২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিদেশে পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিসেম্বরের তুলনায় এ সংখ্যা ২১ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।
ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি)-এর কান্ট্রি ক্লিয়ারেন্স (দেশ-ভিত্তিক ছাড়পত্র)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৯ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এ সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৯৪ হাজার ১৮৯ জনে। এক মাসে প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা কমেছে ২৫ হাজার ২০০ জন বা প্রায় ২১ দশমিক ১ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বছর শেষে ক্লিয়ারেন্স ও জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির কারণে ডিসেম্বরে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল। জানুয়ারির সংখ্যা তুলনামূলক স্বাভাবিক প্রবণতাই তুলে ধরেছে। কোভিড-১৯ মহামারির আগে গড়ে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার কর্মী বিদেশে যেতেন। সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়ে মাসে প্রায় ১ লাখে পৌঁছেছে।
ডিসেম্বর-জানুয়ারি, উভয় মাসেই বিদেশগামী কর্মীদের প্রধান গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। তবে সেখানে যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিসেম্বরে সৌদি আরবে গেছেন ৮৩ হাজার ৮৭৬ জন কর্মী, যা জানুয়ারিতে নেমে আসে ৬৪ হাজার ৫৬৭ জনে। শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে এখনো স্বল্পদক্ষ কর্মীরাই বেশি যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বাইরা) সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, এখনো বেতন কাঠামো ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যেই রয়ে গেছে। অধিকাংশ বাংলাদেশি ক্লিনার, নির্মাণশ্রমিক ও গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। আমাদের কর্মীদের আয় বাড়াতে গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে সরকার এখনো বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণে যেতে পারেনি।
এদিকে অন্যান্য প্রধান গন্তব্য দেশেও বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে। ডিসেম্বরে ৭ হাজার ১৬১ জন কর্মী গিয়েছিলেন কাতারে, জানুয়ারিতে তা নেমে এসেছে ৫ হাজার ৯০৪ জনে। সিঙ্গাপুরে কর্মী যাওয়া কমে ৫ হাজার ৮৫৬ থেকে ৫ হাজার ২৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মালদ্বীপে কর্মী সংখ্যা ৪ হাজার ৩২০ থেকে কমে হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯৩৪ জন। একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে কুয়েত, কম্বোডিয়া, জর্ডান, এবং ইরাকের ক্ষেত্রেও।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। জানুয়ারিতে সেখানে গেছেন ১ হাজার ৪৪১ জন কর্মী, যেখানে ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২ জন।
জানুয়ারিতে শীর্ষ দশ গন্তব্যের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে পর্তুগাল। ওই মাসে দেশটিতে ৭৩২ জন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে শামীম চৌধুরী বলেন, ইউরোপীয় গন্তব্যগুলোর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে দক্ষ কর্মী তৈরি করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্ত অবস্থানেই রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে এসেছে ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা মাসভিত্তিক হিসাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারির ২১৮ কোটি মার্কিন ডলারের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।
মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে ২০২৫ সালের মার্চে—৩২৯ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগে সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে—৩২২ কোটি মার্কিন ডলার।
ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অনানুষ্ঠানিক অর্থ পাঠানোর পথ ছেড়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের দিকে ঝোঁকার কারণেই রেমিট্যান্স বাড়ছে।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড




