থানায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেলের চাবি এবং মানিব্যাগ নিয়ে গেছে অভিযুক্তরা।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুয়েট ক্যান্টিনে সেহরি খাওয়ার সময় ছাত্রলীগ পুনর্বাসন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ইন্ধনে ইফতার পার্টি এবং ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার নিয়ে পাভেলের সঙ্গে তর্কে জড়ান কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরপর তাকে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েক দফা মারধর করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার পর ফেসবুকে একটি পোস্টে মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ লেখেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

পরে গণমাধ্যমকে সাইফুল্লাহ বলেন, বুয়েটে সেহরি খেতে গিয়ে পাভেলকে দেখে হাসিব ডাক দেন। এ সময় ছাত্রলীগ পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয় এবং তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি বলেন, তখন তিনি বুয়েট ক্যান্টিনেই ছিলেন। পরে শাহবাগ থানায় গিয়ে দেখেন তাকে মারধর করা হয়েছে। ছাত্রলীগ ইস্যু থাকায় তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও জানান।

সাইফুল্লাহ আরও দাবি করেন, পাভেল জিয়া হলে থাকতেন এবং গত জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। এ কারণে তাকে বিভাগ ও হল থেকে বয়কট করা হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি ক্যাম্পাসে এসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং পোস্টারিং করেছেন বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।

তবে পাভেল ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন কি না তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি অভিযোগকারীরা।

শাহবাগ থানার তদন্ত পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, সেহরির সময় ছাত্রশক্তির কয়েকজন তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি সুস্থ হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি জানার পর শাহবাগ থানাকে ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

Tags :

News Desk

Most Discussed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More on this topic

    People’s Agenda

Copyrights are reserved by NE News © 2025